- ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- নভেম্বর ২৩, ২০২৫
হিরণবালা । পর্ব ৩০
লাবণ্যর ট্রাংকল পেয়ে হিরণ স্তম্ভিত হয়ে গেল । ভেবেছিল অশোকনগরে যাবে গোবিন্দর বিয়ের জন্য লাবণ্যদের নেমন্তন্ন করতে । এখন পুরো উলটে গেল ব্যাপারটা । জীবনটাকে কেমন যেন ছেলেখেলার মতোই নিয়েছিল অনন্তলাল । কোনো কিছুতেই ওর যেন কোনো ভ্রূক্ষেপ হত না । চলেও গেল সেভাবে...তারপর
৫৭
ইন্দিরা নামটা খুবই পছন্দ হয়েছিল হিরণের। কিন্তু এখন হিরণ ইন্দিরাকে রত্না নামেই ডাকছে। আসলে নামটা ছোটো হওয়ায় ডাকতে সুবিধে হচ্ছে। মঞ্জুশ্রী যেমন হয়ে গেছে মঞ্জু, তেমনি ইন্দিরাও হয়ে গেছে রত্না। এ-বাড়িতে একমাত্র সত্যই রত্নাকে ইন্দিরা নামেই ডাকছে। সেই ডাকটা শুনতে অবশ্য হিরণের ভালোই লাগে।
গোবিন্দর বিয়েটা এমনিতে বেশ ভালোভাবেই মিটে গেছে। অনন্তলালের মৃত্যুর জন্য লাবণ্যরা কেউ আসতে পারেনি। কিন্তু, দাদারা সবাই এসেছিল। দাদার সঙ্গে সম্পর্কটা আর আগের মতো কোনোদিনই হবে না এটা হিরণ বুঝে গেছে। ওর ভয় ছিল যে, দাদারা হয়তো এই বিয়েতে আসবেই না। সেটা হয়নি। খুব হাসিমুখে দাদা বিয়ে বাড়িটা কাটায়নি ঠিক। কিন্তু চারটে দিন সবাই মিলে ছিল। সেটাই হিরণের কাছে অনেক। কাঁথি থেকে যথারীতি এসেছিল বামাপদ। আর এসেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কাজে। সুরেন গোঁসাইও সত্যর বিয়ের মতোই সামাল দিয়েছিলেন বিয়েবাড়ির কাজের অনেকখানি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কত কিছুই না পালটে যায়! একসময় এই সুরেন গোঁসাইকেই একেবারে সহ্যই করতে পারত না হিরণ। মনে হত একটা উটকো আপদ। কিন্তু এখন যেন ওর পরিবারেরই অনেকখানি হয়ে গেছে সুরেন গোঁসাই। ডাক্তার শিটও একজন অভিভাবকের মতোই গোবিন্দর বিয়েটা উতরে দিতে হিরণের পাশে ছিলেন। আর এইবার ওকে খানিকটা আশ্চর্য করেই ওর জামাই মনোরঞ্জন প্রায় নিঃশব্দ করে গেল অনেক কাজ। মঞ্জুদের পরিবার থেকেও অনেকে এসেছিল। ওর ছোটো ভাই সন্তু একেবারে ভোলাভালা মানুষ। গাধার খাটুনি খেটেছে বিয়ের ক-দিন। সন্তু বিয়ের পর বেশ ক-টা দিন ছিল। ফিরে যায়নি। কলকাতার ভিড় ভারাক্কা ওর ভালো লাগে না বলে রামসাগরেই রয়ে গেছিল কিছুদিন। তারপর ওর কলেজ আছে বলে ফিরে গেছে। তবে এখনও রয়ে গেছে র্যান্ট। র্যান্ট এসেছিল রত্নাকে পৌঁছে দিতে। কিন্তু সেই তখন থেকেই রামসাগরে রয়ে গেছে। এর মধ্যে গোবিন্দ আর রত্না অষ্টমঙ্গলা করতে ভজুডি গিয়ে সেখান থেকে ফিরেও এসেছে। তখনও র্যান্ট যায়নি ভজুডিতে। রয়ে গিয়েছিল রামসাগরেই। তখন সন্তুও ছিল। সন্তু আর র্যান্টের বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেছিল।
