Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ১৪, ২০২৫

রাজ্যে ৩৬ কেন্দ্রের ৩০ শতাংশ ভোটার নিখোঁজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যে ৩৬ কেন্দ্রের ৩০ শতাংশ ভোটার নিখোঁজ

রাজ্যের ৩৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ভোটারদের অধিকাংশই শহরের বস্তি এবং ভাড়াটিয়া এলাকার বাসিন্দা। নির্বাচনী আধিকারিকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রে ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম বিলি করতে গিয়ে বিএলওরা তিনবার করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়েও তাদের খুঁজে পাননি। এর ফলে ভোটার তালিকা তৈরি এবং পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষত, এসব ‘নিখোঁজ’ ভোটারের মধ্যে কেউ তো ‘ভূতুড়ে ভোটার’ নয় তো, এমন প্রশ্নও উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল রাজ্যের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, এসব শহরকেন্দ্রিক বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা তৈরি প্রক্রিয়া কেন ততটা সফল হয়নি, তা খতিয়ে দেখা। তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটারের কাছে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা হলেও ৩৬টি কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ভোটারদের নিখোঁজ হওয়ার মূল কারণ তিনটি। প্রথমত, শহরের বস্তি এলাকায় বহু পরিবার এক স্থান থেকে অন্যত্র চলে গিয়েছে। এর মধ্যে অনেক জায়গায় বস্তি উচ্ছেদ হয়ে সেখানে বহুতল নির্মাণ হচ্ছে বা ইতিমধ্যে হয়েছে। ফলে পুরনো বাসিন্দাদের নতুন ঠিকানা বিএলওদের কাছে পৌঁছায়নি। দ্বিতীয়ত, শহরের অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ভাড়ায় থাকতেন। তারা এখন অন্যত্র চলে গেছেন, কিন্তু নতুন ঠিকানা জানাতে পারেনি বাড়ির মালিক বা অন্য বাসিন্দারা। আর তৃতীয়ত, বিভিন্ন জেলা যেমন আলিপুরদুয়ার, খড়্গপুর, উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা এবং পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের রেল কলোনিতে অনেক মানুষ আগে চাকরির কারণে সেখানে থাকতেন, কিন্তু এখন বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। ফলে তাঁদের বর্তমান ঠিকানা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আলিপুরদুয়ার জেলার অনেক ভোটার অসমে চলে গিয়েছেন, যার কারণে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

প্রক্রিয়ার শেষে, যেসব ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা সম্ভব হয়নি, তাদের তথ্য পরবর্তী ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় সংশোধন করা হবে। কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা জমা পড়ার পর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হলে, বাদ পড়া বা ভুলক্রমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ভোটাররা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে ‘এসআইআর’ ফর্ম পূরণ করে সংশোধন আবেদন করতে পারবেন। কমিশন শহরকেন্দ্রিক এসব বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মনোযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

এখনো প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এসব ভোটারের মধ্যে আদৌ কোনো ‘ভূতুড়ে ভোটার’ লুকিয়ে রয়েছে কিনা। ওয়াকিবহালদের মতে, যদিও কোনো সরকারি বা আধিকারিক তথ্য এখনো সে সম্ভাবনা নিশ্চিত করেনি, তবুও ‘ভূতুড়ে ভোটার’-এর সম্ভাবনা থাকে এমন কিছু এলাকা যেমন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটারদের খোঁজ না পাওয়া বা অন্য ঠিকানায় স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া উচিত। কমিশন ওই সব এলাকায় এনুমারেশন ফর্ম বিলির হার ৭৫ শতাংশের নিচে থাকায়, পুনরায় কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, এ পনিয়ে আরো তদন্ত করা হবে এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকার মধ্যে কোনো ভুল বা সমস্যা না ঘটে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!