- গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
- মার্চ ১৫, ২০২৬
দিলামঘর
কিছুই নিইনি। একটা শহরের মত ঘর, আর তাতে পাড়ার মত চৌকো চৌকো অঞ্চল। মাঝখান দিয়ে পূর্ব পশ্চিম আর উত্তর দক্ষিণ গলিপথ। এদেশে বলে থ্রিফ্ট স্টোর। রাজ্যের পুরোনো জিনিসপত্র, কিন্তু ডাঁই করে রাখা নয়। রীতিমতো সাজিয়ে রাখা, হলুদ দামের ট্যাগ ঝুলছে। কে কবে বাতিল করে দিয়ে গেছে। বেচে দিয়েছে আবর্জনা বিদায় করতে… কিন্তু ওয়ান ম্যান’স ট্র্যাশ ইজ অ্যানাদর ম্যান’স ট্রেজার। গুপ্তধন খুঁজবার আনন্দেই ঘুরছিলুম। এত অসংলগ্ন ব্যথাবেদনা পাশাপাশি একসঙ্গে কখনো দেখিনি। এসব দোকানে তুমি “এ’টা চাই” বলে যেতে পারবে না। তুমি যাবে, গলিগুলো দিয়ে হাঁটবে, কিছু মনে ধরলে নিয়ে নেবে, অবশ্যই দাম দিয়ে। আমি কিছুই নিইনি, এখনও না। কত, কত্তকিছু আছে সে’খানে। দাবার ঘুঁটির সেটের পাশে বিশাল দেওয়ালঘড়ি, প্রাচীন টেনিস র্যাকেটের পাশে ছিপিবন্ধ ১৯৪০ এর কোকাকোলার বোতল। রাস্তার সাইনবোর্ড, রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড। আসবাব। কতরকমের আসবাব। বাসন। ইস্তিরি। মান্ধাতার নিজের হাতে সই করা রেসিপি বই।
একটা সময় পর বুঝলাম হারিয়ে গেছি। আক্ষরিক ভাবেই। স্থানে নয় কেবল, কালেও। চারপাশে অগুনতি পায়রার খোপে ডাঁই করে রাখা যাবতীয় অকাজের যা কিছু, যা কিছু অচল, পরিত্যক্ত, প্রাচীন, আমি অনন্তের আন্দাজ পাই। ক্লান্তি আসে। আর বোধহয় হতাশাও। অনন্তকে জরিপ করবার মত সময় নেই বলে। ভয়ানক লোভ হয়, এই সব আমার চাই, এই যতকিছু সব আর কারো কাছে মূল্যহীন, যাদের গলায় নামমাত্র দাম লেখা কাগজ ঝুলছে, এই সব গল্প, গন্ধ, এগুলো চাই। কার কাছে বায়না করি ? অনন্তের কোনো কেন্দ্রবিন্দু হয়না, তবু তার কাছাকাছি-ই কোথাও কোনো একটা খোপে একটা আবলুশ কাঠের কেদারায় বসে পড়লাম। ডানদিকের হাতলটা ভাঙা, একটা সাধারন গোল কাঁচ-মাথা টেবিলে হাতটা রাখলাম। লং প্লেয়িং রেকর্ড ছিল ক’টা – টম টি হল চেনা বেরোলো, তাই উল্টেপাল্টে দেখছিলাম কোলে নিয়ে, শেষ রেকর্ডটা তুলতেই একটা খুব চেনা কিন্তু একেবারে অন্যরকম দাবার ছক বেরিয়ে পড়ল। কষ্টিপাথরের। এদিক ওদিক ঝুঁকে খুজতেই একটা বার্লির টিনে মিলল সৈন্য সামন্তরা। ঢেলে সাজালাম তাদের। পাইন কাঠের, এবড়ো খেবড়ো। বোড়ে গুলির নিজেদের মুখ রয়েছে, নিজেদের অস্তিত্বে সচেতন। তারা অসমান, কেউ বেশী লম্বা, কোনটা একটু মোটা। সাদা মন্ত্রীটা বেশ রাগী, সাদা রাজাটা ভীতু। কালো রাজাতে আর মন্ত্রীতে গলায় গলায় ভাব, দুজনেই বড় দুঃখি। নৌকা, গজগুলো কেমন ভাবলেশহীন, যান্ত্রিক, ভাড়াটে খুনীর মত। প্রথম চাল টা আমি দেব ?
