- গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
- আগস্ট ১৭, ২০২৫
দাঁত
দাঁতের যন্ত্রণায় টিকতে পারছেন না অনন্যা। দুদিন ধরে নুন গরম জলে কুলকুচি করা, লবঙ্গ তেল লাগানো, কী একটা টিউব কিনে দিয়ে গেল মেয়ে কাল সেটাও লাগিয়ে দেখলেন। শেষমেষ প্যারাসিটামল খেয়েও যখন সামান্যই কমল, তখন বুঝলেন যে ডাক্তারের খোঁচাখুঁচি ছাড়া ব্যাপারটার সমাধান করা যাবে না। এতদিনকার জীবনে কোনোদিন আজ পর্যন্ত দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার হয়নি অনন্যার। ছোটবেলা থেকেই দাঁতের বিষয় তিনি খুবই সচেতন। তার ঝকঝকে দু-পাটি দাঁত বার করে হাসলেই চতুর্দিকে আলো জ্বলে ওঠে একথা সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছেন তিনি। নিজেও ভালোই জানেন যে তার হাসির একটা আলাদা মহিমা আছে। দেবদূত ওই হাসির মাধুর্য বর্ণনা করে কত চিঠি যে লিখেছে, তার ঠিক নেই। কিছু চিঠিপত্র এখনো রয়ে গেছে যার অনেক পংক্তিই বহন করছে অনন্যার ভুবন ভুলানো হাসির মহিমা এবং স্তুতি। শুধু দাঁতের ব্যথা নয় মন খারাপের কথাটাও বলেছিলেন মেয়েকে। বাবিন হাসল। তারপর বোঝাতে বসল।
– শোনো মা। দাঁতের সমস্যা একদিন না একদিন হবেই। শুধু দাঁত কেন, চোখ, কান, বুক, পেট সবকিছুরই স্বাভাবিক থাকার একটা সময়সীমা থাকে। তারপর মেরামতির দরকার পড়ে। এতে মন খারাপ করার কিছুই নেই।
– কিন্তু বাবিন ওই আরসিটি ফারসিটি কীসব হয় আজকাল ওসব করাতে হলে?
– করাতে হলে করাবে। কী সমস্যা তাতে। অজস্র লোকের রোজ হচ্ছে।
অনন্যা বোঝাতে পারেন না অসুবিধার কথা মেয়েকে। চুপ করে যান। দেবদূত বলেন,
– শোনো অত ভাবার কী দরকার। একেবারে তুলে দিতে বলব দাঁতখানা। তারপর বাঁধিয়ে নেবে। দাঁত লাগিয়ে খাবার চিবোবে তারপর খুলে রেখে দেবে।
– বাজে কথা বোলো না। সামনের একটা দাঁত আমি দুম করে তুলে ফেলব? কীরকম লাগবে দেখতে একবার ভেবেছ?
দেবদূত খবরের কাগজ থেকে মুখ না তুলেই গম্ভীরভাবে রসিকতা করলেন।
– অনু এত বছর তো তোমার জমাটবাঁধা সুন্দর দাঁতের হাসি দেখলাম। এখন নাহয় ফোকলা দাঁতের হাসি দেখি। একটু নতুনত্ব আনো এবার। সারাজীবন তুমি ওই একই তন্বীরূপ ধরে রাখবে?
