- দে । শ
- এপ্রিল ২, ২০২৫
গুজরাটের বানসকান্থায় বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! নিহত ৭ শিশু সহ অন্তত ২১
মঙ্গলবার গুজরাটের বানসকান্থায় সকাল ৯ টায় একটি বাজি কারখানার গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন লেগে যায় সেখানে, আটকা পড়েন কারখানার শ্রমিকেরা। ঘটনায় নিহত কমপক্ষে ২১, আহত বহু। পুলিশ কারখানার মালিক খুবচাঁদ রেনুমাল মহনানি ও তাঁর ছেলে দীপক খুবচাঁদ মহনানির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।
মঙ্গলবার গুজরাটের বানসকান্থায় সকালে একটি বাজি কারখানার গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন লেগে যায় সেখানে, আটকা পড়েন কারখানার শ্রমিকেরা। আগুন লাগার পরেই দিসা পুরসভার পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে ৫টি দমকল পাঠানো হয়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ওই ঘটনায় নিহত কমপক্ষে ২১ জন, আহত বহু। নিহতদের মধ্যে ৭ জন শিশু। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই গুদামে অবৈধভাবে বাজি মজুদ রাখা হতো। এখান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হতো। পুলিশ জানিয়েছে, কোনোভাবে আগুনের ফুলকি থেকে দীপক ট্রেডার্স নামে ওই গুদামটির ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। কারখানার মালিক খুবচাঁদ রেনুমাল মহনানি ও তাঁর ছেলে দীপক খুবচাঁদ মহনানির মামলা রুজু করেছে পুলিশ। দুজন অভিযুক্তকে ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যে স্থানীয় অপরাধ শাখা গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। তবে এ পর্যন্ত অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়নি, বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনার পর, ১ এপ্রিল রাত ৮:১৫টায় দেওসা রুরাল পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন ভিপুলকুমার কিরিতকুমার বারোট নামে এক ব্যক্তি। এফআইআর- এ উল্লেখ করা হয়েছে,অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১০৫, অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা, ১১০, খুনের চেষ্টা, ১২৫(এ),অন্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা ৩২৬(জি), আগুন বা বিস্ফোরক পদার্থ দ্বারা দুর্ব্যবহার আর ৪৫, প্ররোচনা -সহ একাধিক অভিযোগ রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও, তারা বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ ও বিস্ফোরক পদার্থ আইন ১৯০৮ এর অধীনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁদের দের গুদামে যথাযত অগ্নি নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি রাখেননি। অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক বাজি মজুদ করেছেন । তাঁরা জানতেন, যে কোনো সময় বহু মানুষ হতাহত হতে পারে। তা সত্ত্বেও কর্মীদের জন্যও কোনোরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি।
এই ঘটনায়, কেন্দ্রীয় সরকার মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে। গুজরাট সরকার নিহতদের পরিবারগুলিকে ৪ লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। আহতদের জন্য কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার ৫০,০০০ টাকা করে সহায়তা ঘোষণা করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯ জন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে মৃত ২ জনের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা চলছে। আহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা , দেওসা, পলানপুর ও আহমেদাবাদের হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক অজ্ঞাত ব্যক্তির দেহাংশ ধ্বংসস্তূপে পাওয়া গেছে। বানাসকন্থা জেলেয়ার এসপি অক্ষয়রাজ মাকওয়ানা জানিয়েছেন, ‘আমরা ১৯ জন মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছি, ছয়জনকে উদ্ধার করেছি। তবে আমরা আরো দেহাংশ পেয়েছি। তাঁদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে।’ দেবসা, পালানপুর হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং এসডিআরএফ কর্মীরা গত ১১ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায়, গভীর শোক প্রকাশ করে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এক্স-হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘বাসানকান্থায় বাজি গুদামে আগুনের ফলে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমি এই দুঃখের সময় শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছি যাতে উদ্ধারকার্য, সহায়তা আর চিকিৎসা কার্যক্রম সঠিকভাবে চালানো যায়।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি যেন আহতরা দ্রুত চিকিৎসা পায়। রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ আর আহতদের ৫০,০০০ টাকা সহায়তা দেবে। আমি প্রার্থনা করি ঈশ্বর প্রয়াত শ্রমিকদের আত্মাকে শান্তি দিন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন।’ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘গুজরাটের বানাসকন্থায় বাজির গুদামে বিস্ফোরণে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। যারা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন সেই পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সহায়তা করছে। প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফান্ড থেকে ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে। আহতদের ৫০,০০০ টাকা দেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, আগের দাবিগুলি অস্বীকার করে, পুলিশ সুপার অক্ষয় মাকওয়ানা নিশ্চিত করেছেন, ওই গুদামটি শুধুমাত্র বাজি মজুদ ও বিক্রির জন্য ব্যবহৃত হত। এখানে বাজি প্রস্তুত করবার কোনো ইউনিট ছিল না। গত ১২ মার্চ, পুলিশ গুদাম পরিদর্শন করেছিল। গুদামের মালিক তাঁদের মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন করতে পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন। গুদামের মালিক পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি। একজন ইন্সপেক্টর ও একজন ডিএসপি নিয়ে গঠিত পুলিশ টিম ওই জায়গা খতিয়ে দেখেছিল। তার ভিডিও ও ছবি আমাদের কাছে রয়েছে। তবে এসডিএম-এর কাছে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়া রিপোর্টে উল্লেখ ছিল যে, ওই গুদামে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, আমরা এই ঘটনার বিরদ্ধে যথাযথ মামলা রুজু করব, কঠোর ব্যবস্থা নেব। ইতিমধ্যে ৫ টি পুলিশ দলকে তদন্তের জন্য রাজস্থান, আহমেদাবাদ এবং সবরকণ্ঠে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করবে।’ এছাড়াও ডি.জি.পি. বিকাশ সাহয়ের নির্দেশে, পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন ডিএসপি-র মানের কর্মকর্তা ও ৩ জন ইন্সপেক্টর ও একজন সাব-ইন্সপেক্টর। এই সিটের-এর নেতৃত্ব দেবেন ডিএসপি সি এল সোলাঙ্কি। তবে গুজরাটের বড়দা সার্কেলের প্রধান বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রক পি সীনি রাজ বলেছেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাজি মজুদ করার জন্য কোন লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।’
❤ Support Us