“উঁহু, আমি।”
ছোট আগুনটা জ্বলছে এখনো, তার হলদে আলোয় রক্তিম হয়ে উঠেছে মেয়েটা। তার এক পায়ে নূপুর। বিপজ্জনক ভাবে অনাবৃত। যোদ্ধা কী দুর্বল হয়ে পড়ছে ? সে টের পায়, আরও একরকম আগুন হয়, সেটা অনির্বাণ। চোখ নামিয়ে দাবার ছকে মনোযোগ দেয় , সজাগ চোখে সুযোগ খোঁজে, কোনাকুনি ফাঁক পেয়ে একটা নৌকাকে ডুবিয়ে দেয় তার গজ। মেয়ে তার চোখে চোখ রাখে, মুখ ব্যাঁকায় এমন ভাবে, যা কেবল সে-ই পারে। দানবটা কি হাসল একটু ?
প্রায়-জোড়া ভুরু টা কুঁচকে বললে ছোট্টখাট্টো চেহারার মেয়েটি। হালকা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো বিশালাকায় যোদ্ধা। মেয়েটির গ্রাম ইতিহাস হয়ে গেছে ঘন্টা খানেক আগে, দলছুট যোদ্ধারও আর হারাবার কিছু নেই। তার পক্ষ নেই, তার ফৌজ ফৌত। যুদ্ধের কারণ, ক্ষেত্র, অংশীদার সব বিশৃঙ্খলায় ঘেঁটে গেছে, তবে তাই নিয়ে বিশেষ বিচলিত তাকে দেখাচ্ছে না, অবশ্য তার মুখের ভাবে তাকে পড়তে যাওয়া কঠিন। মেয়েটির কোনো অভিযোগ নেই যদিও, ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছে সবকিছু, আর এখন ক্ষুদে পাহাড়ের উপরে বসে শুকনো ডালপালার আলোয় দাবা খেলছে শয়তানের সঙ্গে। শয়তানের একটা ঘোড়া আড়াই ঘরী চালে তার কৌতূহলী বোড়েটাকে গ্রাস করেছে। মুখ টিপে হাসে মেয়ে।
“এগুলো তুমি বানিয়েছ ? নিজে হাতে ?”
আবারও নীরবে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় যোদ্ধা। বহু নীচের বৃহত্তর আগুনটা নিভে গেছে, গ্রামটা যথার্থই ছারখার, আর ইন্ধন নেই কোনো রকম। কাছের ছোট আগুনটা জ্বলছে এখনো, তার হলদে আলোয় রক্তিম হয়ে উঠেছে মেয়েটা। তার এক পায়ে নূপুর। তার অনেকখানি বিপজ্জনক ভাবে অনাবৃত। যোদ্ধা কী দুর্বল হয়ে পড়ছে ? সে টের পায়, আরও একরকম আগুন হয়, আর সেটা অনির্বাণ। চোখ নামিয়ে দাবার ছকে মনোযোগ দেয় সে, সজাগ চোখে সুযোগ খোঁজে, কোনাকুনি ফাঁক পেয়ে একটা নৌকাকে ডুবিয়ে দেয় তার গজ। মেয়ে তার চোখে চোখ রাখে, মুখ ব্যাঁকায় এমন ভাবে, যা কেবল সে-ই পারে। দানবটা কি হাসল একটু ?
“হচ্ছে তোমার দাঁড়াও !”
মৃত ঘুঁটির পাহাড় জমতে থাকে। কমতে থাকে আগুনের তেজ। সৈনিক তার ক্লান্ত মাথা তোলে আকাশের দিকে, তার যন্ত্রণাবিদ্ধ আঙুল তুলে কন্যারাশির দিকে তুলে ধরে। বুভুক্ষু মেয়ে হাসে পাহাড়ে প্রতিধ্বনি তুলে, তার তর্জনী সিংহরাশির দিকে উদ্ধত। শয়তানের কোণঠাসা রাজাকে কিস্তি দেয় মেয়েটা। মাত। সেই খিলখিল হাসির অর্থ পরিষ্কার হয় এবার। একজন ভালো যোদ্ধা জানে কখন হার মানতে হয়। সকাল হয়ে আসছে।
♦•♦–♦•♦–♦•♦
সুবিশাল ঘরটার প্রায়ান্ধকার কোণে দেরাজের দ্বিতীয় তাকটায় সারি বেঁধে রাখা ছিল তাদের । পুরোন কাঠের বার্নিশ আর ন্যাপথলিনের গন্ধ ছাপিয়ে আর একটা সুবাস আচ্ছন্ন করে রেখেছে । আমি কাঠের মত দাঁড়িয়ে রয়েছি দেরাজের সামনে । দ্বিতীয় তাকের সারি বাঁধা স্ফটিকের গ্লাসগুলি থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে চুঁইয়ে আসা আলো । চোখে ঝিলমিল লেগে গেছে ! খুব সাহসে ভয় করে তর্জনী ছোঁয়ালাম তাদের একজনায়, ছ্যাঁকা লাগল যেন, স্ফুলিঙ্গ ছুটল ।