এইসব মজা অনন্যার পছন্দ নয় একদম। বুড়োদের মতো মজা এগুলো। বয়স হয়েছে বলেই এইসব রদ্দি ইয়ার্কি হবে তাকে নিয়ে সেটা তার ভালো লাগে না একদম।
মনটা খারাপ হয়ে গেল। দাঁতের সমস্যা যে আসবে সেই মানসিক প্রস্তুতি ছিল না একেবারেই। আগাগোড়া দাঁত নিয়ে এ-বাড়ির কারো তেমন সমস্যা নেই। ছেলেমেয়েদেরও দাঁতে সেই ছোটবেলা থেকে তেমন কোন সমস্যা দেখা যায়নি। দাঁতের ডাক্তারের কাছে অনন্যা শেষ গেছিলেন শাশুড়ি এবং শ্বশুরকে নিয়ে। অসুখ বিসুখ কী আর কম হয়েছে। এইতো বছর তিনেক আগে গলব্লাডার স্টোন অপারেশন হলো। তার পরেই আবার হার্নিয়া। এছাড়া এক ছেলে এক মেয়ে সিজারিয়ান করেই হয়েছে সুতরাং ডাক্তারের ঘরে যাতায়াত তো লেগেই রয়েছে। শুধু তার একার নয়, দেবদূতের সমস্যাও কম নয়। এইতো ক’দিন আগে দুটো চোখে সার্জারি হল। তারপরে ফিস্টুলা অপারেশন হল। এছাড়া জ্বর জারি, সর্দি-কাশি, ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা হাজার রকমের ব্যাথার ফিরিস্তি লেগেই আছে। দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই খুব ভোগে। ডাক্তারের কাছে যাওয়া আসা লেগেই থাকে। মেয়ে অনুরূপা অবশ্য উল্টো । খুবই শক্তপোক্ত ধরনের। স্কুল কলেজে পড়াকালীন কোনদিন শরীর খারাপের জন্য কামাই হয়নি।
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে অনন্যা শোভনাকে ফোন করলেন। শোভনা একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। খুব কাছের সম্পর্ক। অসুখে বিসুখে অনন্যার প্রধান পরামর্শদাতা। শোভনা ডিভোর্সি। প্রায় পনেরো বছর আগে স্বামী ছেড়ে চলে গেছে। অনিমেষ পেশায় ডাক্তার ছিলেন। ডিভোর্সের পরেও ডাক্তারের প্রাক্তন স্ত্রী থাকার সুবাদে কাছেপিঠের লোকজন শরীর টরির খারাপ হলে, ওর পরামর্শ নিয়ে থাকেন। কোন সমস্যায় কলকাতার কোন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, হসপিটাল ওষুধপত্র এমনকি খুচকাচ সমস্যার টোটকা সমাধানও শোভনা দিয়ে থাকেন। অনন্যার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শোভনা ফোনে অনন্যার উদ্বেগের কথা শুনে প্রথমে হেসে ফেললেন। তারপর বললেন,
– আমি ওবেলা ডাক্তার চক্রবর্তী কাছে তোমাকে নিয়ে যাব খুব ভালো ডেন্টিস্ট কোন সমস্যা হবে না সন্ধে ছটা নাগাদ রেডি হয়ে থেকো আমি এসে তোমাকে নিয়ে যাব।
অনন্যা খানিক নিশ্চিন্ত হলেন। কিন্তু বেশিক্ষণের জন্য সেটা টিকলো না। বিকেলে ডেন্টিস্ট বললেন, দাঁতের ক্ষয় শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট করতে হবে সেই সঙ্গে পাশের দুটো দাঁতও খানিকটা খারাপ হয়েছে সেটাও দেখিয়ে দিলেন। এখনই সচেতন না হলে ওগুলোতেও কদিন পরে তুমুল যন্ত্রণা শুরু হবে।
বাড়ি ফিরে এলেন অনন্যা। যে ভয় পাচ্ছিলেন সেটাই হলো সেই খোঁচাখুঁচি, ইনজেকশন হাজার রকম ওষুধ। মেয়ের সঙ্গে আলোচনা করলেন ছেলেকেও জানালেন। দুজনেই বলল, যেটার যা চিকিৎসা সেটা তো করাতেই হবে মা।
কথা হলো করাতেই যে হবে সেটা তো অনন্যা নিজেও বুঝেছেন। কিন্তু চিন্তা লাঘব করবার জন্যই সকলের সঙ্গে কথা বলা। শোভনা ব্যতীত ওরা দুজনই যা আছে কথা বলার জন্য। দেবদূতের সঙ্গে তো উদ্বেগ ভাগ করলে তার ফল উল্টো হয়। কারণ উদ্বেগ প্রকাশ করলে দেবদূত বলে, দাঁত তুলে নাও। দাঁত রেখে কি হবে? ক’দিন পরে এমনিও তুলতে হবে। ওইসব দাঁত খুঁচিয়ে, প্লাস্টার, মেরামতি করার থেকে তুলে নেওয়াই ভালো। বয়স হচ্ছে এখন আর দাঁত নিয়ে আফসোসের কি আছে।
