- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- নভেম্বর ৯, ২০২৫
হিরণবালা। পর্ব ২৮
গোবিন্দ চাকরি পাওয়ার পর থেকেই হিরণের বাড়িতে সুরেন গোঁসাইয়ের আনাগোনা বেড়েছে । নানা জায়গা থেকে পাত্রীর খোঁজ নিয়ে আসেন । একজনের ছবি দেখে বেশ পছন্দই হয়ে গেল হিরণের । গেলও পাত্রীর বাড়িতে দেখা করতে, কিন্তু দিনদুয়েকের মধ্যেই পাত্রীর দাদু জানিয়ে দিলেন, কোনো বাঙাল বাড়িতে তিনি নাতনির বিয়ে দেবেন না । হিরণের মনে হল, ওর গালে যেন সপাটে কেউ থাপ্পড় মারল । তারপর...
৫৩
ডাক্তার শিট বললেন, সিস্টার, অনেকদিন তো হল । আপনার এবার একবার সিএমওএইচ অফিসে খোঁজ নেওয়া দরকার ।
কথাটা ডাক্তার শিট ভুল বলেননি । কলকাতা থেকে ফিরে আসার পরে সাতদিন কেটে গেছে । হরিহর ভৌমিক ওকে বলেছিলেন ওর ট্রান্সফার চেয়ে করা অ্যাপ্লিকেশনটা যেন কলকাতায় ঠিক সময়ে পৌঁছয় তার তদারকি করতে, চিঠিটা বাঁকুড়া অফিস থেকে কবে পাঠানো হয়েছে সেই ডেটটাও জানাতে । হরিহর ভৌমিকের অফিসের ফোন নম্বরও তো আছে হিরণের কাছে । গোবিন্দর বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এই ক-দিন অ্যাপ্লিকেশনটার তদারকির কাজটা করে ওঠাই হয়নি । আজ ডাক্তার শিট মনে করানোতে ওর মনে হল এই বিষয়টা নিয়ে এবার উঠে পড়ে লাগার সময় এসে গেছে ।
হিরণ ডাক্তার শিটকে বলল, সিএমওএইচ অফিসে কার কাছে যাইলে যানতে পারমু চিঠিখান ডেসপ্যাচ হইসে কি না ?
ডাক্তার শিট বললেন, দেখুন, আমি তো অ্যাপ্লিকেশনটা নিয়মমাফিক সিএমওএইচের কাছেই পাঠিয়েছি। আপনাকে সিওএমএইচের পিএর সঙ্গেই কথা বলতে হবে ।
হিরণ বলল, ওহানে যাইলেই কি তিনি কথা কইবেন আমার লগে ?
ডাক্তার শিট বললেন, ওর সেক্রেটারির নাম পরিমল মান্না । আমি ওকে একটা চিঠি লিখে দেব । আপনি সেটা নিয়ে ওর সঙ্গে গিয়ে দেখা করবেন। সিওএমএইচ তো হাজার হাজার ফাইল সই করেন । ওঁর সঙ্গে দেখা করে কোনো লাভ হবে না ।
সিওএমএইচ অফিসে হিরণ কোনোদিনই যায়নি । ও ঠিক করল গোবিন্দকে নিয়েই একদিন বাঁকুড়ায় সিএমএইচের অফিসে যাবে। গোবিন্দও তো মেডিকেল কলেজেই চাকরি করে । কোথায় কোথায় যেতে হবে সেইগুলো অন্তত গোবিন্দ দেখিয়ে দিতে পারবে ।
আজ সোমবার । হিরণের আজ নাইট ডিউটি। সকাল বেলাটা ওর ফাঁকা । তাই গোবিন্দর সঙ্গেই ও বাঁকুড়ার ট্রেনে চেপে বসল । গোবিন্দদের হাসপাতালেই তো সিওএমএইচের অফিস । তবে গোবিন্দর সঙ্গে সিএমওএইচ সাহেবের এখনও আলাপ হয়নি । ওর পিএকেও গোবিন্দ চেনে না । তবে সিওএমএইচ সাহেবের চেম্বারটা চেনে। সেটাই অবশ্য এখন হিরণের জন্য অনেক ।
নিশাপতিবাবু গোবিন্দকে চেনেন না । হিরণ ওর ট্রান্সফারের কথা বলতেই বললেন, জানেন তো দরখাস্ত এক টেবিলে নিজে যেতে পারে না । তাকে নিয়ে যেতে একটু খরচা করতে হয়। সেটা কি আপনি করবেন ? একা একাই ট্রেনে ফিরতে ফিরতে হিরণ ভাবছিল, এই তার দেশ ? মাত্র বছর পঁচিশ স্বাধীন হয়েছে দেশটা, এর মধ্যেই দেশটাকে কুরে খেতে শুরু করেছে ঘুষের ঘুণ ?