এখন শীতকাল। গ্রামের ভেতরে ভেতরে এই সময় খেজুর রস পাওয়া যায়। খেজুর গাছ কেটে কেটে হাড়ি বেঁধে রাখে চাষিদেরই কেউ কেউ। কেউ কেউ আবার শুধুমাত্র রসেরই ব্যবসা করে। তারা খেজুর রস থেকে গুড় বানায়। এদের কয়েকজনের সঙ্গে র্যান্ট আর সন্তুর বন্ধুত্ব হয়ে গেছিল। সন্তু যতদিন ছিল, ভোরবেলা উঠেই ওরা দু-জনে প্রায় প্রতিদিনই খেজুর রস খেতে চলে যাচ্ছিল। সন্তু যেমন ভোলেভালা একটা ছেলে, র্যান্ট তেমনটা নয়। র্যান্ট বেশ চালাক চতুর। কিন্তু অদ্ভুত। সব কিছুর সঙ্গেই ও জড়িয়ে আছে। আবার কোনো কিছুর সঙ্গেই যেন জড়িয়ে নেই। ও সমীরবাবুর মামার ছেলে। মানে সম্পর্কে ও রত্নার কাকা। কিন্তু রত্নার চেয়ে বয়সে একটু ছোটোই হবে মনে হয়। সতেরো কিংবা আঠেরো বছর বয়স হবে ওর। ওর এখন পড়াশোনা করা উচিত। কিন্তু ও নাকি কলকাতার বাড়ি ছেড়ে ভজুডিতে রত্নাদের বাড়িতে চলে এসেছে পড়াশোনা আর করবে না বলেই। কলকাতায় ওদের বাড়ি বরানগরে।
এখন মাঝে মাঝে দরজা বাজিয়ে গান গায় র্যান্ট। গলায় অদ্ভুত সুর আছে ছেলেটার। সলিল চৌধুরীর গান গায়। ভূপেন হাজারিকার গান গায়। এসব গান হিরণ র্যান্টের কাছেই প্রথম শুনছে। এমন গান হিরণ আগে শোনেনি। এইসব গায়কদের নামও আগে হিরণ শোনেনি। ও তো গান শুনত ওই মানুষটার কাছেই। সেই মানুষটা গাইত লালনের গান, রবিঠাকুরের গান। র্যান্ট যে-গানগুলো গায়, সেসব গান গাইত না। কেমন একটা ঘোর লেগে যায় র্যান্টের গাওয়া এইসব গান শুনলে। বুকের মধ্যে কেমন যেন একটা করতে থাকে। অদ্ভুত একটা উত্তেজনা খেলা করে বেড়ায় সারা শরীরে।
র্যান্ট যখন দরজা বাজিয়ে গায়, “পথে এবার নামো সাথী/পথেই হবে এ পথ চেনা,” তখন হিরণের বুকেও যেন গুরুগুরু শব্দে কোনো এক অজানা মেঘ গর্জন করে ওঠে। সেই মেঘ যেন বজ্রকে সঙ্গী করে ভেঙে পড়তে চায় প্রবল বর্ষণ হয়ে পৃথিবীর ওপরে।
মানুষটা যেসব গান গাইত সেই গানগুলো শুনলে এইরকম অনুভূতি হিরণের হত না। ওর তো যথেষ্ট বয়স হয়েছে। তবু এই গানের কথাগুলো শুনলে ও কেন এমন উত্তেজিত হয়ে যায়, বুঝে উঠতে পারে না।
র্যান্টকে এই ক-দিনে বেশ ভালোইবেসে ফেলেছে হিরণ। র্যান্ট বুদ্ধিমান এক কিশোর। কিন্তু ও যে কেন আর পড়াশোনা কিছুতেই করতে চায় না সেটা হিরণ বুঝেই উঠতে পারছে না। গান গেয়ে তো আর জীবন যাবে না! ওই বাউন্ডুলে মানুষটার স্বভাবের খানিকটা যেন এই ছেলেটার মধ্যে আছে। তাই ও সবকিছুর মধ্যে থেকেও নেই। আর এমন কিছু একটা রহস্য আছে ছেলেটার জীবনে যেটা ও কিছুতেই ভাঙতে চায় না। হিরণ ভেবেছে ওকে বুঝিয়ে বলবে কলকাতায় ফিরে যেতে। বলবে আবার পড়াশোনা শুরু করতে। এমন চমৎকার একটা ছেলের জীবন নষ্ট হয়ে যাক, তা তো হয় না।
৫৮
বাসা পালটানো মানে চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। বিশেষ করে তা যদি হয় পুরো সংসারকে এক জায়গা থেকে উঠিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া। রামসাগর থেকে সামনের সপ্তাহেই ওরা চলে যাবে বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ে। একেবারেই অচেনা জায়গা নয়। কিছুদিন তো ওখানে ছিলই। আর এই বদলি তো হিরণ নিজেই চেয়ে নিয়েছে। সমস্যা হল জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতেই অনেকখানি