- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫
হিরণবালা । পর্ব ২৩
বস্তির সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে এই প্রথম হিরণের মনে হলো, যা সত্য তাকে জোর করে চেপে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। সত্য ঠিক একদিন নিজে নিজেই প্রকাশ পেয়ে যায়...তারপর
৪১
রামসাগরের স্কুলে একজন অঙ্কের শিক্ষক নেবে। গোবিন্দই এই কথা জানাল হিরণকে। সত্যর চাকরি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই হিরণের ধ্যানজ্ঞান হয়ে গেছে গোবিন্দর একটা চাকরি। এ-বছরই গ্রাজুয়েশন শেষ করল গোবিন্দ। সত্য ইতিহাসে অনার্স পাস করার পর আর এমএ পড়েনি। বিটি ট্রেনিং নিলে চাকরি পাওয়ার সুবিধা হবে বলে বিটি ট্রেনিং করতেই চলে গিয়েছিল। গোবিন্দ আবার সে পথে হাঁটতে চায় না। ও বলছে চাকরির নানা পরীক্ষা দেবে। সেজন্য প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে। এরই মাঝে খবর পেয়েছে রামসাগরের স্কুলে একজন অঙ্কের শিক্ষক নেবে। তবে পোস্টটা পার্মানেন্ট নয়। একজন শিক্ষক বিটি ট্রেনিং করতে গেছে। তার জায়গায় এক বছর অঙ্ক পড়াতে হবে। গোবিন্দ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না যে, এইরকম এক বছরের একটা চাকরিতে যোগ দেওয়া ঠিক হবে কি না।
সত্যি বলতে কি, হিরণও কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। হাসপাতালে ও ডা. শিটকেই জিজ্ঞেস করল গোবিন্দর কী করা উচিত। ডা. শিট বললেন, এক বছরের জন্য পড়ালে মন্দ কী ! কিছুটা টাকা পাবে আর অভিজ্ঞতাও হবে। এই অভিজ্ঞতা পরে চাকরি পেতে কাজে লাগবে তো।
হিরণ বলল, হে কথা ঠিক স্যার। কিন্তু গোবিন্দ কইতাসে যে, এই কাজে যোগ দিলে ওর অন্য পরীক্ষার প্রস্তুতিগুলা ঠিকমতো হইব না।
ডা. শিট বললেন, সে কথাটাও ঠিক। ও যদি শিক্ষকতায় না থাকতে চায়, তাহলে এই কাজে যোগ দিয়ে তেমন লাভ হবে না। সিস্টার, আপনি ওকেই জিজ্ঞেস করুন ও ঠিক চাইছে টা কী?
গোবিন্দকে জিজ্ঞেস করল হিরণ, কী চাইছাতস তুই খুইল্যা ক।
গোবিন্দ হয়ে গেল রামসাগর স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। স্কুলে পড়াতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই গোবিন্দর মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখতে পেল হিরণ। যাকে প্রায় ঘরেই পাওয়া যেত না, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গেই আড্ডা দিয়ে আর খেলে যার সারাটা দিন কেটে যেত, সে কেমন যেন শান্ত হয়ে গেল
গোবিন্দ বলল, বুঝি না। স্কুলের চাকরিতে মাইনা কম। তাই অন্য চাকরি পেলে ভালো। সরকারের অফিসার হলে মাইনা অনেক বেশি।
হিরণ বলে, হে ঠিক। তবে খাটনিও বেশি। আমি কই কী, ইন্টারভিউখান দিয়াই ফ্যাল। চাকরিখান হইয়া গেলে যেমন স্কুলে পড়ানোর পড়াবি, আবার বাড়িতে নিজের পড়াও করবি।
গোবিন্দর কথাটা খুব একটা পছন্দ হলো বলে মনে হলো না।
তবে ইন্টারভিউয়ের দিন ইন্টারভিউ দিতে গেল গোবিন্দ। চাকরিটাও ওর হয়েই গেল। এক বছরের জন্য গোবিন্দ হয়ে গেল রামসাগর স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। ইন্টারভিউয়ের পরেই ওরা স্কুলেই ওকে জানিয়ে দিল যে, চাকরিটা ওরই হচ্ছে। পাঁচজন ক্যান্ডিডেট ছিল। তার মধ্যে ওর ইন্টারভিউই সবচেয়ে ভালো হয়েছে।
গোবিন্দ বাড়ি এলে হিরণ বলল, এবার কী হইব? বিশু, তিতার লগে আর তো দস্যিপনা করা যাইব না। তুই তো এবার গাঁয়ের মাস্টার।
গোবিন্দ ওকে প্রণাম করে বলল, এটা একটা সমস্যা হল বটে। তবে মাস্টারি চাকরি করব না। সরকারি অফিসারই হব।
বিশু আর তিতা দুজনেই কিন্তু খুব খুশি হলো। ওরা কেউই পড়াশোনায় একেবারেই ভালো নয়। কিন্তু, বন্ধু চাকরি পাওয়ায় ওরা খুব খুশি। ওদের দেখে মনে হচ্ছে যেন নিজেরাই চাকরি পেয়ে গেছে। পরের সপ্তাহ থেকে ক্লাস নিতে যেতে হবে গোবিন্দকে। মাসের এক তারিখ আবার সোমবার পড়ল সেই দিন। বিশু আর তিতা গোবিন্দকে বলল রবিবার গোবিন্দ চাকরি পাওয়ার জন্য ওরা ফিস্ট করবে।
স্কুলে পড়াতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই গোবিন্দর মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখতে পেল হিরণ। যাকে প্রায় ঘরেই পাওয়া যেত না, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গেই আড্ডা দিয়ে আর খেলে যার সারাটা দিন কেটে যেত, সে কেমন যেন শান্ত হয়ে গেল। দায়িত্ব কাঁধে পড়লে এমনটাই হয়। গীতার ক্ষেত্রেও ঠিক এটাই হয়েছে। কত যে পালটে গেছে গীতা। শুধু সত্য ছেলেবেলা থেকেই শান্তশিষ্ট ছিল। এখনো তেমনই আছে। কম কথা বলা মানুষ। হিরণ যতই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বেলিয়াতোড় স্কুলের নানা কথা জানতে চায়, তেমন কোনো কথাই ও বলে না। এইটুকু শুধু হিরণ বুঝতে পেরেছে যে, গোরাচাঁদ হয়ে গেছে সত্যর প্রাণের বন্ধু। হিরণ ভাবে দুটো ছেলেই আস্তে আস্তে দাঁড়িয়ে গেল। এবার ওদের বিয়ে-থার ব্যবস্থা করতে হবে। সুরেন গোঁসাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে আবার।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
ক্রমশ..
আগের পর্ব পড়ুন: হিরণবালা । পর্ব ২২
❤ Support Us








