Advertisement
  • ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
  • ডিসেম্বর ৭, ২০২৫

হিরণবালা । পর্ব ৩২

কোনো কোনো মানুষের জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটে যে, তার মধ্যে বেঁচে থাকা শিশুটা এক মুহূর্তেই মরে যায়। এক মুহূর্তেই সে-মানুষটা বুড়ো হয়ে যায়। হিরণ সেদিনই বুড়ি হয়ে গেছিল, যেদিন ওর মানুষটা ওকে ছেড়ে চলে যায়। এই এতগুলো বছরে, মানুষটা চলে যাওয়ার পর ওই প্রথম ক-টাদিন ছাড়া ওর যে একটা শরীর আছে, সে কথাটাও তো ওর সেভাবে মনেই হল না। ও অনেকদিন আগেই যেন বুড়ি হয়ে গিয়েছে। শরীরে নয়, মনে...তারপর

অংশুমান কর
হিরণবালা । পর্ব ৩২

অলঙ্করণ : দেব সরকার

 
৬১

 
বেলিয়াতোড় হেলথ সেন্টারে হিরণ ছাড়াও আরও একজন নার্স আছেন এখন। তার নাম সুপ্রভা সরকার। ফুটফুটে চেহারা। দেখলেই মনে হয় খুব সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম ওঁর। হিরণ ওঁকে ডাকে সরকারদি নামে। সুপ্রভা সরকারের হাসপাতালে এই নাম হয়ে গেছে কারণ ডাক্তার চরণ ওঁকে ডাকেন সরকারদি নামে। সরকারদির বাড়ি ধর্মতলায়। এই গ্রামের ধর্মতলা হচ্ছে একটা ক্ষমতার কেন্দ্র। সব শহর-গঞ্জেই যে এরকম একটা ব্যাপার থাকে, সেটা হিরণ নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝেছে। সব জায়গাতেই থাকে একটা পাড়া যে-অঞ্চলে সেই শহর বা গ্রামের মুরুব্বিদের বসবাস। অনেকটা তেমনই জায়গা হল ধর্মতলা। এর একটা কারণ অবশ্যই বেলিয়াতোড়ের গ্রামদেবতা ধর্মঠাকুরের মন্দির আছে ওইখানে। বর্ষাকালে ধর্মঠাকুরের গাজন হয়। ওই ধর্মঠাকুরের মন্দিরকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে বসবাস করে গ্রামের শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান মানুষদের একটা বড়ো অংশ। সত্যি বলতে কি, এখন যে-দিকটায় হিরণরা থাকে, মানে স্কুলের এই পাশটায় যেদিকে হোস্টেল কোয়াটার্স আর খেলার মাঠ আছে, সেদিকটায় এই গ্রামটা বেড়ে উঠছে ক্রমশ। আদি গ্রামটা স্কুলের ওই পাশে। ধর্মতলার মতোই এই গ্রামের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ পাড়া হল নিয়োগী পাড়া। এ পাড়াও বহু পুরোনো। হাই স্কুলের হেডমাস্টারমশাই দেবানন্দ নিয়োগীরও বসবাস ওই পাড়াতেই। গ্রামটার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সত্যিই গর্ব করার মতো। আগের বারই এসে শুনেছিল কিছু কিছু কথা। এবার সরকারদির কাছ থেকেই হিরণ আরও বেশি করে জানতে পারছে বেলিয়াতোড়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথি আবিষ্কার করেছিলেন যে-বসন্তরঞ্জন রায় তিনিও এই গ্রামেরই সন্তান। ওই রায় পরিবারেরই আরেকজনও বিশ্ববিখ্যাত মানুষ। তিনি শিল্পী যামিনী রায়। কিছুদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। সুপ্রভাদি আরও একজনের কথা বলেছেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্ষুদিরাম দাশ। রামসাগরের এত ধন ছিল না। বেলিয়াতোড়ের আছে। এই গ্রামটিতে এখনও নিয়মিত সংস্কৃতিচর্চা হয়। এসবের সঙ্গে সত্য খুবই জড়িয়ে গিয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিজেই তুলে নিয়েছে কাঁধে। কিছুদিন আগেই এইরকম একটা অনুষ্ঠানে হিরণ গিয়েছিল। ওর বড়ো ভালো লেগেছে।
 