মা আর ছেলে মিলে দু-জনে মিলে খানিকটা ভয়ে ভয়েই গিয়ে ঢুকল সিওএমএইচের অফিসে । হিরণের হাতে ধরা আছে পরিমল মান্নাকে লিখে দেওয়া ডাক্তার শিটের ছোট্ট একটা হাত চিঠি । পরিমল মান্না বিশাল চেহারা । বেশ পুরুষ্টু একটা গোঁফ রয়েছে । দেখলেই কেমন ভয় ভয় লাগে । হিরণ আর গোবিন্দকে ওর চেম্বারে ঢুকতে দেখেই বললেন, কী চাই ?
হিরণ বলল, আমি রামসাগর হেলথ সেন্টারের নার্স । ডাক্তার শিট আমারে পাঠাইসেন ।
বলেই চিঠিটা ধরিয়ে দিল পরিমল মান্নার হাতে । পরিমল মান্না চিঠিটা পড়লেন গম্ভীর মুখে । তারপর বিরাট বড়ো একটা খাতা খুলে কিছু একটা যেন আঁতিপাতি করে খুঁজতে থাকলেন । মিনিট খানেক পরে মুখ তুলে বললেন, সিস্টার, আপনার ফাইলটা পড়ে আছে নিশাপতি সেনের কাছে । আপনি একবার ওর কাছে গিয়ে খোঁজ নিন ।
এবার গোবিন্দ মুখ খুলল । বলল, স্যার আমি এই হাসপাতালেরই স্টাফ । বছর দুই আগে জয়েন করেছি । নিশাপতিবাবু কোথায় বসেন ?
পরিমল মান্না গোবিন্দকে বুঝিয়ে দিলেন ঠিক কোথায় যেতে হবে ।
লোকপুরের অফিসে বসেন নিশাপতি সেন । গোবিন্দর অফিসও সেখানেই । কিছুক্ষণের মধ্যেই গোবিন্দ হিরণকে নিয়ে গিয়ে হাজির হয়ে গেল নিশাপতি সেনের টেবিলে । একই অফিসে কাজ করলেও নিশাপতিবাবু গোবিন্দকে চেনেন না । হিরণ ওর ট্রান্সফারের কথা বলতেই বললেন, হ্যাঁ, আপনার দরখাস্ত তো আমার কাছে পড়ে আছে । কিন্তু জানেন তো দরখাস্ত এক টেবিলে নিজে যেতে পারে না । তাকে নিয়ে যেতে একটু খরচা করতে হয় । সেটা কি আপনি করবেন ?
নিশাপতি সেনের প্রশ্ন শুনে হাঁ হয়ে গেল হিরণ । বলে কী লোকটা ? ঘুষ চাইছে ওর কাছে ? হিরণের মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে গেল । মনে হল ট্রান্সফারের দরকার নেই ওর । বরং দু-কথা শুনিয়ে দিলে ভালো লোকটাকে । কিন্তু, হিরণ কিছু বলার আগেই গোবিন্দ বলে উঠল, দাদা, আমি এই অফিসেরই লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক । ক-দিন আগে জয়েন করেছি । ইনি আমার মা ।
এক গাল হেসে নিশাপতি সেন এবার বললেন, আগে বলবে তো ভাই । এ তো সেমসাইড হয়ে যাচ্ছিল । দাঁড়াও আমার যা নোট দেওয়ার দিয়ে দিয়েছি তোমার মায়ের অ্যাপ্লিকেশনে । এটা নিয়ে গিয়ে সোজা জমা করে দাও পরিমল মান্নার কাছে । উনি সিএমওএইচের সই নিয়ে ওপরে পাঠিয়ে দেবেন । বিশ্বাস করে তোমার হাতেই দিয়ে দিচ্ছি ফাইলটা। পিওন বুক আর করছি না, বুঝলে তো ?
