- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৩, ২০২৫
মায়ানমারে তীব্র হচ্ছে সংঘর্ষ, বর্ডার পেরিয়ে মিজোরামে বাড়ছে অনুপ্রবেশ। চাম্ফাইয়ে ৪৭ বাস্তুচ্যুতদের প্রবেশ ঘিরে নতুন আশঙ্কা
মায়ানমারে চিন রাজ্যে ফের যুদ্ধের আগুন ছড়াতেই সীমান্ত ঘেঁষা মিজোরামের চাম্ফাই জেলায় নতুন করে আশ্রয়ের খোঁজে ঢুকলেন ৪৭ জন। ফালাম টাউনশিপের ১১টি পরিবারের এই শরণার্থীরা ভয়াবহ সংঘর্ষের মুখে কয়েক দিন ধরে দলে দলে বাংলাদেশ-সন্নিকট সীমান্তের সাইখুমফাই হামলেট হয়ে পৌঁছেছেন ভাপাই গ্রামে। স্থানীয় গ্রামপ্রধানরা বলছেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে লোকজন ঢুকতে শুরু করেন। সোমবার গভীর রাতেও নতুন দল এসেছে।’
প্রথমে স্কুল ভবনে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও পরিস্থিতি বুঝে সোমবারই তাঁদের সরিয়ে আনা হয়েছে ভাপাইয়ের কমিউনিটি হলে।
মায়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা সরকারের ঘোষিত ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমান্তপারের চলাচল বাড়ছে। শরণার্থীরা জানিয়েছে, ফালাম শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স-এর মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হওয়ায় তারা পালাতে বাধ্য হয়েছেন। শরণার্থীদের মতে, আকাশপথে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দিয়ে হামলার পরেই গ্রামে ঢুকে পড়ে টাটমাডো বাহিনী। স্থলবাহিনী গ্রামে ঢুকে লুটপাট করে, বহু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গ্রাম নেতাদের আশঙ্কা, টেডিম, হাখা এবং ফালামসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় আগামীতে আরো মানুষের প্রবেশ ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সাগাইং ডিভিশন, বিশেষত কালাইম্যো থেকে বিশাল বাহিনী এনে চিন রাজ্যে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে জান্তা সেনা। ডিসেম্বরের ২৮ তারিখে নির্ধারিত নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মরিয়া সামরিক সরকার। তার জেরেই বিভিন্ন টাউনশিপ— টেডিম, হাখা ও ফালাম জুড়ে তীব্র লড়াইয়ের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। ফলে ওই সব এলাকার বহু বাসিন্দাই ঘরছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন। পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকতে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হবে, এ আশঙ্কা অমূলক নয়। মায়ানমারপারে যুদ্ধের আঁচ যত বাড়ছে, ততই ঘনাচ্ছে উদ্বাস্তু সংকট। পরিস্থিতির কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে সীমান্তের দুই পারে আতঙ্কে জড়োসড়ো সাধারণ মানুষ।
❤ Support Us






