Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২১, ২০২৫

ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে কোবরা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৮ মাও সমর্থক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে কোবরা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৮ মাও সমর্থক

ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার লুগু পাহাড়ে কেন্দ্রীয় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৮ মাও সদস্য। ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর সোমবার ভোর ৪ টে নাগাদ ওই এলাকা ঘিরে ধরে অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কোবরা কম্যান্ডো আর রাজ্য পুলিশের যৌথ কর্মীরা। নিহত মাওবাদীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গত বছর থেকে লাগাতার মাওবাদী দমন অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ বাহিনী। একেরপর এক অভিযানে মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে নিহত হয়েছেন বহু সদস্য। ক্রমশ শক্তিক্ষয় হয়ে কার্যত ব্যকফুটে তাঁরা। ছত্তিশগড়ের পর এবার ঝাড়খণ্ডে কোবরা কম্যান্ডো আর রাজ্যপুলিশ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। সাফল্যও এসেছে। বোকারো জেলার লুগু পাহাড়ে কেন্দ্রীয় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন ৯ মাওবাদী সদস্য। ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর সোমবার ভোর ৪ টে নাগাদ ওই এলাকা ঘিরে ধরে অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কোবরা কম্যান্ডো আর রাজ্য পুলিশের যৌথ কর্মীরা। তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। নিহত মাওবাদীদের দেহ ছাড়াও, ঘটনাস্থল থেকে এ কে-৪৭, রাইফেল, এসএলআর, পিস্তল-সহ বিপুল পরিমাণে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বোকারো জেলা পুলিশের তরফে এ অভিযান নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, রবিবার মাঝ রাতে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় লালপানিয়া থানা এলাকায় লুগু পাহাড়ের জঙ্গলে মাওবাদীদের সশস্ত্র একটি দল ঘাঁটি বেঁধেছে। স্থানীয় আদিবাসীরা মাওবাদীদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করে। তাঁরা জানায়, মাওপন্থী সশস্ত্র যোদ্ধারা সোসো টোলায় জড়ো হয়েছে। ওই জায়গা লুগু পাহাড়ের তলায় চোরগাঁও ও লালমাটিয়া লাগোয়া। ভোর ৪টের দিকে অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে মাওবাদীরা, পাল্টা গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিআরপিএফ-এর বিশেষ দলের সদস্য কোবরা কমান্ডো ও পুলিশ কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ দু-পক্ষের মধ্যে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের ডিজিপি অনুরাগ গুপ্তা জানিয়েছেন, ‘বোকারো অভিযানে নিহত জন মাওবাদীর মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা বিবেক, যার মাথার উপর ১ কোটি টাকা পুরস্কার ধার্য ছিল।’

গুলির লড়াইয়ে ভয় পেয়ে জঙ্গলে নিত্যদিনের কাজে যাওয়া স্থানীয় মানুষেরা গ্রামে ফিরে আসেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হয়েছে। গোমিয়া-লালপানিয়া প্রধান সড়কে মালবাহি ট্রাক-সহ সব ধরণের গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গত ১২ এপ্রিল ঝাড়খণ্ডের চাইবাসায় একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বিস্ফোরণে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর এক জওয়ান শহিদ হন। আহত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর একজন জওয়ান। এর আগে, ঝাড়খণ্ডের সারাইকেলা এলাকায় মাওবাদী বিরোধী অভিযানে আরো ২ জন সিআরপিএফ জওয়ান আইইডি বিস্ফোরণে আহত হন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক বার দাবি করেছেন, বিগত কয়েক বছরে মাওবাদী দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদী শূন্য হবে দেশ। আন্তঃরাজ্যে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে একের পর এক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। গত বছর, মাওবাদীরা সংঘাতপূর্ণ বস্তার অঞ্চলে জোড় ধাক্কা খেয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষে ২১৯ জন মারা যান। যা ছত্তিশগড়ে তাঁদের সংগঠনের উপর সবচেয়ে বড় ক্ষতি বলে মনে করেছিল নিরাপত্তাবাহিনীর প্রমূখেরা। এছাড়াও, ৯৯২ জন চরমপন্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ৮৩৭ জন আত্মসমর্পণ করেছিল। এদিকে, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই আজ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। নর্থ ব্লকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ছত্তিশগড়ের মাওবাদী বিরোধী অভিযান ও সে সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। এই বছর বিষ্ণু দেও সাই-এর রাজ্যে একাধিক সংঘর্ষে ১৪০ জনেরও বেশি মাওবাদী নিহত হয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!