কাজটা হয়ে গেল হিরণের । ওর সামনেই পরিমল মান্না ওর ট্রান্সফারের চিঠিটা ফরওয়ার্ড করিয়ে দিলেন সিএমওএইচকে দিয়ে । গোবিন্দকে অফিস করে সেই সন্ধেবেলা ফিরতে হবে । একা একাই ট্রেনে ফিরতে ফিরতে হিরণ ভাবছিল, এই তার দেশ ? মাত্র বছর পঁচিশ স্বাধীন হয়েছে দেশটা, এর মধ্যেই দেশটাকে কুরে খেতে শুরু করেছে ঘুষের ঘুণ ? এ প্রশ্নটা মনে আসতেই আবার ওর মনে হল, কিন্তু এই সিস্টেমের মধ্যেই তো ও খুঁজে পেয়েছে হরিহর ভৌমিককে । আজ দেখা পেল পরিমল মান্নারও । তাঁকেও তো ভালো মানুষ বলেই মনে হল । হিরণের মনে হল মানুষের জীবন যদি সাদা কালোয় মেশা হয়, তাহলে দেশই বা হবে না কেন ?
৫৪
এবার যে-সম্বন্ধটি নিয়ে উপস্থিত হল সুরেন গোঁসাই সেটি আর পশ্চিমবঙ্গের সম্বন্ধই না ! বিহারের ভজুডিতে থাকে মেয়েটির পরিবার । মেয়েটির নাম ইন্দিরা বোস । বাবার নাম সমীরকান্তি বোস। এবার ক্লাস ইলেভেনের পরীক্ষা পাস করেছে । সতেরো বছর বয়স । রোগা ছিপছিপে চেহারা । সুন্দর মুখশ্রী । অপছন্দ হওয়ার কোনো কারণই নেই । হিরণের তো ছবিটি খুবই পছন্দ হল । খুবই পছন্দ হয়েছে নামটিও । ইন্দিরা গান্ধির জন্যই তো বাংলাদেশ তৈরি হল । এই মেয়েটিরও নাম ইন্দিরা । এই মেয়েটি গোবিন্দর বউ হলে মন্দ হয় না । দুশ্চিন্তা শুধু একটাই । বিহারে থাকতে থাকতে এই পরিবারটি বাঙালি চালচলন আদব-কায়দা সব ভুলে যায়নি তো ? মেয়েটির ছবি দেখতে দেখতেই হিরণ সুরেন গোঁসাইকে বলল, ঘর কইতাসেন যশোর, এরা বিহারে যাইল ক্যামনে ?
সুরেন গোঁসাই বলল, আপনি কি ভেবেছেন বর্ডার পেরিয়ে যারা এসেছে তারা কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই আছে ? তারা ভারতবর্ষের নানা জায়গায় ছড়িয়ে গেছে । আসাম ত্রিপুরা উড়িষ্যা বিহারে তো আছেই । অন্ধপ্রদেশেও আছে, আন্দামানে আছে ।
খুব ভুল বলছে না সুরেন গোঁসাই । শিয়ালদা থেকে উদ্বাস্তুদের যে ভারতবর্ষের নানা জায়গায় সরকার পাঠিয়ে দিয়েছে সে তো অনেকটা হিরণও জানে । ও বলল, কিন্তু ওগো কি আর বাঙালদের আদব-কায়দা, খাওয়া-দাওয়া যানা আছে ? বিহারী হইয়া যায় নাই তো ?