পারস্যে বা ব্যবিলনে নাকি বাঙলাতেই এক রানীর গল্প শুনেছিলাম। তার পোশাক মাকড়সার জালের থেকেও মিহি রেশমে বোনা, এক কাপড় তিনি দুবার পরেন না। নিরাভরণা তিনি, সোনা রূপা প্ল্যাটিনাম এগুলি কেবলই ধাতু তার কাছে। সেই স্বচ্ছবাসে, সহজ পায়ে, সফেন পর্দা ঠেলে ঘরে ঢুকলেন তিনি। কিছু আগুন কেবল জ্বলে, বাঞ্ছারাম, পোড়ে না
স্বচ্ছ। এই একটাই শব্দ অবস্থান করছে ঘরে। দেওয়ালগুলি কাঠের বটে, পূব দিকে চূল্লীটা, তার আগুন-ই এখন এক মাত্র আলোর উৎস। পশ্চিমে একটা জানালা, তাই দিয়ে বেশ ক ঘন্টা আগে দিনের শেষ আলো হঠাৎ-ই উধাও হয়েছে ইসমাইল সামানি পর্বতের পিছনে। চাঁদ উঠেছে কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। মেঘ ভারী হয়ে রয়েছে। ঘরের চুল্লীটার হলুদ আলো বেশ খানিক দূর দৃশ্যমান করে তুলেছে, সর্বব্যাপী বরফ তাই নিয়ে লোফালুফি খেলছে। প্রতিফলন ঘরের বাইরে, ভিতরে প্রতিসরণ। অন্দরমহলের প্রবেশপথে একটা সাদা পর্দা ঝুলছে, দুলছে হুহু ঠাণ্ডা হাওয়ায়। মিহি তার বুনোট, স্বচ্ছ। আগুনের তাপে তার শীতলতার সাথে বেদম যুদ্ধ। চুল্লীর উপরের অতিকায় শিং ওলা হরিণের মাথাটা সাক্ষী। কাঠ পোড়ার একটা অদ্ভুত শব্দ আছে, জানালা দিয়ে গলতে চাওয়া হাওয়ার গোঙানিকে সান্ত্বনা দিচ্ছে যেন। সেই চুল্লীর সামনে একটা চারপায়া রাখা। তার উপর রাখা একটা স্বচ্ছ বোতল, তাতে মধুসদৃশ এক তরল, কিন্তু তার ঘনত্ব কম। অনেক বেশী স্বচ্ছ। কোহল কি সঞ্জীবনী জানা নেই। সেই বোতলের পাশে এক জোড়া যমজ স্ফটিকের পেয়ালা । তাদের শরীরে যেন গান্ধারের ভাস্কর্য।
পারস্যে বা ব্যবিলনে নাকি বাঙলাতেই এক রানীর গল্প শুনেছিলাম। তার পোশাক মাকড়সার জালের থেকেও মিহি রেশমে বোনা, এক কাপড় তিনি দুবার পরেন না। নিরাভরণা তিনি, সোনা রূপা প্ল্যাটিনাম এগুলি কেবলই ধাতু তার কাছে। সেই স্বচ্ছবাসে, সহজ পায়ে, সফেন পর্দা ঠেলে ঘরে ঢুকলেন তিনি। কিছু আগুন কেবল জ্বলে, বাঞ্ছারাম, পোড়ে না । রানী চারপায়ার উপর ঝুঁকে তার মরালগ্রীবা সম বাহু দিয়ে বোতল তুলে নিলেন, গলা সোনার মত সে তরল কলকলিয়ে পেয়ালা ভরে তুলল। রানী যমজের একজন কে তুলে দিলেন তরুণ বৃদ্ধের হাতে। যে বৃদ্ধ রাজা ছিলেন একদিন। দুই পেয়ালায় চুমু খেলো মৃদু ঠং শব্দে। বাইরে বরফপাত শুরু হল । বৃদ্ধের চোখের ইশারায় রানী জানালা বন্ধ করে দিলেন।
হাত সরিয়ে নিলাম। চোখ খুললাম। পেয়ালার কানায় এখনও তার ঠোঁটের ছাপ লেগে রয়েছে বুঝি…
♦•♦–♦•♦–♦•♦
ছদ্মবেশটা নিখুঁত। আলগা চোখ বোলালে মনে হবে একখানা পুরোনো টেবিল বুঝি। সামনের হরেক আসবাব সরিয়ে ফুলদানিগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে যদি মৃদু ধাক্কা লাগে, কঁকিয়ে উঠবে পিয়ানোটা। আশপাশের সুগোছালো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরূদ্যান মনে হবে যন্ত্রটাকে, হাতের পিঠ দিয়ে ধুলো ঝেড়ে ছোট চেয়ারটায় বসে চাবিগুলোয় আঙুল ছোঁয়ানো মাত্র স্পটলাইট এসে পড়বে যেন। “স্পর্শ করিবেন না” চিহ্নটা উপেক্ষা করাই শ্রেয়। চোখ বন্ধ করে, সামনের হাজার আসনের অদৃশ্য শ্রোতাদের কোলাহলকে প্রতীক্ষা আর উৎকণ্ঠায় পরিণত করে জ্যোৎস্নারাতের খেয়াল শুরু হবে।
