- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- নভেম্বর ৬, ২০২৫
৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনায় মঞ্চে চাঁদের হাট। ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরস্কারে সম্মানিত শত্রুঘ্ন সিনহা ও আরতি মুখোপাধ্যায়
আলো-ছায়ায় মুগ্ধ শহর। দেখতে দেখতে ৩১-এ পা দিল কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সেই প্রিয় ‘কিফ’-এর মঞ্চে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় ফের বাজল সিনেমার রঙিন ঘণ্টা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ধনধান্য স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল এ বছরের চলচ্চিত্র উৎসব। শুরুতেই ভেসে এল সুর— ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’। এরপরেই মঞ্চে নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর দলের প্রাণবন্ত পরিবেশনা যেন জানিয়ে দিল, এ উৎসব শুধু সিনেমার নয়, নাগরিক সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও জুন মালিয়ার সঞ্চালনায় একে একে মঞ্চে উঠে এলেন টলিউড-বলিউডের পরিচিত মুখেরা। ‘শোলে’-খ্যাত পরিচালক রমেশ সিপ্পি, অভিনেতা-রাজনীতিক শত্রুঘ্ন সিনহা, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সঙ্গীতশিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম, পরিচালক গৌতম ঘোষ, লিলি চক্রবর্তী, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কোয়েল মল্লিক, রাজ চক্রবর্তী, দেব, পাওলি দাম— সিনেমা জগতের সেরারা। মঞ্চে উঠে রমেশ সিপ্পির কাঁধে উত্তরীয় পরিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। হাতে তুলে দিলেন ফুলের বোকে ও মা দুর্গার মূর্তি। পাশে দাঁড়িয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, তাকেও সম্মান জানিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিচালক সুজয় ঘোষকে সম্মাননা জানালেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এরপরই ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হলো অভিনেতা-রাজনীতিক শত্রুঘ্ন সিনহা ও সঙ্গীতশিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়কে। যা উৎসবের আবহকে আরো মুখর আর সম্মানিত করে তুলল কয়েক মুহূর্তে। তবে এবারের মঞ্চে দেখা গেল না বলিউডের খানদের। না শাহরুখ, না সলমন, অনুপস্থিত অমিতাভ ও জয়া বচ্চনও। গত বছরের অতিথি জাভেদ আখতার ও শাবানা আজমি, তবু কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবের জৌলুসে কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, সিনেমাপ্রেমীদের ভিড়, আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতি— সব মিলিয়ে শহর যেন পরিণত হয়েছে এক জীবন্ত চলচ্চিত্র নগরীতে।
এবছর উৎসবের রঙিন পরিসরেই লুকিয়ে আছে আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া। নানা দেশ থেকে এসেছেন চলচ্চিত্রকার, অভিনেতা, সমালোচক ও অতিথিরা। চিন, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান সহ মোট ৩৯ টি দেশের প্রতিনিধিরা হাজির রয়েছেন এ বারের উৎসবে। ১৮টি ভারতীয় ভাষা এবং ৩০টি বিদেশি ভাষায় তৈরি ২১৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে সপ্তাহজুড়ে। এর মধ্যে ১৮৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ৩০ টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি। ভারতীয় ভাষার সংখ্যা ১৮, বিদেশি ভাষা ৩০। বাংলা ছাড়াও থাকছে কোঙ্কনি, তুলু, বোরো, সাঁওতালি প্রভৃতি আঞ্চলিক ভাষার সিনেমা। প্রথম দিনই দর্শকদের সামনে উঠে আসে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত কালজয়ী ছবি ‘সপ্তপদী’। একাধারে শ্রদ্ধা, অন্যাধারে ঐতিহ্যের পুনর্পাঠ— যেন কলকাতার সিনেমাপ্রেমী মানুষের সঙ্গে এক অমলিন সেতুবন্ধন। এ বছর ‘কেআইআইএফ’-এর বিশেষ ফোকাস কান্ট্রি পোল্যান্ড। সে দেশের নবীন চলচ্চিত্রকারদের নতুন ভাবনার সিনেমা প্রদর্শিত হবে বিশেষ বিভাগে। পাশাপাশি, ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর ৫টি ক্লাসিক ছবি— ‘অযান্ত্রিক’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘কোমল গান্ধার’ ও ‘তিতাস একটি নদীর নাম’— প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। আর বলিউডের অমর ক্লাসিক ‘শোলে’-এর পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ‘সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল লেকচার’, যেখানে বক্তা থাকবেন রমেশ সিপ্পি নিজেই।
‘চলচ্চিত্র মেলায় বিশ্ব’— এ বছরের উৎসবের ট্যাগলাইন যেন সত্যিই রূপ পেয়েছে ধনধান্য স্টেডিয়ামের আলোকসজ্জিত পরিসরে। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, সমালোচক ও শিল্পীরা মিলে যেন এক মহামিলনের ছবি এঁকেছেন। কলকাতার নন্দন, রবীন্দ্র সদন, শিশির মঞ্চ, নজরুল তীর্থ, বিনোদিনী থিয়েটার, রাধা স্টুডিওসহ শহরের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে চলবে এই রঙিন উৎসব, ৭ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। উৎসব সূচনার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের মঞ্চ থেকেই ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন নতুন ‘বিবেকানন্দ যুবভারতী হকি স্টেডিয়াম’-এরও, যা প্রায় ২২ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম।
❤ Support Us