সুরেন গোঁসাই বলল, না না, একেবারেই না । কেবল আপনাদের মতো বাঙাল ভাষায় কথা বলে না । বাংলাটা বলে আমাদের মতো । আর হিন্দি ভাষাটাও বেশ ভালোই বলে । খাওয়া-দাওয়া তো এক্কেবারে আপনাদের মতোই । আমি তো একদিন খেয়েছি ওদের বাড়িতে ।
ট্রেন যাত্রার বর্ণনা হিরণ উপন্যাসে পড়েছে । মাঝে মাঝে অবসর সময়ে ও শরৎচন্দ্র আর বিভূতিভূষণের লেখা পড়ে । এসব লেখাতেই ভজুডির মতো জায়গার বর্ণনা আছে । এক সময় বাঙালিরা শরীর স্বাস্থ্য ভালো করতে এইসব অঞ্চলে বেড়াতে যেত । একে বলা হত পশ্চিমে যাওয়া । সেই পশ্চিমে যাচ্ছে হিরণ । গোবিন্দর জন্য পাত্রী দেখতে । এদেশে এসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের বাইরে কোথাও একটা যাচ্ছে হিরণ
সুরেন গোঁসাইয়ের কথা শুনে হিরণ অনেকখানি আশ্বস্ত হল । ঠিক হল, পরের রবিবারই ওরা পাত্রী দেখতে যাবে । হিরণ, গোবিন্দ, সত্য আর তিতা, যাবে এই চারজন। আর সুরেন গোঁসাই তো আছেই ।
ট্রেন চলেছে । রাস্তা যেন আর শেষই হয় না । এইরকমের ট্রেন যাত্রার বর্ণনা হিরণ উপন্যাসে পড়েছে । মাঝে মাঝে অবসর সময়ে ও শরৎচন্দ্র আর বিভূতিভূষণের লেখা পড়ে । এসব লেখাতেই ভজুডির মতো জায়গার বর্ণনা আছে । এক সময় বাঙালিরা শরীর স্বাস্থ্য ভালো করতে এইসব অঞ্চলে বেড়াতে যেত । একে বলা হত পশ্চিমে যাওয়া । সেই পশ্চিমে যাচ্ছে হিরণ । গোবিন্দর জন্য পাত্রী দেখতে । এদেশে এসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের বাইরে কোথাও একটা যাচ্ছে হিরণ । ট্রেনে যেতে যেতে দেখতে পাচ্ছে কেমন পালটে যাচ্ছে চারপাশ । জমি সব কেমন কালচে কালচে । গাছের পাতাতেও কেমন যেন কালো কালো ছোপ । এ তার শ্যামল সবুজ বাংলা নয় ।
সমীরকান্তি বোস ভজুডির স্টেশন মাস্টার । এটা একটা ছোটো শহর। গঞ্জও বলা যায় । বেঁচেই রয়েছে রেলওয়ে জংশনটার জন্য । পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দামোদর নদ । সুরেন গোঁসাই বলল, পাত্রী দেখা হয়ে গেলে আমরা একবার দামোদরের ওপর পাম্প স্টেশনটা দেখতে যাব। পাম্প করে দামোদর নদের জল এখান থেকে নানা জায়গায় পাঠানো হয় । পাম্প স্টেশনটা একটা দেখবার জিনিস বটে ।
সমীরকান্তি বোসের বাংলোটা বেশ বড়ো এবং ছবির মতো । উঠোনে বহু গাছপালা । মানুষটিকে দেখতে অনেকটা সিনেমার হিরোদের মতো । অতি সুভদ্র । স্বামীকে হারানোর পর থেকে ওঁর শাশুড়ি ওঁদের সঙ্গেই থাকেন । তিনিও বেশ শিক্ষিতা, রুচিশীলা। মুখ খুলতেই বুঝতে পারল হিরণ। ইন্দিরা মেয়েটি বড্ড লাজুক। কথাই বলতে চাইছিল না মোটে। গান জানে না । তবে ওর দিদিমা বললেন যে সেলাইফোঁড়াইয়ে মেয়েটি নাকি তুখোড় । শিখেছে দিদিমার কাছেই । আর বললেন মেয়েটি একটু ডানপিটে আছে । পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ডাংগুলি খেলে । মাঝে মাঝেই দামোদর নদে স্নান করতে চলে যায় ভাই-বোনদের সঙ্গে । ওরা পাঁচ বোন এক ভাই। ইন্দিরার দিদিমা আরও বললেন যে, মেয়েটির নাকি অঙ্কে খুব মাথা । ইলেভেনের পরীক্ষায় অঙ্কে লেটার পেয়েছে । ইন্দিরাকে ওদের সবারই খুব পছন্দ হয়ে গেল । গোবিন্দর পছন্দ হয়েছে দেখেই বুঝতে পারছে হিরণ । একটা জিনিসই শুধু ওর মনের মধ্যে খচখচ করছে । বিয়ের পর যদি এই মেয়ে পড়াশোনা করতে চায়, তখন কী হবে । রামসাগরে তো মেয়েদের পড়াশোনার তেমন ব্যবস্থা নেই । হিরণ ইন্দিরার দিদিমাকে বলল, বিয়ার পরে ও কি পড়াশুনা করতে চায় নাকি ?