দেবদূতের এই সমস্ত কথাগুলো অনন্যার একেবারেই ভালো লাগেনা। বয়স হচ্ছে বলে নিজের ভালোলাগা, মন্দ লাগা বদলে ফেলতে হবে এ কেমন কথা। নিজেকে গুছিয়ে না রেখে এলোমেলো, নোংরাভাবে রেখে দিতে হবে শুধু বয়স হয়েছে বলে এটা কীরকম। দিদাশাশুড়িকে একটা বয়সের পর দেখতেন ব্লাউজ পড়তেন না। তার নাকি অসুবিধা হতো। এমনকি টুকটাক কাজে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বিকেলে বসার সময়ও পরতে চাইতেন না। বলতেন, আমাদের বয়স হয়ে গেছে এখন আর অত কী পড়লাম কী পড়লাম না কে দেখবে ! অনন্যা বলতেন –দিদামা, লোকের দেখার সঙ্গে নিজেকে সাজিয়ে রাখার গুছিয়ে রাখার, পরিচ্ছন্ন রাখার সম্পর্ক নেই। দিদামা ধুর পাগলি বলে সে কথায় আমল দিতেন না। সেই মানুষটাকে যেমন বোঝাতে পারেননি অনন্যা তেমন দেবদূতকেও পারেননি বোঝাতে। এই নিয়ে বেশি কথা বললে দেবদূত ভাবে অনন্যা বয়স নিয়ে সচেতন হয়ে পড়েছেন বা নিজের বয়স হয়ে যাওয়া বিষয়টা মেনে নিতে পারছেন না।
এবার সমস্যাটা হল এইসব চিন্তা ভাবনা কাটিয়ে দাঁতের জন্য যা করতে হবে তা করার পরে দেখা গেল, একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। সেটা হল দাঁতটার অবস্থান। ডাক্তার বললেন, আরসিটি করিয়ে নেওয়ার পরে ক্যাপিং করলেও সেই দাঁতের টেকার সম্ভাবনা খুবই কম। পাশের দুটো দাঁতও যদি আরসিটি করে পরপর তিনটে দাঁত একসঙ্গে ক্যাপিং করা হয় তবে ভালো সাপোর্ট পাওয়া যাবে। এবার এতে সমস্যা হল যে পাশের দাঁত দুটো এখনো এই অবস্থায় যায়নি যে তার আরসিটি করার প্রয়োজন হয়। ফিলিং করলেই এই মুহূর্তে ওগুলো ঠিক থাকতে পারত। তাহলে ওই একটা দাঁতকে বাঁচাতে গিয়ে বাকি দুটো দাঁতকে খোঁচাখুঁচি করাটা কোনো কাজের কথা নয়।
এবার তাহলে উপায় ? ডাক্তার সে বিষয়েও একটি অপশন দিয়েছেন। সেটা হল দাঁত ইমপ্লান্ট করা।সেক্ষেত্রে নকল দাঁত টাইটেনিয়াম স্ক্রু দিয়ে চোয়ালের হাড়ের মধ্যে লাগিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে সেই দাঁত নিয়ে কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম থাকবে। ইমপ্ল্যান্ট করা একটা ছোট অপারেশনের মতো ব্যাপার কিন্তু খুবই সহজ এবং ডাক্তারের চেম্বার এর মধ্যেই সেটা করা সম্ভ। প্রথমে অনন্যা এই নিয়ে কিছু ভাবেননি। কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে এটাই অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক। মুশকিল হলো বাড়িতে কেউ রাজি হচ্ছে না। ছেলে মেয়ে দুজনেই বলছে অত ঝামেলায় যাওয়ার কী দরকার। একটা সামান্য দাঁতের জন্য অত যন্ত্রণা সহ্য করার কি প্রয়োজন ! দেবদূত বলছেন দাঁতটা তুলে নাও। মেয়ে বলছে আরসিটি করিয়ে নাও যদি না থাকে তখন দেখা যাবে। ছেলের আলাদা কোন মতামত নেই এই বিষয়ে। যে যা খুশি করুক নিজের ইচ্ছামত সে আপন ভাবনায় মশগুল। ছেলেটা বড় হয়নি আসলে এখনো।
শোভনার সঙ্গে আলোচনা করলেন অনন্যা। একমাত্র সেই বলল ইমপ্লান্ট করিয়ে নাও। এখন সবাই তাই করাচ্ছে। আখছার হচ্ছে, কোনো ব্যাপারই নয়। এত ভাবার কী আছে এই নিয়ে। ডাক্তারকে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নাও, কনফার্ম করে আগে। যা যা টেস্ট করবার সেসব করে নাও। আমি যাব তোমার সঙ্গে। মেয়েকেও বোঝালেন। মেয়ে যা হোক তবু গড় রাজি হল। যত সমস্যা দেবদূতের। তার কথা হল, দাঁত তুলে ফেলতে কী সমস্যা। একটা দাঁতের জন্য এত কিছু কেন করব যখন সেটা আবশ্যক নয়।