রাত। হ্যাঁ, রাত-ই। হিসেব অনুযায়ী দিন-রাতের তেমন তাৎপর্য তাঁর কাছে থাকার কথা নয়, তবু অশীতিপর অন্ধ বৃদ্ধ বুঝতে পারেন রাত হয়েছে, রোজ এই সময়েই রাত হয়। বছর সাতেক আগেও হত, যখন এই ঘিঞ্জি শহরের প্রান্তে জঞ্জালমুখর নিকাশিনালার পাশের এই ঘুপচি বাড়িটার এক চিলতে বারান্দা থেকে সপ্তাহভর বৃষ্টির পর নবমীর চাঁদ উঠতে দেখে বাস্তবিক -ই ক্ষিদেটা একটু কম লাগত তাঁর। ছানির স্তর পেরিয়ে চাঁদ আর দেখা হয় না তাঁর, ক্ষিদেও আজকাল তেমন পায় কই ? তবু আজ রাত হওয়াটা টের পেলেন তিনি। আরামকেদারাটা থেকে উঠে ঘরময় ছড়িয়ে থাকা বইএর স্তূপ সরিয়ে কোনাটায় পৌঁছে অধৈর্য কাঁপা হাতে ঢাকা চাদরটা সরিয়ে দিলেন বৃদ্ধ। ভেজা হাওয়ায় বর্জ্যের গন্ধ ঢেকে কোথাও থেকে একটু রজনীগন্ধার আভাস। সাত বছরের অভিমান তারসপ্তকে বাঁধা, তাকে সামলানোর পন্থা স্বরলিপিতে থাকে না। বুড়ো পিয়ানোয় চন্দ্রালোকের ধ্রুপদ শুরু করলেন বৃদ্ধ। মন্দ লয়, দুই অস্ফুট স্বরের মধ্যে অসীম নিঃশব্দ, রজনীগন্ধা ফিকে হয়ে তামাকের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ঘরে। লয় বাড়ে, শ্বাস ঘন হয় বৃদ্ধের, ষোল মাত্রায় ফিরে ফিরে আসে মাদকীয় স্থায়ী, ষষ্ঠদশ কলায় সাক্ষী থাকে চাঁদ, ধূপ পোড়ে কোথাও। মখমলের মত চাবি স্পর্শ করে যায় বয়স্ক আঙুল, রাতের ট্রেনটা তাল রাখে, মধ্যমে হুইসল মেলায়, মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে ঘুম ভেঙে উঠে বসে আবর্জনার শহর। ক্লান্তি, গ্লানি, খেদ ভুলে রোম্যান্টিক সিনেমার সুখী সমাপ্তির দিকে রাতটা এগোয় যেন, আবহসঙ্গীতে মৃত্যুকে আবাহন করেন বৃদ্ধ। অবশ হয় সময়, শহর। দ্রুত অন্তরায় সেই পরিচিত, কাঙ্খিত ঘ্রাণ পান তিনি, দরজায় হেলান দিয়ে একাগ্রচিত্ত শ্রোতা তাঁর, তাঁর প্রথম শ্রোতা। দৃষ্টি ফোটে বৃদ্ধের, শ্বাস কমতি হয়, আঙুলগুলো এলোমেলো চাবি হাতড়াতে থাকে।
অনৈসর্গিক মুনলাইট সোনাটা অসমাপ্ত থেকে যায়, অন্ধকারের হাজার শ্রোতার মোহ কাটে না, একটাও হাততালি পড়ে কই ?
“স্পর্শ করা মানা কিন্তু। জরিমানা হবে।” হাত সরিয়ে নি। আমার এ যন্ত্র ছোঁয়া মানায় না।
♦•♦–♦•♦–♦•♦
সময় থমকে দশটা দশে। একটা মেহগনির বাক্সে যত্নে শোয়ানো, বলা ভালো ঘুম পাড়িয়ে রাখা তাকে। পালিশের অভাবে তার সোনার বর্ণে ঔজ্জ্বল্য কিছু কম, শ্বেতপাথরের বুকে সোনার জলে রোমান হরফে নম্বর আঁকা, কাঁটাগুলিও সোনার। নিখুঁত বৃত্তে একটু টোল খেয়ে গেছে একপাশে, তাতেই পকেটঘড়িটা একমেবাদ্বিতীয়ম হয়ে গিয়েছে। উৎসুক হয়ে হাতে তুলে নিলাম, কুন্ডলী পাকানো চেনটা খুলে পড়ল অসাবধানে। চমকে, অপ্রস্তুত হয়ে ঝুঁকে তুলে নিলাম সেটা, ট্যাঁকঘড়ির মাথায় পড়িয়ে দিতেই নড়ে উঠল সেকেণ্ডের কাঁটা। চোখকে অবিশ্বাস করে কানে লাগিয়ে শুনলাম, সচল ঘড়ি আরও কিছু বলছে না?
