Advertisement
  • ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
  • মে ১৮, ২০২৫

গুচ্ছ কবিতা

বাহার উদ্দিন
গুচ্ছ কবিতা

চিত্রকর্ম : শাহাদ

 
বিকশিত হেম

 
আমাদের অসমাপ্ত পরিচয়– প্রত্যাশিত নয়
হঠাৎ উদিত হলে শেকড়ের মূলে, এরকমও না।
 
তোমার ললাটে দেখি আমার প্রত্যয়
ভ্রুকুটি তে আবিষ্কার করি
নির্মেদ আকাশ, দেখে যাই–
দিগন্ত বিস্তৃত চোখে গদ্য ও পদ্যের লীলা
উদ্দীপিত, বহুমাত্রিক।
 
পঞ্চাশে বা উত্তোরিয়া ষাট-এ, আরো ঊর্ধ্বে,
মুখরিত যুগলের যাদু বাস্তবতা
 
বাহুলগ্নে তরঙ্গ সবুজ
সমুদ্রের মেধাবী উচ্ছ্বাস আমাকেও ডাকে,
মুছে দেয় অনাবৃত সাদা কিংবা লাল।
 
নাভি- কুন্ডে গুঞ্জরিত প্রেম,
খাদে খাদে অপার বিষ্ময়, এত আলো, এত অন্ধকার
মহামান্য প্রদীপের – শুভ্রতার চর্চিত প্রতীক
 
শরীর সর্বস্ব নও
যুদ্ধের শরিকও নও
শরীরি অর্ধেক, বিলম্বিত প্রেমিককে সমর্পণ করে
যাপিত অভ্যাস থেকে সরে যাও দুরে, আরো দূরে…
 
আঁকাবাঁকা চিত্রতলে বে-আব্রু নও
হে আমার অনন্ত যৌবনের এবং ধৃতির বিকশিত হেম।

♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦

 
প্রীতিভাজনেসু

 
এবং বাড়াও মুখ আমাদের চারপাশ জুড়ে
 
ওই পারে কে? এইসব
নিরর্থক প্রশ্ন নিয়ে
জেগে থাকে
ভুবন পাহাড়।
 
উত্তর ও দক্ষিণ থেকে
ভেসে আসে আগুনের
রক্তপ্রবণতা।
খসখসে হাওয়া, ভারি হয় যুদ্ধের আওয়াজ
আমার বুকের ছিদ্র এফোঁড় ওফোঁড়, বিঁধে রয় গোলাপের কাঁটা।
এরকম কথা ছিল নাকি
তমোজিৎ প্রীতিভাজনেসু !

 


চিত্রকর্ম : তৌফিক আব্দুল আল


 আমাদের স্বচ্ছ জলাশয়

 
দক্ষিণ ও পশ্চিম মুক্ত
পুঞ্জমেঘে বর্বরের অমিত উল্লাস।
 
দুর্ধষ রাবণ বৈদিক হামলা রুখে বোধিসত্ত্ব জাগাবে আবার,
আমাদের চারদিকে প-ড়ে থাকা লাশ, আমাদের গৃহবন্দি দেহ,
আমাদের বিবেক প্রসূত দৃষ্টি, আর এই
প্রকান্ড বিষ্ময় এক হয়ে, একাকার রূপ নিয়ে
দজ্জালের চিতা ভস্ম ম্লান করে দিক।
 
ওগো প্রেম, আমার নিঃশব্দ প্রেম নিরুচ্ছার বাণী নিয়ে এসো
তোমার ধকল, অফিস ফেরত ক্লান্তি,
এলোমেলো লেখার টেবিল, এবং ছোকরা কিছু প্রতিবেদকের হাসির গমক– আমাকেও অপরাধী করে।
প্রতিদিন বুকের ওপর ঝুলিয়ে বসিয়ে রাখে, ছোরা ও চাবুক –
যা ইচ্ছে ভাবুক ওরা, আমি শুধু তোমারই বৈশাখ,
আবৃত স্বপ্নের মতো শাশ্বত অক্ষর।

♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦

 

মুর্খ কালকেতু

 
ধেয়ে আসে ধেই ধেই
কবন্ধ বা মুর্খ কালকেতু
সে তোমার রাষ্ট্রীয় গোলাম
সম্ভবত ক্লাস এইট পাশ।
 
তোমার কৃপায় সে এখন দুর্বিনীত ছায়া
 
বিপ্রতীপ আমাদের
কালান্তিক প্রেম
আমাদের প্রেম
আমাদেরই প্রেম
দ্রোহ নয়, পরকীয়া নয়
গঙ্গোত্রীর স্বচ্ছ জলাশয়।
 
তোমাকে বধিবে যে, আমার ঔরসে তার জীবাণুরা
মাতৃভাষা খোঁজে
প্রতিদিন জন্ম নেয় শৌর্যের উনিশ
প্রতিদিন আমিও জন্মাই।