আসলে দেবদূত ভয় পান। শরীর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যাপারে তার অদ্ভুত একটা ভয় কাজ করে। ডাক্তার, চিকিৎসা, রুটিন টেস্ট সবেতে তার একটা আতঙ্ক। শরীর খারাপ এবং তার চিকিৎসা করানোর ব্যাপারটা এড়িয়ে, ফাঁকি দিয়ে জীবনটা কাটানোর চেষ্টা করেন। এ এক ধরনের অদ্ভুত ফোবিয়া। অনেক বুঝিয়েও দেবদূতের ভাবনার পরিবর্তন করতে পারেননি অনন্যা। এখন আর চেষ্টাও করেন না। কিন্তু দেবদূত একটাই প্রশ্ন নিয়ে বারবার খুঁচিয়ে চলেছেন। কেন ইমপ্লান্ট করাতে যাবে ? কেন এত ঝামেলা নেবে যেখানে একটা খোঁচায় গোড়া থেকে সমস্যা সরানো যায়। দেবদূতের কাছে দাঁত তুলে ফেলাটা কোন অসুবিধার ব্যাপারই নয়। তার কাছে সম্ভবত সামনের ওই একটা দাঁত ছাড়া জীবন কাটানোটাও কোনো অসুবিধার নয়। কিন্তু সেই ভাবনাটা অনন্যার উপর চাপানো কেন? অনন্যা রেগে যান।
–সারা জীবন তুমি তোমার ইচ্ছাটা আমার উপর চাপিয়েছো। সব সময় সেটাই হবে যেটা তুমি ঠিক মনে কর।
দেবদূত বলেছেন – হ্যাঁ কারণ তুমি ঠিক ভুল বোঝনা। যদি তুমি নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে তাহলে আমি চাপিয়ে দিতাম না। একটা সামান্য দাঁত নিয়ে এত কাণ্ড করার দরকার নেই সেটাই তোমাকে বোঝানো যাচ্ছে না।
–দরকার নেই যে সেটা তোমাকে কে বললো আর দরকার আছে কিনা সেটা তুমি কেনো ঠিক করছো? দাঁতটা তো আমার।
–হ্যাঁ দাঁত তোমার কিন্তু ওই দাঁত নতুন করতে গিয়ে কোনো জটিল কিছু হলে নাস্তানাবুদ আমি হব।
– তোমাকে কেন নাস্তানাবুদ হতে হবে? আরে কিছুই নয় এটা। সামান্য একটা ব্যাপার। আমারটা আমি বুঝে নিতে পারব।
– সামান্য ব্যাপার? ওই দাঁতের জন্য এখন সিটি স্ক্যান করাতে হবে। আরও পাঁচ রকম টেস্ট করাতে হবে। এগুলো সামান্য ব্যাপার?
–হ্যাঁ সামান্য ব্যাপার। রুটিন টেস্ট করাতে তো হয়ই। এই বাহানায় বেশ কিছু পরীক্ষাও হয়ে যাবে
– আর সেই পরীক্ষায় যদি আবার কিছু সমস্যা ধরা পড়ে, তাহলে আবার একটা নতুন ঝঞ্ঝাট।
– মানে তুমি বলছো যে সমস্যা থাকুক কিন্তু ধরা না পড়ুক।
– আমি বলছি বাঘে ছুঁলে যেমন ১৮ ঘা তেমনি ডাক্তার ছুলে ১৭ ঘা। এইসব কসমেটিক ব্যাপার যত না করা যায় ততই ভালো। ন্যাচারাল থাকো না। আর্টিফিশিয়াল কোন কিছুই শরীরের জন্য ভালো নয়। দাঁতের সমস্যা হলে দাঁত তুলে ফেলো। খারাপ দেখতে লাগলে, বাঁধিয়ে নাও। এত হাঙ্গামা কেন করবে।
– কারণ আমার কাছে যখন অন্য উপায় আছে তখন আমি ওই প্রাচীন নিয়মে আটকে থাকবো কেন? বাকি জীবন দুটো দাঁতের পাতি খোলা বন্ধ করতে করতে জীবন কাটাব কেন?
– তাতে অসুবিধা কি আছে? বয়স হলে যা যা হয় তা হবে। আমাদের মা ঠাকুমাদেরও হয়েছে, আমাদেরও হচ্ছে। সেগুলো মেনে নিতে হবে।
তোমার আসলে বয়স নিয়ে ইনসিকিউরিটি রয়েছে। এইটাই সমস্যা। তুমি মেনে নিতে চাও না তোমার বয়স হয়েছে। তুমি আজীবন ছোটো থাকতে চাও। ওই জন্য দেখনা চুলের রং করো। চুলের রং করা কত ক্ষতিকর তুমিও জানো। ওই ডাইগুলো যখন ধোও তোমার শরীর বেয়ে পড়ে সেগুলো। তুমি জানো ওর থেকে কী কী হতে পারে?
– সারা দুনিয়ার লোক হেয়ার কালার করে। তুমি একা সবকিছু জানো তাই না? আর নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা মানে ছোট থাকতে চাওয়া নয়। তোমার মত থুত্থুরে বুড়ো মার্কা হয়ে বাঁচতে না চাওয়া।
– বেশ, তুমি ইয়ং হয়ে থাকো। মেয়ের সঙ্গে ছেলের সঙ্গে, এর পরে ছেলের বৌ মার সঙ্গে কম্পিটিশন করো।
– এসব কী বলছ কী ? তুমি না একটা সম্মানীয় হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেছ? হেডমাস্টারি করেছ ? একজন শিক্ষকের মুখে এইসব কথা ?