গীতারা চলে যাওয়ার পর জীবন প্রায় চেনা ছকে বইতে শুরু করেছে আবার। হিরণের হাসপাতালের শিফটিং ডিউটি। গোবিন্দর বাঁকুড়ার হাসপাতালে সকালবেলায় বাসে করে যাওয়া আর সত্যর স্কুল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গৌতমের স্কুল। এসব সামলাতেই হিমশিম খায় মঞ্জু আর রত্না। কাজের লোক পাওয়া গেছে একটি। মেয়েটির নাম হিমানী বাউরি। থাকে বাউরি পাড়াতে। এই গ্রামে দুটো বাউরি পাড়া আছে। দুটো পাড়া থেকেই প্রচুর রুগি আসে হিরণদের হাসপাতালে। এভাবেই হিমানীকে খুঁজে পেয়েছে হিরণ। মেয়েটি বড়ো ভালো। কিন্তু এখানে মূল যে-সমস্যা, তা জলের। রামসাগরে জলের সমস্যাটা এত তীব্র ছিল না। কিন্তু এখানে গ্রীষ্মকালে জল পাওয়াই যায় না। স্কুল কোয়াটার্সের চত্বরে আছে একটি কুয়ো। সেই কুয়ো থেকেই ওদের খাওয়ার জল আর স্নান, শৌচকর্ম করার জন্য জল নিতে হয়। সকালবেলা পালা করে কুয়ো থেকে জল নেয় স্কুলের কোয়ার্টার্সে থাকা সব ক-টা পরিবার। হিমানী একা জল তুলতে পারে না কুয়ো থেকে। রত্না ওর সঙ্গে হাত লাগায়। দুজনে মিলে জল তুলে জল বয়ে নিয়ে আসে। কোয়ার্সের উঠনের ভেতরে আছে একটা বড়ো চৌবাচ্চা। জল ধরে রাখার জন্য হিরণ কিনেছে দুটো বড়ো বড়ো জালা। সকালে উঠেই এই চৌবাচ্চা আর জালা ভরতি করাই হিরণদের প্রথম কাজ। তারপর দিতে হয় গুল। ভুলের উনুন এই রান্না করে হিরণরা। ওদের উঠোনের বাউন্ডারির পাশেই আছে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। নিচে মাটি খুঁড়েও একটা উড়ুন বানিয়ে নিয়েছে হিরন। মাঝে মাঝে সেখানে ঝাঁটির জ্বালানি দিয়েও রান্না করা হয়। রান্নাবান্নার দায়িত্বটা মূলত সামনে নিচ্ছে মঞ্জুই। ঝুমু যখন ওকে বিরক্ত করে তখন রান্না করে নেয় হিরণ বা রত্না। রাঁধুনি রাখার মতো সঙ্গতি ওদের নেই। রাঁধুনি রাখার চলও শুরু হয়নি এ-অঞ্চলে।
 

যে-মানুষ সমস্ত কিছু পেয়ে যায় জীবনে, তার ভেতরেও কি এই অতৃপ্তির বোধ কাজ করে ? কে জানে ! হঠাৎ ওর মনে হয়, এখন যদি ওই মানুষটা আবার ফিরে আসে ওর জীবনে, এই এতদিন পরে, ও কি খুশি হবে ? ও কি পারবে সংসারের সমস্ত কিছু সম্পূর্ণভাবে ওই মানুষটির হাতে ছেড়ে দিতে ?

 
জীবন সত্যিই কেমন একটা রুটিনে বাঁধা পড়ে গেছে। একটা বেশ স্থিতিও এসে গেছে জীবনে। এই জীবনই তো হিরণ চেয়েছিল। সবাই মিলে একসঙ্গে থাকবে। একসঙ্গে বাঁচবে। কত কষ্ট করে এই যে প্রায় একার হাতেই তিলে তিলে ও গড়ে তুলল ওর সংসার সেই সংসার আর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে না, এটাই তো ও চেয়েছিল। সবই তো ও যেমনটা চেয়েছিল, ঠিক তেমন তেমনই হল বা হচ্ছে। তবুও কোথাও যেন একটা বেদনা বাজতে থাকে ওর মনের গভীরে। কেমন একটা অতৃপ্তির বোধ ওকে কুরেকুরে খেতে থাকে। ঠিক কেন যে এই অতৃপ্তি, কেন যে ওর এমনটা মনে হয় যে, কিছু একটা নেই ওর জীবনে, সেটা ও ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। সে কি কেবল ওই মানুষটা ওর জীবন থেকে হারিয়ে গেছে বলে ? নাকি অন্য কোনো কারণে ? যে-মানুষ সমস্ত কিছু পেয়ে যায় জীবনে, তার ভেতরেও কি এই অতৃপ্তির বোধ কাজ করে ? কে জানে ! হঠাৎ ওর মনে হয়, এখন যদি ওই মানুষটা আবার ফিরে আসে ওর জীবনে, এই এতদিন পরে, ও কি খুশি হবে ? ও কি পারবে সংসারের সমস্ত কিছু সম্পূর্ণভাবে ওই মানুষটির হাতে ছেড়ে দিতে ? মনে হয় পারবে না। এই সংসার হয়ে উঠেছে হিরণেরই সংসার। আজ এই সংসারের কর্তৃত্ব ও কারোর হাতেই সমর্পন করতে পারবে না। এমনকি ওই মানুষটা আজ ফিরে এলে, ওর হাতেও না। হিরণের মনে হয় প্রতিটি মানুষের মধ্যে যে-ক্ষমতার লোভ থাকে, সেই লোভকে মানুষ প্রথম পূর্ণ করতে চায় সংসারের চার দেওয়ালের মধ্যেই। ও বুঝতে পারে এই লোভ ওর মধ্যেও আছে। ওর হঠাৎ নিজেকে কেমন যেন ছোটো মনে হয়। কিন্তু, তবু ওর মনে হয় কাল সকালবেলা রান্না বসাবার আগে মঞ্জু ঠিক যেন ওকেই জিজ্ঞেস করে, আজ কী কী হইব মা ?

