- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৫, ২০২৩
জন-সমীক্ষায় ইঙ্গিত, হিন্দুত্ববাদের দক্ষিণী ল্যাবে পদ্ম নাও ফুটতে পারে । বিজেপির ইস্তাহারে প্রকট বিভাজনের রাজনীতি
ভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রীত্বের স্বপ্ন নিয়ে হাতের দৌড় শুরু। প্রয়োজনে ময়দানে নেমে পড়বে অর্জুনের খড়্গ।
বিশেষ বিশ্লেষণে আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক :
কর্ণাটককে হিন্দুত্ববাদের দক্ষিণী পরীক্ষাগার বলে শনাক্ত করেছে গেরুয়া শিবির। গো-বলয়ে যেমন তারা উত্তর প্রদেশকে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ঠিকানা বানিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের ভোট প্রচারে ‘হিন্দুত্ব’-কে জাগিয়ে তুলতে চাইছেন। এটাই বিজেপি-র ক্ষমতায় ফিরে আসার নির্বাচনী কৌশল মনে করছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা।
বিজেপি আমলে মেরুকরণমুখী যে সব ঘটনা ঘটেছে, তা তাদের ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনাকে কতটা নিশ্চিত করবে, বা করতে পারে, এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রাক-ভোটের একাধিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ফিরছে না, ফিরতে পারে কংগ্রেস জোট। তবে কংগ্রেসকেও চিন্তিত করছে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সিদ্দারামাইয়া না দলের দক্ষিণী সংগঠক শিবকুমার । দুজনই রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসকের আসনে বসার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছুটছেন। তাঁদের ক্ষমতার লড়াই যদি প্রকট হয়ে ওঠে, তাহলে অনুন্নত সম্প্রদায়ের একচ্ছত্র নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের নাম বিবেচনা করতে পারে কংগ্রেসের হাইকম্যাণ্ড। সবই নির্ভর করছে ভোটে দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ওপর।
বিজেপি যতই হিন্দুত্ব আর ধর্মীয় মেরুকরণের হাওয়া চাঙ্গা করার করুক না কেন, দলের ক্ষমতামুখী প্রকট অন্তর্দ্বন্দ্ব আর অনগ্রসর সমাজের বিমুখ মানসিকতা তাদের নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষ, বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীর সঙ্কট বোধ গেরুয়া শিবিরকে তাড়া করছে । মুসলিম ও খ্রিষ্টানরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, লিঙ্গায়েত জনগোষ্ঠীও ও অসন্তুষ্ট। এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতি হিন্দুত্ববাদীদের দক্ষিণী ল্যাবে কম্পন তুলেছে। হ্যাঁ, ধর্মীয় রাষ্ট্রের সংকল্প সর্বগ্রাহ্য হলে বিজেপিই ক্ষমতায় ফিরবে।
দক্ষিণের সবচেয়ে উন্নত এবং জাতিসত্তার ওপর ভিত্তিশীল কর্ণাটকে রাজনৈতিক হিন্দুত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ-এর পূর্বগামী বিএস ইয়েদুরাপ্পা ২০২১ সাল থেকে সাম্প্রদায়িক প্লট তৈরি করতে শুরু করেন। এতে বিশেষ সুবিধা হয়নি। ইয়েদুরাপ্পাকে সরে দাঁড়াতে হয়। বাধ্য হয়ে বিজেপি আয়ারামের-গয়ারামের খেলায় মেতে ওঠে। অভিযোগ, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিরোধী বিধায়কদের বশে নিয়ে আসে। ক্ষমতা ছাড়তে হয় কংগ্রেস জোটকে। সে জোট আবার খানিকটা এক হয়েছে। ঐক্যের ছবি খানিকটা স্পষ্ট নয়। তবু, হাওয়ার ওপর ভর করে বিভিন্ন সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, ১০ মে- র ভোটে বিজেপি বিপর্যস্ত হতে পারে, ফিরতে পারে কংগ্রেস জোট। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আশাবাদী, তেমনি গেরুয়া শিবির হিন্দুত্ববাদের ঢেউ তুলতে মরিয়া।
সোমবার বিজেপি যে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে, তাতে বিভাজনের রাজনীতির স্বর বড়ো চওড়া , বিভিন্ন অনুন্নত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের চেয়ে হিন্দুত্ব বহু বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এরকম একমাত্রিকতা বিজেপির সঙ্কট ডেকে আনতে পারে। কারণ দেশের ‘বিবিধের মাঝখানে মিলনে’র মহানকে স্তরে স্তরে অনুভব করে ভারতাত্মা। আত্মায় যে ফাটল ধরায়, তাকে আমল দেয় নাএখানকার বহুত্ববাদী রাজনীতি।
❤ Support Us