– শিক্ষকের কথা মানছেটা কে? শিক্ষক হয়ে কিছু বলতে গেলে তো শুনছ না। আর তাছাড়া সত্যি গুলো খুব কাঁচা। কানে বাজে লাগে শুনতে। কিন্তু সত্যি গুলো অ্যাকসেপ্ট করে নিতে হয়। যেমন তুমি নিজেকে কচি খুকিটি সাজিয়ে রাখতে চাও সেটা তোমার স্বীকার করে নেওয়া উচিত।
– ছি ছি ছি একটা সামান্য ব্যাপার নিয়ে তুমি এত কিছু বলছো? এত নিম্ন ধারণা তোমার মনে আমার সম্পর্কে?
– আমার ধারণায় কী আসে যায়। তুমি যা সেটাই তো বলছি। তুমি শুরু থেকেই এরকম। মনে করে দেখো বিয়ের পরেও তোমার সাজ পোশাক আচার-আচরণ কেমন কুমারী মেয়েদের মত ছিল। শাঁখা-পলা, সিঁদুর তুমি পরনি, সেই নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা ছিল না ঠিকই, কিন্তু এসবের মধ্যে দিয়ে মানুষের মানসিক পরিকাঠামোতো বোঝা যায়।
অনন্যা আশ্চর্য হয়ে যান। দেবদূত এভাবে তার সম্পর্কে ভাবেন এমন ধারণা তার সত্যিই কোনোদিন ছিল না।
– এ তো আমি কোনদিনও স্বপ্নেও ভাবিনি গো! তুমি এইভাবে ভাবো? তোমার মা বাবাও তো কোনদিনও বলেনি আমাকে। তোমার মা বিয়ের সময় সেই যে লোহা বাঁধানো পরিয়ে দিয়েছিলেন হাতে, আজীবন রাখতে বলেছিলেন। রেখেছিও। বাকি শাঁখা পলা আমি যে পরতে পছন্দ করি না সে বিষয়ে তারা কোনদিনই খারাপ কিছু বলেননি। তুমিও বলোনি। আজ এত বছর পরে এসব বলছো? তোমাকে একজন সংস্কার মুক্ত মানুষ ভেবে এতদিন ভুলই করেছি তাহলে বলো?
– সংস্কারের কী ব্যাপার ! আমি তো বলছি না যে ওসব পরতে হবে। কিন্তু সাধারণভাবে বিয়ের পরে মেয়েরা যেসব পরতে ভালোবাসে তুমি বাসতে না। তুমি আগের মতন করে থাকতে ভালবাসতে। মানে বিয়ের আগের মতন। এগুলো মানসিক গঠন। তুমি নিজেকে ওই একটা জায়গায় ধরে রাখতে পছন্দ কর। বয়স বেড়ে যাওয়া ব্যাপারটা মানতে চাও না। এই সত্যিটা শুনতে তোমার আসলে খারাপ লাগছে।
অনন্যা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে যন্ত্রণা কমালেন ঠিকই কিন্তু তিনদিন পরে ডাক্তারের কাছে আর গেলেন না। মনে মনে অভিমান দানা বাঁধলো তার। আশ্চর্য লাগল দেখে যে এই গত পাঁচ দিনে দাঁতের ব্যথা নিয়ে কথা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকলের মন থেকে বিষয়টা হারিয়েও গেল। এই নিয়ে আর কোনো কথাই হলো না। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করল না পর্যন্ত। অনন্যা যে ডাক্তারকে ফলোআপ করল না সেটা যেন ভুলেই গেছে সবাই। মেয়ের সঙ্গে সকাল-বিকেল বেলা কথা তো হয়ই। সেও ভুলে গেছে। তার নাহয় ধরে নেওয়া গেল মেয়েকে স্কুলে ভর্তির টেনশন রয়েছে এখন। ছ’বছরের নাতনি পিউ-এর কথা মনে পড়লে অনন্যার মেয়ের ছোটখাটো ভুলচুকগুলোকে আরও ছোট মনে হয়। শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব, নিজের চাকরি এসব তো রয়েছে মেয়েটার মাথার উপরে। ক’দিন বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডাও লেগেছিল বেচারীর। ছেলের সাথেও রোজই কথা হয়। নিয়ম করে দুবেলা কথা না হলেও হয়। কিন্তু ছেলের এইসব বোধ বরাবরই একটু কম। ও মাথা গলায় না। অনন্যা চান ও পড়াশুনা করছে সেটাই করুক মনে দিয়ে। ওর কাছ থেকে আলাদা কোন প্রত্যাশা রাখেন না। কিন্তু দেবদূত? সে একবার জিজ্ঞেস করলে না পর্যন্ত! মনে মনে পাহাড়প্রমাণ দুঃখ জমা হয় অনন্যার। এত অবান্তর হয়ে গেছেন তিনি !