 


চিত্রকর্ম : লাল্লা শোওয়া


উদয়ন পাহড়ের দিকে

 
যা খুশি বলার– বাইরে বা ‌ঘরে,
কোলাহলহীন উপায়ান্তরে
 
ক্রমাগত নিঃশ্বাস ছড়িয়ে দিয়ে
নাগিনীরা গিলে খায় শিমুলের অগ্রজ বিশ্বাস
 
আমরা এখন চর-অনুচর
কপাল চাপড়ে বলি–
মহারাজ, প্রজানুরঞ্জন !
কপালে যা ঘটে
সকলই তোমার ইচ্ছে, বিধিবদ্ধ খেলা ।
 
লাল পিঁপড়ের বস্তি নিকেশ,
নদীতে চোখের হুমকি
গমকে গমক
ঝনক ঝনক
আকাশে ফুলকি, অশান্ত কামিন।
 
নিষিদ্ধ, ডানার সব অভিলাষ
মরছে পাখিরা মরুক, মরুক,
তীর্থে উড়ছে ঝড়, উড়ুক উড়ুক
তোমার কুরসি তবিয়তে থাক,
কাক হয়ে যাক গণ-চিৎকার
কোলাহল নয় একদম নয়,
কেবলই শান্তি ওম
 
আমার আবৃত প্রেম মানেনা সবক,
পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই, বাহুতে একশো বাহু
চিবুকে চুম্বক আর দ্রোহী চাঁদ ঠোঁটে
আমি তার নিবেদিত সেতু
দু-পায়ে রেখেছি হাত,
সাত-পাঁচ ভেবেছি অনেক,
হেঁটে হেঁটে চলে যাই উদয়ন পাহড়ের দিকে…
 
অযুত প্রেমের গর্ভে নৃত্যরত প্রেম নিয়ে
ছান্দশিক ঈশানির গর্ভধাতু
আমাকে ইশারা করে, নির্দেশ পাঠায়–
রন্ধনশালায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হোক !

♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦

 
শুদ্ধতার স্বর

 
কুসুমিত চরণের আলো,
আমার সঙ্গি হোক, মৃত্যুর পরেও যেন তোমাকেই ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি।
 
আমার মৃত্যুতে আমি তোমার দুহাত ধরে, চিবুকের স্বপ্ন দেখে যাব
এবং জটিল বৃত্তে সহজিয়া এঁকে বিনয়ের কবিতার অক্লান্ত বিষ্ময় দিয়ে,
অগ্রাণের অনুভূতি দিয়ে, চিত্রতলে লিখে দেব–
দেখো দেখো রূপাতীত সৌন্দর্যের রূপ- এই দেখো –
আমাদের ‌নান্দনিক প্রবাহের আরেক শুদ্ধস্বর এবং বোধির ঘুম জাগানিয়া
 
যখন আমার শব্দ শেষ হবে নৈঃশব্দ্যর গানে
শেষ হবে সমস্ত সংলাপ, ‘সুউচ্চ প্রণয়’
নিয়ে স্তম্ভিত দৃষ্টির মতো গাঢ় লাল এঁকে
দেবে তোমার প্লাবিত ঠোঁট, তোমাতেই আশ্রিত
আমার নিঃস্বর ঠোঁটে, ত্রিকালিক ঠোঁটে।

♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦♦·♦

 
মুগ্ধতার ছায়ায় ছায়ায়

 
বিকল্প বৃক্ষের খোঁজে বের হয়ে তোমাকে পেলাম
 
দক্ষিণে নিশ্চিদ্র বৃষ্টি, উত্তরে পবন
গ্রীবা জূ্ড়ে মন-পলাশের গহন যৌবন– অনিঃশেষ রেখা
পবিত্র গোলাপ দুটি শুদ্ধতার আগ্নেয় প্রতীক
তলপেটে অপূর্ব সঙ্কেত, পঞ্চনদ মিশে আছে
আরাবল্লি পর্বতের খাদে
 
এসো এসো সর্বশীলা
আলোর বাইরে এসো, অন্ধকার দ্যুতি হয়ে এসো, কুঁড়ি গ্রামে যাব
তাৎক্ষণিকের অরূপ পলক এসো
নিভৃতে পূর্ণ হবে দীর্ঘস্থায়ী ভাববিনিময়
 
পলকের আয়ু হোক আলোক বর্ষের মতো যোজন যোজন
এইভাবে বারবার তাকাব নিজের দিকে, দুজন একক হব
নাগরিক শূন্যতায় পুঁতে দেব আমাদের অক্ষরের নিষ্কাম প্রহর
এভাবেই পূর্ণ হবে শিল্পিত কুম্ভের গৃহ-সন্ধান
আমরাও ঋদ্ধ ‌হব পল্লবিত মুগ্ধতার ছায়ায় ছায়ায়
 

♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!