সময় থমকে দশটা দশে। একটা মেহগনির বাক্সে যত্নে শোয়ানো, বলা ভালো ঘুম পাড়িয়ে রাখা তাকে। নিয়মিত পালিশে উজ্জ্বল কাঞ্চনবর্ণ সে, শ্বেতপাথরের বুকে সোনার জলে রোমান হরফে নম্বর আঁকা, কাঁটাগুলিও সোনার। সদাগরী আপিস থেকে ফেরার পথে কেরানি বাপ আর ইশকুল থেকে ফেরার পথে বছর পনেরোর ছেলেটার চোখ আটকে যায় রোজ মেহতাবের ঘড়ির দোকানের সামনে। ছেলে ভূগোল বইতে সুইজারল্যাণ্ড চিনেছে, বাপ জেনেছে এই বিশ্বযুদ্ধের বাজারে এক ওই দেশটাই সামিল হয়নি কোনো পক্ষে। বুড়ো মেহতাব আর তার দ্বিতীয় পক্ষের জোয়ান ছেলে কাসেম ঘড়ি কেনে বন্দর থেকে, কোম্পানির চোখ এড়িয়ে। তাদের ভাণ্ডারের বেশীরভাগ-ই বিলিতি, সুইস আমদানী এই প্রথম। বড় দাঁও মারবার তালে রয়েছে বাপ ব্যাটা, অন্য জোড়া কেবল দু’দণ্ড দেখেই শান্তি পায়। না, শান্তি পায় না, একটা দুনির্বার আকর্ষণ কুরেকুরে খায় তাদের। অমিয় জানে না ছেলের বাসনার কথা, অনন্ত টের পায়না তার বাবাও এক-ই বড়শিতে গেঁথে। অনন্ত বড় হচ্ছে, দারিদ্রের অর্থ সে বোঝে। অমিয় বুঝে উঠতে পারে না, এই কামনার উৎস কোথায়, এত স্পর্ধা-ই বা তার হয় কী করে সুইস ঘড়ি ট্যাঁকে নিয়ে ঘুরবার স্বপ্ন দেখার! জিনিসটার কোনো উপযোগিতাই নেই তাদের কাছে, সামর্থ্যে কুলোনো তো দূর প্রশ্ন।
একদিন বুড়ো মেহতাবের ঘড়ির দোকানের সামনে দেখা হয়ে যায় বাবা ছেলের। কাঁচের দেওয়ালে নাক ঠেকিয়ে খালি শোকেসটার দিকে তাকিয়ে থাকে তারা। তাদের দীর্ঘশ্বাসে স্বচ্ছ কাঁচে বাষ্প জমে। আপিস, ইশকুল কামাই যায়। ব্যস্ত শহরের পথে অলস পদক্ষেপে হাঁটতে থাকে তারা, হাত ধরে, কোথাও পৌঁছনোর তাড়া নেই। সময় থমকে যায়।
♦•♦–♦•♦–♦•♦
জিনিসটা স্বতস্ফূর্ত ভাবেই একটা ভয়ভক্তি আদায় করবে। তার ওজনের আন্দাজ চোখে দেখেই হয়। তার গুরুত্বও মালুম করতে বেগ পেতে হয়না বিশেষ। আর তাকে একবারটি ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে দমন করার শক্তি অন্ততঃ আমার নেই। দু পাশে চোরের মত তাকিয়ে বন্দুকটা খোপ থেকে হাতে তুলে নিলাম। হাত বন্দুক। আধুনিক রিভলবারের পূর্বসুরি। এক্ষুনি কাউকে দ্বন্দযুদ্ধে আহ্বান করতে হবে, হবেই। মাথা তুলে খুব আশপাশে তাকিয়েও বালবৃদ্ধবনিতা কাউকে পেলাম না মনের আশ মেটাতে। বৃথা, এ জীবন বৃথা। মনের দুঃখে কোমরবন্ধনীতে সেটাকে সেঁটে বিষণ্ণ, বিমর্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, মনে পড়ল খোপ তিনেক আগে একটা বেলজিয়াম কাঁচের আয়না দেখেছিলাম।
বেয়াল্লিশের যুদ্ধটা কেন হয়েছিল আজ আর কারো মনে নেই, কিন্তু জয় একটা হয়েছিল, কারুর একটা বিরুদ্ধে, এবং ফি বছর ছুটি মেলে বলে জনগণ বেয়াল্লিশের সৈনিকদের ভিনটেজ গাড়ির মত পোষে। মেজরবাবুর স্মৃতিও সততই সুখের, কত শত্রু নিধন যে তিনি করেছেন, গল্পে তার সংখ্যা শেয়ার সূচকের থেকেও বেগে ওঠানামা করে