যেন একটা ঝামেলা। যতই এড়িয়ে যাওয়া যায় তত যেন ভালো।
অনন্যা ভাবেন ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁতটা তুলেই আসবেন বাঁধানোর দরকারই বা কী। এমনিই থাকুক না হয়। বয়স হলে এসবের প্রয়োজন নেই। এটাই তো দেবদূত প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। তার কথা মতোই হোক। তারপর আবার ভাবলেন এটা অনেকটা চোরের উপর রাগ করে মাটিতে ভাত খাওয়ার মত হয়ে যাচ্ছে। দেবদূত কী প্রমাণ করতে চাইছিলেন বা কী জরুরী মনে করছিলেন সেই বিচার ভাবনার উপর নির্ভর করে অনন্যা বাঁচবেন এতটা অসহায় নারী চরিত্র তিনি কোনদিনই ছিলেন না। তবুও ডাক্তারের কাছে যেতে আর ইচ্ছা হয় না তার।
দাঁতের সমস্যাটা একজনই মনে রেখেছিল। সে শোভনা। রোজই ফোন করে জিজ্ঞাসা করে আর বকাঝকা দেয়।
শোভনা বোঝেন অনন্যার অভিমানের জায়গাটা। নিজের মতন করে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন বারবার বলেন, অনন্যা তুমি কারো জীবনকে দেখার ধরন বা বাঁচার ধরন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছ কেন। তুমি কেন চাইছ দেবদা তোমার মতো করে ভাবুক। দেবদূত তার মতন করে ভাবেন সেই ভাবে তোমাকে চালনা করতে চেষ্টা করতে চাইছেন। সেটা তুমি দেবে কেন। তুমি ওর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে চাইছ বলেই মনে হচ্ছে ও চাপিয়ে দিচ্ছে। বলতে পারে, বাধ্য করতে পারে না। আর আমি ওকে যতদূর জানি ও সেটা করবেও না ও যেটা বলছে সেটা আউট অফ কনসার্ন বলছে, আউট অফ ফিয়ার বলছে। তাছাড়া ও মনে করে তোমার সৌন্দর্য বা শরীর কতখানি রক্ষা করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে সেটা ও ভালো বোঝে। তুমি সেটা করতে দিয়েছ তাই ওর অভ্যাস ওভাবে তৈরি হয়েছে।
এতে অভিমান করার কোন অর্থ হয় না। তুমি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নাও তাড়াতাড়ি। যা করার করো। নেক্সট টাইম আবার এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে দেখবে দেবদা নিজেই তোমাকে বলছেন ইমপ্লান্ট করিয়ে নিতে।
অনন্যার তবুও মনের ভিতর একটা ক্ষোভ দানা বেঁধে থাকে। ভয়,চিন্তা, ভালোবাসা এসব অনেকভাবে প্রকাশ করা যায়। কিন্তু একজনের আত্মসম্মানকে খুঁচিয়ে ভয়, ভালোবাসা প্রকাশ করবার ধরনকে কী করে সহজভাবে নেবেন ! এত বছরের সম্পর্ক। লোকটা একবার ভাবল না পর্যন্ত?
