Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ১৮, ২০২৩

গাজা হাসপাতালে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত।জ্বালানির অভাবে ২৪ রোগীর মৃত্যু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গাজা হাসপাতালে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত।জ্বালানির অভাবে ২৪ রোগীর মৃত্যু

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চলছে, ইসরায়েল বলেছে যে তারা দক্ষিণ গাজা সহ যেখানে অসামরিক ব্যক্তিরা আশ্রয় নিচ্ছে, সেখানেই  হামাসের অস্তিত্ব রয়েছে, তাই যেখানে হামাসের অস্তিত্ব অনুমান করা যাচ্ছে সেখানেই তারা আক্রমণ করবে। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল স্থল আক্রমণ শুরু করে, যা বর্তমানে মানবিক সোম রীতিনীতি ভেঙে হাসপাতাল আক্রমণের রূপ নিয়েছে।

হামাসকে ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েলি সৈন্যরা গাজায় বিরাট অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে আল শিফা হাসপাতাল তারা সর্বশেষ আক্রমণ চালিয়ে ওই হাসপাতালটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, গাজার বৃহত্তম হাসপাতালটিতে অক্সিজেন, জ্বালানি এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে যার ফলে তিন নবজাতক এবং ২৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

গাজার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেছেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামগুলি কাজ করা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ৪৮ ঘণ্টায় বিভিন্ন বিভাগে ২৪ জন রোগী মারা গেছেন।”

ইসরায়েলি সৈন্যরা এই নিয়ে তৃতীয় দিন হাসপাতালে তল্লাশি চালায়, তারা দাবি করে যে হামাস কমান্ড সেন্টার হিসেবে হাসপাতাল ব্যবহার করছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ হামাসের সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে, তাদের  দাবি, হাসপাতালের মধ্যে এই সুড়ঙ্গ পাওয়া গেছে। আইডিএফ আল শিফায় বন্দিদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে।

মিশর থেকে প্রথম জ্বালানি গাজায় প্রবেশ করে যখন ইসরায়েল সীমিত সরবরাহের অনুমতি দেয়, এই অনুমতির কারণ জ্বালানির অভাবে  ব্ল্যাকআউটের অবসানের জন্য মার্কিন অনুরোধ ছিল ইসরায়েলের কাছে। এখন সেই জ্বালানি সরবরাহের অনুমতি ইসরায়েল ফের দু’দিনের জন্য বন্ধ করে রেখেছে।

উত্তর গাজায় এই ভয়াবহ হামলার পর ইসরায়েল একটি নতুন সতর্কতা জারি করে বলেছে যাতে দক্ষিণে সাধারণ নাগরিকরা চলে যান এবং আক্রমণের অভিঘাতের  থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একজন সহযোগী মার্ক রেগেভ বলেন, “আমরা মানুষদের স্থানান্তর করতে বলছি। আমি জানি তাদের অনেকের পক্ষে এই কাজটা করে ওঠা এটা সহজ নয়, কিন্তু আমরা ক্রসফায়ারে সাধারণ মানুষদের দেখতে চাই না।”

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, হামাস যেখানেই থাকবে সেখানেই ইসরায়েলি সেনারা অগ্রসর হবে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অভিযানকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হামাসের অবস্থান যেখানেই থাকবে, সেখানেই এই আক্রমণের ঘটনা ঘটবে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ গাজার এই অংশ।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস তাণ্ডব চালানোর পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস গোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ১২০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ২৪০ জনকে বন্দি করে  ছিটমহলে আটকে রাখা হয়েছে।

৭ অক্টোবর হামাস আক্রমণের পর থেকে ইসরায়েল গাজা শহরের বেশিরভাগ অংশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, ছিটমহলের উত্তর দিকের পুরো অর্ধেক জনবসতির দখল নিয়েছে এবং গাজা স্ট্রিপের ২.৩ মিলিয়ন ফিলিস্তিনি মানুষদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে গৃহহীন করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!