অভ্যস্ত ধীর হাতে বোতামগুলি লাগালেন ভদ্রলোক। শেষের আগের বোতামটা খুলে পড়ে গেছে কোথাও। জীর্ণ লাল কোটের বুকে তারাকৃতি পদক, সবেধন নীলমণি ওই একটি-ই জুটেছিল। তাই ভাঙিয়েই নাতি অবধি চলছে। “আমার দাদু বেয়াল্লিশের যুদ্ধে…” কলাটা (আগে মুলোটাও, কিন্তু ইদানীং গ্যাস হয়), কুচো মাছ, হলদে হয়ে যাওয়া সবজি এইসব জুটে যেত মেজরবাবুর খাতিরে। বেয়াল্লিশের যুদ্ধটা কেন হয়েছিল আজ আর কারো মনে নেই, কিন্তু জয় একটা হয়েছিল, কারুর একটা বিরুদ্ধে, এবং ফি বছর ছুটি মেলে বলে জনগণ বেয়াল্লিশের সৈনিকদের ভিনটেজ গাড়ির মত পোষে। মেজরবাবুর স্মৃতিও সততই সুখের, কত শত্রু নিধন যে তিনি করেছেন, গল্পে তার সংখ্যা শেয়ার সূচকের থেকেও বেগে ওঠানামা করে। মিলিটারি মেজাজ যদিও তার আয়ত্ত হয়নি, বহু চেষ্টা সত্ত্বেও। গিন্নী, ছেলেপুলের কাছে বরং পালটা দাবড়ানি খেয়ে গেছেন। সংসারে রণকৌশল খাটে না।
স্মারক আর সব-ই বেচা হয়ে গেছে। এই হাতলে আদ্যক্ষর খোদাই করা হাত বন্দুকটা কেমন করে যেন খোরাকির দাম হয়ে যায়নি। মুগ্ধ চোখে সেটার দিকে তাকিয়ে রইলেন মেজরবাবু। হ্যাঁ, তার হাতেই মানায়। আয়নায় নিজেকে জরিপ করেন ঋজু প্রৌঢ়, ডান হাত সটান তুলে ধরেন চোখের উচ্চতায়। তর্জনী অপেক্ষমান ঘোড়ার উপর। বাম চোখ কুঁচকে নিশানায় স্থায়ী হন তিনি। আয়না থেকে পাঁচ পা পেছোন, সম্মুখ সমরের ফয়সলা হোক। তর্জনী চাপ দেয় ঘোড়ায়, কিছুই হয় না। বাইরের মেজর দেখতে পান আয়নার মেজর ভূলুণ্ঠিত, ধূমায়িত নলে ফুঁ দিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন তিনি। তারপর বিষণ্ণ বিমর্ষ বেয়াল্লিশের মেজর প্রশ্ন করেন চিমসে লোকটাকে, “কত দিবি ?”
♦•♦–♦•♦–♦•♦
এক ফোঁটা ধুলো নেই। অথচ এমন নয় যে কাঁচের বাক্সে বা কাপড়ে মুড়ে রাখা ছিল। এর অধিষ্ঠান দিব্যি দেয়াল ঘেঁষা খয়েরি ঘুণ ধরা টেবিলটার উপর, কানাভাঙা ফুলদানি গুলোর পাশে। দু’প্রান্তে দুটো নব জুলজুল করে তাকিয়ে, মাঝের কোম্পানির নামের ইংরিজি হরফটা সত্তর দশকের বিজ্ঞাপন গুলোর কথা মনে পড়ায়। রেডিওটা কাঠের। মাস্টারমশাই বলতেন, শব্দযন্ত্রে, স্বাভাবিক আওয়াজে কাঠের জুড়ি নেই। ইলেক্ট্রিক গীটারকে বলতেন ঝ্যাঁ আর অ্যাকাউস্টিক কে টুং। বলতেন “নিজের টুংত্ব নষ্ট হতে দিস না”।
পাতালঘরে স্টেশন গুলো ঠিকমত ধরতে চায় না। ঝিরঝিরে একটা পর্দা যেন টানা থাকে সবসময়। বাবা বলেন নয়েজ। বেসুর হলেই নয়েজ ? উঁহু। বেসুর বলে কিছু হয় না। সব কিছুই সুরে বাঁধা, এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। আট মাসের মেয়েটা যে থেকে থেকে ফুঁপিয়ে ওঠে, তার ও সুর আছে বইকি, সেটা তার মায়ের নীরব অশ্রুপাতের সাথে এক-ই তারে না বাজলেই বুঝি নয়েজ ? তবে নয়েজ কারে কয় ? অবাঞ্ছিত আওয়াজ ? বুকে সতর্কবাণী গেঁথে দেওয়া সাইরেনটা ? তারপরেই বোমারু বিমানগুলোর শিস ? তাদের সুর নেই, বাবা ? দৈত্যগুলো বুটে তাল রাখে না? ওরা নয়েজ ?