 
৬২

 
বেলিয়াতোড় যে আর ঠিক আগের মতো নেই তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ এখন এখানে একটা সিনেমা হল হয়েছে। রেল স্টেশনের ঠিক গায়েই সিনেমা হলটা। নাম রামকৃষ্ণ চিত্রমন্দির। মাটির সিনেমা হল। ভেতরে বসার জন্য বেঞ্চ পাতা। ঢাকা শহরের একটা সিনেমা হলে অনেক আগে একবার একটা সিনেমা দেখেছিল হিরণ। চেয়ারে বসে দেখেছিল সিনেমা। সেই হলের তুলনায় এই হলটা কিছুই নয়। কিন্তু তবু সিনেমা হল তো ! ফাঁকা পেলেই সিনেমা দেখতে চলে যাওয়া যায়। আর সিনেমা দেখতে যাওয়াটা হিরণদের মত সাধারন মানুষদের জীবনে একটা বড়ো ব্যাপার তো বটেই। সিনেমা দেখার মজাও বিস্তর। একা একা সিনেমা দেখতে যাওয়া যায় না। সিনেমা দেখতে গেলে দল চাই। আজ যেমন হিরণ একা যাবে না সিনেমা দেখতে। মঞ্জু আর রত্না তো যাবেই। ওদের সঙ্গেই যাবে শ্রীকৃষ্ণ হালদারের বউ যমুনা, বাঙালপাড়ার আরও তিনজন বউ রাধা, বাসন্তী আর কালী। এদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বেশ ভাব হয়ে গেছে হিরণদের। বাঙালপাড়ায় যেমন ওদের যাতায়াত বেড়েছে, তেমনই বাঙালপাড়া থেকেও মাঝেমাঝেই ওদের বাড়িতেও বেড়াতে আসে লোকজন। সন্ধেবেলা কেউ বাড়িতে বেড়াতে এলে কী যে ভালো লাগে হিরণের ! আর যদি তারা হয় নিজেদের দেশের লোক তাহলে তো কথাই নেই । ঘোঁতনকে তখন হিরণ পাঠায় মিষ্টি আনতে। দোকান তো সেই ডাকবাংলোর মোড়ে। অনেকখানি যেতে হয়। ছোট্ট ছেলেটা অতদূর গিয়ে মিষ্টি আনতে পারে কিনা মাঝে মাঝে হিরণ ভাবে। তবু গৌতমকে পাঠায় ও। বাড়িতে নিজের দেশের লোক আসবে আর একটু খাওয়া-দাওয়া হবে না তাও কি হয় নাকি! নিজের দেশের লোক দেখলে হিরণের আনন্দ আর ধরে না। আজ তাই হিরণ খুব খুশি। নিজের দেশের মানুষদের সঙ্গে দল বেঁধে সিনেমা দেখতে যাওয়া হবে। ওর মনে হয়, ও যেন আবার নিজের কৈশোরে ফিরে গেছে। এইরকমটা হলে হঠাৎ করেই এক ঝটকায় এক-একদিন যেন মনের বয়স অনেকটা কমে যায়।
 

রিকশোতে চোঙা বেঁধে নতুন সিনেমা এলে খ্যাংরা কাঠির মতো একটা লোক ‘আসিতেছে, আসিতেছে, আসিতেছে নাচে গানে ভরপুর হিন্দি সিনেমা’ বলে সারা গ্রামকে জানিয়ে দেয় নতুন সিনেমার খবর। ওই চোঙা থেকে পাওয়া খবরেই হিরণ জেনেছে এই সিনেমাটার হিরো রাজেশ খান্না। রাজেশ খান্নার কোনো সিনেমা আগে দেখেনি হিরণ