সময় লাগছে এবার। এর আগেও তো দু-বার বদলি হয়েছে হিরণ। সেই দু-বার কিন্তু জিনিসপত্র বাঁধাছাদা করতে এত সমস্যা হয়নি। একটা কারণ তখন তো ওর দুই ছেলের বিয়েই হয়নি। ঘোঁতনও থাকত না। সংসার ছিল ছোটো। আসলে যত সময় যায়, সংসার ক্রমশ বাড়তে থাকে। অনেক সময় ভাঙতেও থাকে অবশ্য। সেই ভাঙন রুখে দিতেই তো হিরণ যাচ্ছে বেলিয়াতোড়ে। এইবার জিনিসপত্র বাঁধাছাদা করতে গিয়ে আরও একটা জিনিস স্পষ্ট হচ্ছে হিরণের কাছে।
কত না অপ্রয়োজনীয় জিনিসই সংসারে দিনের পর দিন জমতে থাকে ! ফেলা হয় না। দু-দিন আগেই রান্নাঘরের এক কোণ থেকে বেরিয়েছে এমনকি ভেঙে যাওয়া হ্যারিকেনও। ফেলা হয়নি। জিনিসপত্রর সঙ্গেই মানুষের যদি এমন সম্পর্ক হয়ে যায় তাহলে একজন মানুষকে জীবন থেকে বাদ দেওয়া যে কত কঠিন, মনে মনে সেটাই ভাবে হিরণ।
এজন্যই মনে হয় এত বছর হয়ে গেছে, এত ঘটনার মধ্যে দিয়ে জীবন এগিয়েছে, তবু সেই মানুষটাকে কিছুতেই ভুলে যেতে পারছে না হিরণ।
ঘর পালটাতে গেলে অনেক ভুলে যাওয়া জিনিসের সঙ্গেও দেখা হয়ে যায়। সেসব জিনিস কত কিছু মনে পড়িয়ে দেয়। মায়ের দেওয়া পানের বাটা আর জাঁতিটা তো রোজই ব্যবহার করে হিরণ এখনও। নিজের গয়নাগাঁটি গুলোও দুই ছেলের বউ আর গীতাকে ভাগ করে দিয়ে দিয়েছে ও। নিজের জন্য কিছুই রাখেনি। রেখে হবেটাই বা কি! যেটুকু গয়না বাকি ছিল সেটা এই ক-দিন আগেই গোবিন্দর বিয়ের সময় রত্নাকে দিয়ে দিয়েছে। তাই গয়নাগাঁটিগুলোর সঙ্গে ওর মাঝেমধ্যে দেখা হয়েছে। কিন্তু এই জিনিসপত্র বাঁধাছাদা করতে গিয়ে বিয়ের বেনারসিটার সঙ্গে কত বছর পর ওর দেখা হল। সঙ্গে সঙ্গে কত কত কথা মনে পড়ে গেল ওর। মনে হল মানুষ অতীতে বাঁচে না ঠিক। কিন্তু অতীতের কিছু কিছু টুকরো সবসময়ই মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকে।
জিনিসপত্র বাধাছাঁদা করার কাজটা মূলত করছে ঘোঁতন আর র্যান্ট। ফাঁকা থাকলে গোবিন্দও হাত মেলাচ্ছে ওদের সঙ্গে। সেই যে রত্নার বিয়ের সময় এসেছিল র্যান্ট আর ভজুডি ফিরেই যায়নি। বরানগরে ফিরে যাওয়ার তো প্রশ্নই উঠছে না। পুলিশ ওকে খুঁজছে। প্রথম যখন এই কথাটা শুনেছিল হিরণ, চমকে উঠেছিল। ওকে এই কথাটা জানিয়েছিলেন সমীরদা। সমীরকান্তি বোসকে এখন সমীরদা বলেই ডাকে হিরণ। গোবিন্দর বিয়ের মাসখানেক পরে রত্নার পরের বোন কস্তুরীকে নিয়ে সমীরদা এসেছিলেন রামসাগরে মেয়ে কেমন আছে দেখতে। তখনই হিরণ জিজ্ঞেস করেছিল র্যান্ট পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে কেন। উত্তরে যা বলেছিলেন সমীরদা শুনে চমকে উঠেছিল হিরণ।
বরানগর যে নকশাল আন্দোলনের এত বড়ো ঘাঁটি, সেটাও হিরণের জানা ছিল না। স্কুলে পড়তে পড়তেই এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল র্যান্ট। ওদেরই দলের একজনের হাতে মারা যায় পুলিশের এক কনস্টেবল। এরপরেই পুলিশ গোটা বরানগর জুড়েই ব্যাপক ধড়পাকড় চালায়। তখনই পুলিশ র্যান্টকেও খুঁজতে থাকে।