পূবদিকটা ফিকে হওয়া শুরু করেছে । ভোর হতে আর বিশ মিনিট। পাতালঘর থেকে প্রিয় মর্ত্য কি দেখা যায় ? দূরের কোণে নীল মশারির ভিতর তিনটে প্রাণী আশঙ্কাহীন ঘুমে ডুবে। ভয়ের উপর ক্লান্তি এসে গেছে ওদের। বাবা ছারপোকা সামলিয়ে সবুজ সোফাটায় পা গুটিয়ে প্রতীক্ষারত। পাশের বাড়িতে নিধনযজ্ঞ আরম্ভ হয়েছে। ওদের জাগিয়ে কাজ নেই। সব কিছু অনর্থক মনে হয় লোকটার
জায়গাটা বেসমেন্ট আসলে, পাতালঘর বলে ডাকলে একটা রোমাঞ্চ আসে। বর্জিত শহরের পরিত্যক্ত একটা বাড়ির পাতালঘরে কী যে গুপ্তধন পেয়েছে বাপ মা ছেলে মেয়ে… নোনা ধরা দেওয়ালগুলোয় শত্রুসেনার ছায়া দেখে সবাই, তবু কটা দিন বেশী বাঁচার ধন পেয়েছে মা। আলো আঁধারি পাতালঘরের কল্পরাজ্যটা অসীম সম্পদ ছেলেটার কাছে। কাঠের রেডিওটা বাবার নীলমণি। দিনরাত ব্যারিটোন কন্ঠ যুদ্ধের ধারাবিবরণী দেয়। সাধের শহর বানভাসি। আর হয়ত দুটো বিকেল…
পূবদিকটা ফিকে হওয়া শুরু করেছে বোধহয়। ভোর হতে আর বিশ মিনিট। পাতালঘর থেকে প্রিয় মর্ত্য কি দেখা যায় ? দূরের কোণে নীল মশারির ভিতর তিনটে প্রাণী আশঙ্কাহীন ঘুমে ডুবে। ভয়ের উপর ক্লান্তি এসে গেছে ওদের। বাবা ছারপোকা সামলিয়ে সবুজ সোফাটায় পা গুটিয়ে প্রতীক্ষারত। পাশের বাড়িতে নিধনযজ্ঞ আরম্ভ হয়েছে। ওদের জাগিয়ে কাজ নেই। সব কিছু অনর্থক মনে হয় লোকটার। গোটা জীবনটা। শেষটা বড় অন্যায্য। ব্যারিটোন মৃদু কণ্ঠে কিছু অবান্তর জরুরী ঘোষণা সারে। একটা হতাশ রাগ জাগে তার ভিতর। কিন্তু শেষ অনুভূতি হিসেবে রাগটা ঠিক হবে কি? রেগে থেকে মরে কি লাভ?
বোতাম দুটোই ঘুরিয়ে দেন নবীন সঙ্গীতশিক্ষক। দমিয়ে রাখা ব্যারিটোন কন্ঠ বদলে যায় উচ্চরবে টেনর স্যাক্সোফোনে, মিহি সারেঙ্গীতে, অর্ফিয়ুসের বীণায়। আলি আকবরের সরোদে। মিয়া কি টোড়ি। ঝিরঝিরে পর্দাটা কখন যেন মিলিয়ে যায়। ভারী বুট গুলো নিশ্চল। কতক্ষণ গুলি চলেনি রে ?
বুকে মেয়েটাকে আঁকড়ে ধরে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মা । “ওরা শুনতে পেয়ে যাবে যে!” ছেলে বাপের গলা জড়িয়ে কী এক উল্লাসে বলে ওঠে “বাবা, শোনো, আর নয়েজ নেই !”