 
যে-সিনেমাটা দেখতে যাবে হিরণরা সেটা একটা হিন্দি সিনেমা। নাম “বাবুর্চি”। তিনটে-ছটার শোয়ে যাবে হিরণরা। আজ হিরণের ছুটি। সিনেমা দেখেই শ্রীকৃষ্ণ হালদারের বাড়ি যাবে বেড়াতে, এমনটাই ঠিক হয়ে আছে। এই সিনেমাটায় রাজেশ খান্না অভিনয় করেছে। একটা রিকশোতে চোঙা বেঁধে নতুন সিনেমা এলে খ্যাংরা কাঠির মতো একটা লোক ‘আসিতেছে, আসিতেছে, আসিতেছে নাচে গানে ভরপুর হিন্দি সিনেমা’ বলে সারা গ্রামকে জানিয়ে দেয় নতুন সিনেমার খবর। ওই চোঙা থেকে পাওয়া খবরেই হিরণ জেনেছে এই সিনেমাটার হিরো রাজেশ খান্না। রাজেশ খান্নার কোনো সিনেমা আগে দেখেনি হিরণ। হিন্দি ভাষাটাও বুঝতে পারে না পুরোটা। কিন্তু সিনেমার একটা মজা হল এই যে, ভাষা না বুঝলেও গল্পটা ঠিক বোঝা যায়। সিনেমা অনেকটা ঠিক জীবনেরই মতো। জীবনে সব সময় সবকিছু কি আর মুখে বলে বোঝানো যায় ? দেখেই তো কত কিছু বুঝে নিতে হয়।
 
সিনেমাটা বড়ো ভালো লেগে গেল হিরণের। এক যৌথ পরিবারের গল্প। সেই পরিবারের সবই কেমন যেন ছন্নছাড়া। সেই ছন্নছাড়া পরিবারটাকে অদ্ভুত এক ছন্দে বেঁধে দিল রাঁধুনি রাজেশ খান্না। বড়ো চমৎকার অভিনয় করেছে রাজেশ খান্না। তাকে দেখতেও কী সুন্দর ! সিনেমাটা দেখতে দেখতে হঠাৎ করে হিরণের নিজের শ্বশুরবাড়ির কথা মনে পড়ছিল। সেটাও তো ছিল এমন একটা যৌথ পরিবার। এমনই ছন্নছাড়া। রাজেশ খান্নার মতো একজন রাঁধুনি এলে হয়তো কোনো এক জাদুমন্ত্রবলে ওদের সংসারটাকে ছন্দে বেঁধে দিতে পারত। তবে তাহলে এই যে আজ বেলিয়াতোড় রামকৃষ্ণ চিত্রমন্দিরে বসে বসে ও বাবুর্চি সিনেমাটা দেখল, সেটা তো দেখা হত না। আর রাজেশ খান্নার মতো এমন রাঁধুনি এই পৃথিবীতে সত্যি সত্যিই জন্মায় নাকি ! এসব সিনেমাতেই সম্ভব। সিনেমা অনেকটাই জীবনের মতো। তবে, পুরোটা কিছুতেই জীবনের মতো নয়, এটাও হিরণের মনে হল।
 
সিনেমা দেখে ফেরার পথে কালী বলল, এই সিনেমাটা নাকি একটা বাংলা সিনেমা থেকে বানানো। বাংলা সিনেমাটার নাম “গল্প হলেও সত্যি”। কালী নানারকমের খবরাখবর রাখে। বয়সে প্রায় মঞ্জুরই বয়সি। কিন্তু বেশ চটপটে। ওই বলল, বাংলা সিনেমাটার পরিচালক নাকি তপন সিনহা। হিরণের মনে হল তপন সিনহা সিনেমাটার নাম দিয়েছেন বড্ড ভালো। হিন্দিতেও সিনেমাটার ওইটাই নাম রাখা উচিত ছিল। এইরকম একটা সিনেমার নাম “বাবুর্চি” কিছুতেই হতে পারে না। “গল্প হলেও সত্যি” নামটার মধ্যে কেমন একটা আপশোশ মিশে আছে না ! যারা এই সিনেমাটা দেখবে তাদের সবারই যেন মনে হবে আহা জীবনে এমনটা কেন সত্যি হয় না !
 

♦–♦•♦–♦•♦–♦•♦–♦

আগের পর্ব পড়ুন: হিরণবালা । পর্ব ৩১

হিরণবালা । পর্ব ৩১


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!