Advertisement
  • ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
  • ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫

হিরণবালা । পর্ব ৩৩

একটা বেদনা বাজতে থাকে ওর মনের গভীরে । কেমন একটা অতৃপ্তির বোধ ওকে কুরেকুরে খেতে থাকে । ঠিক কেন যে এই অতৃপ্তি, কেন যে ওর এমনটা মনে হয় যে, কিছু একটা নেই ওর জীবনে, সেটা ও ঠিক বুঝে উঠতে পারে না হিরণ । ...তারপর

অংশুমান কর
হিরণবালা । পর্ব ৩৩

অলঙ্করণ: দেব সরকার

 
৬৩

 
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে সকাল থেকে। এবছর আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই বর্ষা চলে এসেছে। প্রায় রোজই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে এই অঞ্চলের চেহারাটা একেবারে পালটে যায়। রুখাশুখা জায়গাটাই কেমন যেন একটু নরম হয়ে যায়। হঠাৎ করেই লালমাটির মধ্যে থেকেই এখানে ওখানে খাবলা-খাবলা সবুজ জেগে ওঠে। ছোটো ছোটো লতাগুল্ম আর ঘাস লাল রঙের মাটিতে যেন আলপনা দিয়ে যায়। দেখেই হিরনের মনে হয় খুব কঠিন জিনিস কেউ নরম করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে জলের। যেমন মানুষের চোখের জলের আছে এই ক্ষমতা তেমনি আছে বৃষ্টির জলেরও। তবে আরেকটা সমস্যাও হয় এখানে। জল হয়তো মাটির মধ্যে বেশিক্ষণ দাঁড়ায় না। কিন্তু প্রায়ই অনেকটা জায়গাই কাদায় থকথকে হয়ে যায়। সেসব জায়গা দিয়ে হাঁটাচলা করাই মুশকিল হয়। টানা বৃষ্টি হয়ে গেলে জল আটকে মাটি বেশ কাদাকাদাও হয়ে যায়। এবারও তেমনই হয়ে আছে। পা টিপে টিপে সাবধানে হাঁটতে হচ্ছে মাটির রাস্তায়। এই জলকাদার মধ্যেই ছাতা মাথায় দিয়ে হিরণদের কোয়াটার্সে এসে হাজির হয়েছে যমুনা। দিন তিনেক আগেও এসেছিল। ওর ছেলে বাপির পেট খারাপ হয়েছিল। তার ওষুধ নিতে। আজ ওর সঙ্গে আছে কালী। কালীর হালকা জ্বর হয়েছে। তাই যমুনা ওকে নিয়ে এসেছে হিরণের কাছে। হিরণ ওকে দেখে নিয়ে ওষুধ দেবে। এইসব ছোটোখাটো ডাক্তারি হিরণকে করতেই হয়। রামসাগর থেকেই এইসব ঝামেলা হিরণ মোটামুটি সামলে এসেছে। ডাক্তার শিট ওকে এই ধরনের চিকিৎসা করার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছিলেন। ডাক্তার চরণেরও একই মতামত। আসলে নার্সরা ডাক্তার নন ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তারবাবুদের সঙ্গে কাজ করতে করতে, রোগীদের সেবা করতে করতে, রোগীদের খুব কাছের থেকে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে, অনেক ক্ষেত্রেই তাদেরও রোগ বোঝার একটা ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়। চিকিৎসার ছোটোখাটো প্রয়োজন তখন নার্সরাই সামলে দিতে পারে। ডাক্তার চরণ বলেন, জ্বরজালার চিকিৎসা আপনারা স্বচ্ছন্দে করতে পারেন সিস্টার। আপনারা তো হাতুড়ে ডাক্তারদের চেয়ে অন্তত ভালো।
 