তিনি তো জানেন অনন্যার কিসে খারাপ লাগে আর কিসে ভালো। চুপ করে যান অনন্যা। শোভনা যাই বলুক, তার ডাক্তারের কাছে যেতে ইচ্ছা করে না। মনে মনে ভাবেন আবার ব্যথা উঠলে দেখা যাবে।
শরীর আর মনের যোগাযোগ যতটা নিবিড় ততটাই বিচ্ছিন্ন। মনের অভিযোজন খুব ধীরে হয়, মানসিক পরিবর্তন ঘটতে সময় লাগে। কিন্তু শরীরের পরিবর্তন অনেকসময় হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের মতো। তার পূর্বাভাস থাকে না।
সেদিন সেদিন রাতে খাবার পর থেকে দেবদূতের শরীরটা অস্থির করছিল। ছাদে পায়চারি করলেন। গ্যাসের ওষুধ খেলেন। ঢক ঢক করে জল খেলেন এক দু-গ্লাস। তারপরে শুয়ে পড়লেন। বরাবরই দেবদূত পেটের সমস্যা নিয়ে জেরবার। হজমের নিত্য অসুবিধা লেগেই আছে। বাড়িতে জোয়ানগুঁড়ো থেকে শুরু করে কারমোজাইম বা অন্যান্য যত রকমের গ্যাস-অ্যাসিডিটির ওষুধ হয় সব মজুত আছে। সুতরাং দেবদূতের এই সামান্য শরীর খারাপ যে মাঝরাতে শ্বাসকষ্টের দিকে ঘুরে যাবে সেটা মাথাতেও আসেনি অনন্যার।
কিন্তু ওই যে শরীর অনেকটা প্রকৃতির মত সুন্দর। তার যাবতীয় সৌন্দর্য কখন বিস্ফোরণ ঘটাবে তার আন্দাজ পাওয়া মুশকিল।
তবে অনন্যার একটা সুবিধা হল বিপদে তার মস্তিষ্ক খুব ধীর স্থির ভাবে কাজ করে। চট করে দিশাহারা হয়ে যান না সুতরাং দেবদূতের যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হল অনন্যা খুব বেশি এদিক-ওদিক না করে ফ্ল্যাটের দু একজনকে ডেকে নিলেন এবং কাছাকাছি হসপিটালে তখনই নিয়ে যাওয়া সিদ্ধান্ত নিলেন। আর এই চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ছোটখাটো একটা হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেলেও বড় বিপদের থেকে সে যাত্রায় রক্ষা পেয়ে গেলেন দেবদূত।
সারা রাত প্রায় হসপিটালে কাটিয়ে ভোরের দিকে ছেলে মেয়ে দু’জনকেই ফোন করে অনন্যা বিস্তারিত সব জানালেন। দুজনেই বলল রওনা দেবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যদিও অনন্যা ব্যস্ত না হতেই বলেছিলেন। কারণ মোটামুটি ৭২ ঘন্টা অবজারভেশনে রেখে ডাক্তার ছেড়ে দেবেন দেবদূতকে। আর উপযুক্ত সময় চিকিৎসা হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যাপারটা সামলে নেওয়া গেছে বলেই জানিয়েছেন। অতএব আপাতত মনে হয় না তেমন কোন বড় বিপদ আসবে তবুও বাহাত্তর ঘন্টা আগে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না সেও ঠিক।
পরের দু দিন নানা রকম টেস্ট ইত্যাদিতে ধরা পড়ল দেবদূতের হার্টের একটা আর্টারি প্রায় ৯০% ব্লক হয়ে রয়েছে। অ্যানজিওপ্লাস্টি করে ওই ব্লক ঠিক করতে হবে। কয়েকটা দিন যেন ঝড়ের মতো চলে গেল। ঘর হসপিটাল, লোকজন, ফোন। মেয়ে অনুরূপা আসাতে অনন্যার ছোটাছুটি অবশ্য একটু কম হয়েছে। ও সামলে নিয়েছে পুরোটাই। তবুও অনন্যাকে বেশির ভাগ সময় হসপিটালেই কাটাতে হয়েছে কারণ দেবদূতের চিরকালের অভ্যেস অসুস্থ হলে অনন্যা কে আঁকড়ে ধরে রাখা। বাড়িতে হোক বা হসপিটালে প্রতিমুহূর্তে অনন্যার খোঁজ পরে। হসপিটালে হলে ব্যাপারটা নিজের হাতে থাকে না অন্যের মর্জির উপরে কিছুটা নির্ভর করে কিন্তু বাড়িতে হলে দেবদূত একটা মুহূর্ত অনন্যাকে কাজ ছাড়া করতে চান না। সুতরাং দেবদূতের এরকম একটা শারীরিক সমস্যায় অনন্যা যে সারাক্ষণের জন্য আটকে থাকবেন সে তিনি নিজেও জানেন। যাইহোক সমস্ত কিছু মিটে গেলে দেবদূতকে বাড়িতে আনা হলো। মেয়েও দুদিন থেকে ফিরে গেল। ছেলেও হোস্টেলে ফিরে গেল।