♦•♦–♦•♦–♦•♦
অজ্ঞাত-ইতিহাসের শহরে সন্ধ্যে সাতটা বাজল। টের পেলাম গলি দশেক আগে ফেলে আসা ঠাকুরদাদা ঘড়িটার জলদগম্ভীর ডাকে। এরা এখনও দম দেয়, তোয়াজ করে চলে পিতামহ কে। সে সময়যন্ত্র সময়ের থেকেও প্রাচীন। কুড়িয়ে পাওয়া চার আনা আর সাত রাজার ধনের জাদুঘর বন্ধ হবার সময় হয়ে এলো। এগিয়ে চলি। শুকনো কী একটা পাতা পোড়ার গন্ধ পাই, তাতে আচ্ছন্ন হবার রসদ মজুদ। এই বুঝি এদের ধূপকাঠি ? দেরাজগুলো কে রাতের নগরের বহুতল মনে হয়, তাদের মৌন বাসিন্দাদের ঘুমনোর সময় হল। সেরকম-ই একটা চার মাথার মোড় ঘুরতেই তার মুখোমুখি হলাম। তাদের বলা উচিৎ, আসলে বাকিরা এই গল্পের মুখ্য ভূমিকা নিতে পারল কই ? একটা খয়েরি দেওয়ালে নানা আকারের তৈলচিত্র ঝোলানো। প্রত্যেকটিই নারীর প্রতিকৃতি, তবে এটা কেন ? সেটা ভেবে বের করতে বেশ ধকল গেছে। এরা প্রত্যেকেই সাধারণ, সুন্দর, তবু সাধারণ। কোনোটাই ওস্তাদের আঁচড় নয়, নয় সেরা। তবু এইটা, এই ছবিটা এর জনকের শ্রেষ্ঠ কীর্তি, হয়ত শেষ আঁকা। ধুলোর স্তর ঝেড়ে নাম পড়বার চেষ্টা করলাম। পারলাম না। নিজের সবটুকু সমর্পণ করে দেওয়া এই রঙের মিশেলটা আরও কিছুতে যেন আলাদা। বই এর মত করে ছবিটাকে পড়ি। এই নারীর রহস্যময় হাসি নেই, লাস্য নেই, দুঃখ নেই, শোক নেই। একটা আকুতি ভরা প্রশ্ন রয়েছে। আরেকটু কাছে এগোই। ফুঁ-এ ধুলো ওড়াই সে জিজ্ঞাসার হদিশ পেতে।
“কই, এলে না তো ?”
দূর্গের এক প্রান্তে একটা ছোট্ট ঘর, তাতে একটাই জানালা, তাই দিয়ে আলো আসে বিস্তর। সে জানালা দিয়ে ওই নীচে পরিখাটা দৃশ্যমান, তার ওপারে সবুজ উপত্যকাটা ছুঁচলো হয়ে গিয়ে হঠাৎ খতম হয়ে গিয়েছে, কলমা জানে সেই খাদে কাস্পি সাগর বাস করে। গোটা অট্টালিকাটা নিশ্ছিদ্র কয়েদখানার সামিল তার কাছে, কেবল এই ঘরটিই তার ফিরদৌস। ভারী দরজাখানা ঠেলে রুবায়েৎ ঢোকে। গত আধ সাল ধরে কলমাকে দেখছে সে। আর আঁকছে। সেই ছবির এক কণাও কলমা আজ তক চোখে দেখেনি। কাষ্ঠ হাসি হেসে ইজেলে মোটা কাগজখানা সে দাঁড় করায়, আজ আখরি রোজ। কলমা জানালা থেকে চোখ সরায় না। রুবায়েৎ চলে গেলে এই ঘরটাও তাকে গিলে খাবে, কোথায় যাবে সে তখন ?
রুবায়েৎ গলা খাঁকারি দেয়, “কই? দেখি ?”
কলমা স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করে “আজ দেরী তুমি করেছ !”
“গুনাহ কবুল, সাজা কী হবে ?”
ঘরটার ছাদ নীচু হয়ে আসে। বাতাস কমে যায়। স্তিমিত হয় আলো। কলমা অস্ফুটে বলে “যেয়ো না।”
না শোনার ভান করে রুবায়েৎ। করতে হয়। নিজের জন্য। কলমার জন্যও।
“তসবীরখানা দেখো।”
জানালা দিয়ে রুবায়েৎ-এর উদাসীন, ইতস্ততঃ হেঁটে যাওয়া দেখতে থাকে কলমা। উপত্যকা পেরিয়ে যায়। কাস্পি সাগরও। “আসব”, বলে গিয়েছে রুবায়েৎ।
আজও, কে জানে, হয়ত শতাব্দী পার করে জানতে চাইছে কলমা, “কই, এলে না তো ?”
ঝাড়ু হাতে অবিন্যস্ত দাড়িওলা লোকটা এসে বলে “নেবে ?”
“সামর্থ্য নেই”, আমায় বলতে হয়, “এর দাম চোকানো আমার সাধ্যি কই ?”
♦•♦–♦•♦–♦•♦
❤ Support Us








