Advertisement
  • খাস-কলম প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ৬, ২০২৩

বাবরি ধ্বংসের ৩১। সঙ্ঘ শতবর্ষে, রাম আবেগ উসকে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে মোদি

শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত
বাবরি ধ্বংসের ৩১। সঙ্ঘ শতবর্ষে, রাম আবেগ উসকে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে মোদি

আজ ৬ ডিসেম্বর। আজ থেকে ৩১ বছর আগে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, এই দিনই ধ্বংস হয়েছিল অযোধ্যার বাবরি মসজিদ। দেশের ইতিহাসে দিনটিকে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ পরিবার গৌরবের দিন হিসেবে চিহ্নিত করলেও অবিজেপি ও সংঘ বিরোধীদের কাছে এই দিনটি “কালা দিন”। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা নিয়ে বিতর্ক, গন্ডগোল যা-ই বলা হোক না কেন, এর সূত্রপাত কিন্তু নয়ের দশকে আরম্ভ হয়নি। বিবাদের সূত্রপাত তার বহু আগে থেকেই। সিপাই বিদ্রোহের চারবছর আগে বাবরি মসজিদ নিয়ে প্রথম বিবাদের কথা উল্লেখিত রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। সেই নিয়ে বিবাদ করা যেতেই পারে। তবে সারা দেশে বাবরি ধ্বংসের পর থেকে সংঘ পরিবার তথা বিজেপি তাদের বিজয় পতাকা আরও বড় করে উড্ডীন করতে পেরেছে।

আগামী ২২ জানুয়ারী সেই বাবরি মসজিদের জায়গায় উদ্বোধন হতে চলেছে রাম মন্দির। বিজেপি ও তাদের পরিচালক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকে বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়েছে। ১৯৯২ থেকে দেশের বিজেপি বিরোধী সরকারের সঙ্গে যুঝেছে। শেষে ২০১৪ সালে দেশের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তারপর জিতেছে বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির মামলায়। শীর্ষ আদালতের রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী রাম মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন অযোধ্যায়।

বিরোধী দলের বিজেপি বিরোধিতা প্রশ্নাতীত নয়। তারা এখন নিজেরাই দ্বিধাবিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪-এর ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন করে সরকার গঠনের হ্যাটট্রিকের গড়তে বদ্ধ পরিকর মোদি

তারপর বহু কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি রাম  মন্দির এখন উদ্বোধনের জন্য দিন গুনছে। সারা দেশে সংঘ পরিবারের “এক দেশ, এক পতাকা, এক আইন” কার্যত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে বিজেপি। বিরোধীরা হিন্দু ধর্মের ভিত্তিতে বিজেপির এই রাজনীতিকে কোনও ভাবেই প্রতিহত করতে পারেনি। নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রের সরকারে এসে হিন্দুত্বের সঙ্গে কর্পোরেট সংস্কৃতির মেল্ বন্ধন করে দেশের মানুষের মনের মধ্যে একদিকে হিন্দুত্বের বীজ বপনের পাশাপাশি আধুনিক ভারতের স্বপ্নকেও প্রবেশ করিয়ে দিতে পেরেছেন। এক দেশে, এক আইন, এক পতাকা ভারতের মতো বৈচিত্রের দেশে জারি করা কঠিন কাজ হলেও বিজেপি অবলীলায় সেই কাজ করে চলেছে। এর পিছনে দেশের মূল বিরোধী দল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল যেমন রয়েছে, তেমন রয়েছে রাহুল গান্ধির ভারত ধারণা প্রচারের দায়িত্ব নিয়েও সঠিক ভাবে ভারতীয়দের, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া মানুষদের মন বুঝতে না পারা। এছাড়া দেশের আর যে সব বিজেপি বিরোধী দল রয়েছে তার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীতিশ কুমার সহ বহু বিরোধী নেতাই এক সময় বিজেপির সঙ্গে ঘর করেছেন। এছাড়া যে সব বিজেপি বিরোধী দল রয়েছে তাদের বিজেপি বিরোধিতা প্রশ্নাতীত নয়। আর এই বিজেপি বিরোধীরাই “ইন্ডিয়া” জোট করে বিজেপির বিরুদ্ধে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে লড়ার শপথ নিয়েছে। তবে তারা এখন নিজেরাই দ্বিধাবিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪-এর ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন রাম মন্দির। তার সাতদিন আগে থেকে  পরবর্তী দেড় মাস উত্তরপ্রদেশ জুড়ে চলবে উত্তরপ্রদেশকে “রামময়” করে তোলার কাজ।

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে রাম মন্দিরে ধ্বজা উড়িয়েই বিজেপি অবলীলায় “ইন্ডিয়া” জোটকে পরাজিত করে তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধ পরিকর। ১৯২৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল নাগপুরে। আগামী ২০২৪ সালে শতবর্ষে পা রাখছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। বিজেপি আরএসএস-এর শতবর্ষে সংঘ পরিবারকে তৃতীয় বিজেপি সরকার ও রাম মন্দির উপহার দিতে চলেছেন স্বয়ং সেবক ও দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!