দেবদূত অসুস্থ হওয়ার আগে দিয়ে অনন্যার সঙ্গে একটু মনোমালিন্য হওয়ার কারণে দুজনেই কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন না। এক অসুস্থতা সব দূরত্ব খণ্ডন করে দিয়ে গেল। অনন্যা অভিমান অভিযোগ ভুলে গেলেন। দেবদূতও ক্ষমা চাইলেন অনন্যার কাছে।
– সামান্য বিষয় নিয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক করে ফেলি। তুমি হয়তো রাগ করো। কিন্তু তুমি ছাড়া তো এত আপন আমার আর কেউ নেই। রাগ বল রাগ, হতাশা বলো হতাশা, দুঃখ বলো দুঃখ সবই তোমার সঙ্গে ভাগ করি। কিন্তু সেসব করতে গিয়ে কত সময় তোমাকেই দুঃখ দিয়ে ফেলি উল্টে। অথচ তুমি তারপরেও সবকিছুতে আমাকে আগলে রাখো কত যত্নে। আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী অনন্যা। লজ্জা পেলেন তিনি।
অনন্যা নিজেও লজ্জিত হয়ে পড়েন ওই প্রসঙ্গে কথা ওঠায় এবং দেবদূতের ক্ষমা চাওয়ার জন্য। সত্যিই তো! সামান্য মতের অমিল নিয়ে এত উত্তেজিত হয়ে পড়ার কী এমন ছিল।
এইসবই বলছিলেন শোভনাকে। শোভনা শুনে বললেন – যাক এবার তোমার দাঁতটা আর ফেলে রেখোনা। দাদা এবার নরম হয়েছেন। ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন তোমার কাছে। চলো কাল গিয়ে চট করে সেরে আসি তোমার টেস্টগুলো। আবার নাহলে একদিন এমন ব্যথা উঠবে যে বিপদে পড়বে।
অনন্যাও ভাবছিলেন করাবেন। শোভনা বলাতে রাজি হলেন। বললেন কাল ফোন করে নাম লিখিয়ে চলে যাব তোমার সঙ্গে। তুমি ঠিকই বলেছিলে আমি ফালতু রাগ করছিলাম তোমার দাদার উপর। ও আসলে ভয় পেয়ে ওসব বলছিল। এখন বারবার ক্ষমা চাইছে।
শোভনা হাসলেন। মুখে কিছু বললেন না।
পরদিন শাড়ি পরে বেরোনোর জন্য রেডি হচ্ছেন দেখে দেবদূত জিজ্ঞাসা করলেন,– কোথায় চললে গো আমাকে ঘরে রেখে?
অনন্যা বললেন – সিটি স্ক্যান আর ওইসব টেস্টগুলো করাতে যাচ্ছি। দাঁতটা ঠিক করতে হবে তো। নাহলে এতদিন তোমাকে নিয়ে ভুগলাম এরপর আবার নিজে পড়ব।
দেবদূত প্রায় আঁতকে উঠলেন। – সেই তুমি ইমপ্লান্ট করাচ্ছ ?
– হ্যাঁ, কেন? অনন্যা অবাক হলেন
– আরে তোমাকে এত বোঝালাম তাও শুনলে না। দাঁতটা তুলে ফেল। ওসব কিছু করতে হবে না। বাবিন পর্যন্ত তোমার এইসব ছেলেমানুষি কাজকম্ম নিয়ে হাসছিল।
অনন্যার মুখ কঠিন হল। তিনি একটু বেশিই আশা করে ফেলেছিলেন বোধহয় দেবদূতের কাছ থেকে।
দেবদূত ফের বললেন –আমি যাব তোমাকে নিয়ে দাঁতের ডাক্তারের কাছে। ওসব কিচ্ছু করাতে হবে না। আমি আছি তো। তোমার সব অসুবিধার সলিউশন আমি করে দেব।
অনন্যা জলের গ্লাস আর ওষুধের বাক্সটা দেবদূতের বিছানার পাশের টেবিলে রেখে বললেন – ওষুধগুলো খেয়ে নাও। একা লাগলে উপরের মুখার্জিদাকে ফোন করে ডেকে নিও। বাবিনকে ডিস্টার্ব কোরো না। এটা ওর কাজের সময়। আর আমার সলিউশন আমি নিজেই খুঁজে নেব। তোমাকে এত ভাবতে হবে না।
আর কোনো কথা বলার সুযোগ দিতে চাইলেন না অনন্যা। দরজা টেনে বেরিয়ে শোভনাকে ফোন করলেন। তিনি বুঝেছেন নিজের জীবনটাকে নিজের ইচ্ছামতো সাজাতে হলে দাম্পত্যের এই সব তুচ্ছ মান অভিমান বিসর্জন দিতে হবে। এসবের কোনো মূল্য নেই। কেউ তোমার সঙ্গে থাকলে ভালো না থাকলে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। সংসারে ভালোবাসা এবং বন্ধন যেমন সরল স্বাভাবিক, শরীরের বার্ধক্য এবং অসুখও তেমনই স্বাভাবিক। কিন্তু ভালোবাসাকে যেমন শিকল হতে দেওয়া যায় না তেমন নিজের বার্দ্ধক্য কেমনভাবে সামলাব এবং শরীরের রক্ষণাবেক্ষণ কতখানি করব সে দায়িত্ব অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
❤ Support Us