সমীরকান্তি বোস উত্তর দিলেন, আপনারা ইচ্ছে করলে, পড়াবেন । ইচ্ছে না করলে পড়াবেন না । আমার বড়ো মেয়ে তো গ্রাজুয়েশন করেনি । বিয়ে হয়েছে কলকাতা শহরে । দিব্যি চালিয়ে নিচ্ছে । যেটুকু পড়াশুনো জানলে আজকালকার যুগে মেয়েদের চলে যায়, সেটুকু পড়াশুনো তো রত্না করে ফেলেছে ।
হিরণ বুঝল ইন্দিরার ডাকনাম রত্না । ওর মনে হল সমীরবাবু খুব ভুল বলেননি । যদি আরও পড়াশোনা করতে চায় ইন্দিরা, তাহলে করবে । যদি না করতে চায়, তাহলে করবে না । তবে গ্র্যাজুয়েশনের বেশি আর পড়ানো যাবে না ইন্দিরাকে । অঙ্কে লেটার পেয়েছে মানে মেয়েটি পড়াশোনায় ভালো । গোবিন্দর চেয়ে ওর ডিগ্রি বেশি হয়ে গেলে মুশকিলই হবে । হিরণ একবার ভাবল এই কথাটা এখনই বলেই নেয় । তারপর মনে হল এসব অনেক পরের ব্যাপার । আগে তো বিয়েটা ঠিক হোক । কথাবার্তা এগোক । দেখাও যাক ইন্দিরা নিজে কী চায় ।
ফেরার আগে সমীরবাবুই প্রস্তাব দিলেন পাম্প হাউসটা ঘুরে আসার । পাম্প হাউসে গিয়ে সত্যিই হিরণরা অবাক হয়ে গেল । এত বড়ো কোনো যন্ত্রকে সামনে থেকে আগে কখনোই দেখেনি হিরণ । পাম্প হাউসের ভেতরে ঢুকলে কেমন একটা গা ছমছম করে । নদীর জল তুলে এই পাম্প শোধন করে পাঠিয়ে দিচ্ছে নানা জায়গায় । নেহেরুজির সময় থেকেই নাকি এই ধরনের নানা প্রকল্প শুরু হয়েছে দেশে । পাম্প হাউসটা দেখে আর সমীরবাবুর বলা নানা কথা শুনতে শুনতে হিরণের মনে হল, দেশ এগোচ্ছে । প্রতিদিনের চাকরি আর রান্নাবান্নার জীবনের মাঝে অনেক সময় এই অগ্রগতির খবরটা ঠিক পাওয়া যায় না । এইরকম একটা জায়গায় এলে বোঝা যায় অনেক কিছু হচ্ছে এ-দেশে । দেশ এগোচ্ছে ।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
ক্রমশ..
আগের পর্ব পড়ুন: হিরণবালা । পর্ব ২৭
❤ Support Us







