- দে । শ
- অক্টোবর ২৭, ২০২৫
ডঙ্কি’ রুটের বিপর্যয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাতকড়া পরে দেশে ফিরলেন হরিয়ানার ৫০ যুবক
হরিয়ানার অন্তত ৫০ জন যুবক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন। হাতকড়া পরা অবস্থায়। দেশ ও পরিবার তাদেরকে স্বাগত জানালেও ভাঙা স্বপ্ন, বিপুল আর্থিক ক্ষতি ও দালালের প্রতারণার কাহিনী শোনালেন তাঁরা। কর্ণাল, কৈথাল ও জিন্দের বিভিন্ন এলাকার যুবকেরা অবৈধভাবে ‘ডঙ্কি’ রুটে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কৈথালের ১৪ জন যুবকের মধ্যে একজন নরেশ কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আমার কৃষিজমি বিক্রি করে ৫৭ লাখ টাকা দালালের হাতে দিলাম যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য। পানামার জঙ্গল পার হয়ে, নানা সীমান্তে টাকা দিতে দিতে আমাকে ১৪ মাস জেলে থাকতে হলো। শেষপর্যন্ত আমাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দালাল উধাও।’
নরেশ আরো জানান, ‘প্রথমে সে ৪২ লাখ টাকা নেয়, তারপর গুয়াতেমালায় ৬ লাখ, মেক্সিকো পৌঁছালে আরও ৬ লাখ, আর বাকি টাকা সীমান্ত পার হওয়ার সময়। কিন্তু আমাকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার বদলে গ্রেফতার করানো হলো।’ তিনি দালালের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং অন্যদের এই রুটে না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন। হরিয়ানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্নাল থেকে ১৬ জন, কৈথাল থেকে ১৪ জন, কুরুক্ষেত্র থেকে ৫ জন, জিন্দ থেকে ৩ জন এবং আম্বালা ও পানিপতসহ আশেপাশের এলাকা থেকে আরো কিছু যুবক ফেরত এসেছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা অর্ধশতাধিক। কর্ণাল পুলিশের ডিএসপি সন্দীপ কুমার বলেছেন, ‘যুবকদের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সিএম স্কোয়াডের মাধ্যমে এনে পুলিশ লাইনে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ কৈথাল এসপি উপাসনা বলেন, ‘সব ফেরত আসা যুবককে পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। সমস্ত রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে। এক জনের অপরাধমূলক অতীত পাওয়া গেছে।’
জিন্দের এসপি কুলদীপ সিং সতর্ক করেন, ‘ডঙ্কি রুটে বিদেশ যাত্রা শুধু একটি গুরুতর অপরাধ নয়, এটি আমাদের সমাজের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। এই ধরনের অবৈধ যাত্রায় আর্থিক ক্ষতি, শারীরিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘কেউ বিদেশ যেতে চাইলে কেবল বৈধ ও স্বীকৃত পথই ব্যবহার করুন। পুলিশ এ ধরনের কার্যকলাপের ওপর সজাগ নজর রাখছে। যুবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ঘটনা দেশের যুবকদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা। স্বপ্নের দেশ পৌঁছানোর জন্য কোটি টাকার বিনিয়োগ, জেলের কষ্ট, দালালের প্রতারণা এবং শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাছে ফিরে আসা— সব মিলিয়ে ‘ডঙ্কি’ রুটের কাহিনী অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, বিদেশের স্বপ্ন যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, বৈধ ও নিরাপদ পথেই জীবন গড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
❤ Support Us