সমীরদার মামাই তখন র্যান্টকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ভজুডিতে সমীরদার কাছে। কিছুদিন পরে নাকি নকশালদের নেতাদের এক দু-জন দেখা করতেও এসেছিল র্যান্টের সঙ্গে। ততদিনে অবশ্য ওর নেতাদের সম্পর্কে র্যান্টের অনেকটাই মোহভঙ্গ হয়ে গেছে। সেজন্যই বোধহয় রামসাগরে এসে ও এখন বেশ শান্তিতেই আছে। ভজুডিতে ফিরতেও চাইছে না। কারণ ওর নেতারা ওর ভজুডির আস্তানার খোঁজ পেলেও হিরণদের বাসার খোঁজ একেবারেই পায়নি। এসব শুনে প্রথমে একবার হিরণের মনে হয়েছিল র্যান্টের জন্য ওরা আবার পুলিশের ঝামেলায় জড়িয়ে পড়বে কি না। ভাবছিল সমীরদাকে বলবে কি না র্যান্টকে ভজুডি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। তারপর ভেবেছিল একটা ছেলে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে, তাকে সেই সুযোগটুকু দেওয়া উচিত। সত্যি বলতে কি, র্যান্ট ওদের সঙ্গে থেকে যাওয়ায় হিরণদের সুবিধেই হয়েছে এখন। সংসারে প্রচুর কাজ করে র্যান্ট। আর মাঝেমাঝে দরজা বাজিয়ে গান গায়। ঘরের মধ্যে ঘুরতে থাকে সলিল চৌধুরী আর ভূপেন হাজারিকার সুর। পরিবেশটাই কেমন যেন পালটে যায়।
বেনারসিটাকে ভাঁজ করে ট্রাঙ্কের মধ্যে হিরণ যেই রেখেছে, তখনই ছুটে এল র্যান্ট। বলল, দ্যাখো, কী পেয়েছি খুঁজে। বলেই ওর সামনে ভাঁজ করা হলুদ ছোট্ট একটা কাগজ খুলে ধরল। হিরণ দেখল লেখা রয়েছে,
“রাইটার্স বিল্ডিংয়ে আসিয়া আমার সহিত দেখা করিবেন। স্বাস্থ্য বিভাগের যে কাহাকেও জিজ্ঞাসা করিবেন, আমার টেবিল দেখাইয়া দিবে। শুভেচ্ছা লইবেন।
বিনীত,
হরিহর ভৌমিক”
সেই চিঠি ! ছিদামের লিখে দেওয়া দরখাস্তর উত্তরে আসা ওর চাকরির চিঠির সঙ্গে হরিহর ভৌমিকের চিরকুট। ছিদামের সঙ্গে কতদিন যোগাযোগ নেই। কেমন আছে সে দেশে ছেলেটা কে জানে! হিরণ র্যান্টকে বলল, এই চিডিখান তুই কোথায় পাইলি?
র্যান্ট বলল, গোবিন্দদার একটা ফাইলের ভেতরে। গৌতম বলল, এই হরিহর ভৌমিকের জন্যই নাকি তুমি নতুন জীবন পেয়েছ। সত্যি?
ছোট্ট এই চিরকুটটা গোবিন্দর ফাইলে কী করে গেল বুঝে উঠতে পারছে না হিরণ। এটা তো হারিয়েই গেছে ভেবেছিল ও। সত্যি বলতে কি, এই চিরকুটটার কথা ভুলেও গিয়েছিল। জীবনে কোনোদিন ও ভুলতে পারবে না হরিহর ভৌমিকের অবদান, অথচ চিরকুটটা ও হারিয়ে ফেলেছিল ! গোবিন্দও কোনোদিন কিছুই বলেনি এই চিরকুটা নিয়ে। শুধু ও যা হারিয়ে ফেলেছিল, সেটাকে গুছিয়ে রেখে দিয়েছে। বুঝেছে নিশ্চয়ই আজ যে-জীবনটা ওরা পেয়েছে তার পেছনে এই চিরকুটটার গুরুত্ব কতখানি। ওদের পরিবারের ইতিহাসে ছোট্ট এই ভাঁজ করা হলুদ কাগজটার মূল্য গোবিন্দ বুঝতে পেরেছে দেখে হিরণের হঠাৎ খুব আনন্দ হল। কিন্তু, ও চুপ করে আছে দেখে র্যান্ট আবার জিজ্ঞেস করল, সত্যি?
হিরণ বলল, এক্কারে নির্জলা সত্য। গৌতম ঠিক কইসে। হরিহর ভৌমিক মানুষ নন, ভগবান।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
ক্রমশ..
আগের পর্ব পড়ুন: হিরণবালা । পর্ব ২৯
❤ Support Us