কথাটা খুব ভুল বলেন না ডাক্তার চরণ। গ্রামের দিকে এখনও শরীর খারাপ হলে মানুষ গুণিনদের দেখায়, ওঝাদের কাছে যায়। কেউ কেউ হাতুড়ে ডাক্তারদেরই ভগবান মনে করে। এদের চেয়ে তো সবসময়ই একজন সুশিক্ষিত নার্স অনেক বেশি ভরসাযোগ্য। তবে জটিল কিছু বুঝলেই হিরণ সবসময় রোগীদের বলে ডাক্তারবাবুদের দেখিয়ে নিতে। আরেকটা জিনিসও ও দেখেছে। মেয়েরা প্রায়ই তাদের নানা মেয়েলি রোগের কথা ভরসা করে ডাক্তারবাবুদের বলতে পারে না। মহিলা ডাক্তারের সংখ্যা এ দেশে এখনও খুবই কম। এসব ক্ষেত্রে নার্সদের ডাক্তারি খুবই কাজে আসে প্রাথমিকভাবে। কথা বলতে শুরু করে হিরণ বুঝল কালীর ব্যাপারটাও তাই। দেখে মনে হচ্ছে ওর জননাঙ্গে একটা ইনফেকশনের জন্যই জ্বরটা এসেছে। বর্ষাকালে অনেক সময় এরকম হয়। গ্রামগঞ্জের মেয়েরা স্বাস্থ্যবিধি আর পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে খুব বেশি সচেতন নয় বলেই তারাই এসব রোগে বেশি ভোগে। কালীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক কিছু পরামর্শ দিয়ে হিরণ ডাক্তারবাবুদের কাছ থেকেই ওষুধ নিতে বলে। কালীকেও তাই-ই বলল।
 

গ্রামের দিকে এখনও শরীর খারাপ হলে মানুষ গুণিনদের দেখায় । কেউ কেউ হাতুড়ে ডাক্তারদেরই ভগবান মনে করে । এদের চেয়ে তো সবসময়ই একজন সুশিক্ষিত নার্স অনেক বেশি ভরসাযোগ্য । মেয়েরা প্রায়ই তাদের নানা মেয়েলি রোগের কথা ভরসা করে ডাক্তারবাবুদের বলতে পারে না । মহিলা ডাক্তারের সংখ্যা এ দেশে এখনও খুবই কম । এসব ক্ষেত্রে নার্সদের ডাক্তারি খুবই কাজে আসে প্রাথমিকভাবে । গ্রামগঞ্জের মেয়েরা স্বাস্থ্যবিধি আর পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে খুব বেশি সচেতন নয় বলেই তারাই এসব রোগে বেশি ভোগে । কথা বলতে শুরু করে হিরণ বুঝল কালীর ব্যাপারটাও তাই ।

 
কালীকে দেখা শেষ হলে পা ছড়িয়ে বসে গল্প শুরু করল যমুনা। যমুনার কাছে নানা ধরনের গল্প থাকে। এই গ্রামের গল্প। হিরণ দেখল আজ যমুনা খুবই চটে রয়েছে মুখার্জিবাবুর ওপরে। মুখার্জিবাবুর পুরো নামটা যে ঠিক কী তা হিরণ জানে না। ওঁকে সকলেই মুখার্জিবাবু বলেই ডাকে।
 
মুখার্জিবাবু ইলেকট্রিক অফিসের পাশেই থাকেন। ওঁরা বেলিয়াতোড়ের অনেক পুরোনো বাসিন্দা। বাঙাল পাড়াতেও ওদের খুবই যাতায়াত। যমুনাদের ওই পাড়ার সকলেরই বিপদে-আপদে মুখার্জিবাবু পাশে দাঁড়িয়েছেন একথা যমুনার মুখেই আগে শুনেছে হিরণ। আজ কিন্তু যমুনা রেগে আছে খুব তুচ্ছ কারণেই। বাপির পেট খারাপ হওয়ার সময় বাপিকে দেখতে গিয়েছিল মুখার্জিবাবু। এবং বলেছিল, বর্ষাকালে বাঙালরা লতাপাতা যা পায় তাই খায় বলেই তাদের পেটখারাপ হয়। এই কথাটা একেবারেই পছন্দ হয়নি যমুনার। যমুনা বলল, খাওনের এদেশিরা কি কিছু বোঝে দিদি ? আমারে কইতাছিল কচুশাক খাও ক্যান ? কচুশাক খাওনের মজা কি মুখার্জি বাবু বোঝবেন কোনোদিন ?
 
এদেশিদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে মাঝে মাঝেই যে বাঙালদের ঝামেলা হয়ে যায় তা হিরণ দেখেছে। তবে কচু শাক খাওয়ার মজা মুখার্জিবাবু বুঝবেন না, এ কথাটা ঠিক নয়। হিরণ দেখেছে ডাক্তার শিটকে ও কচু শাক রান্না করে খাওয়ানোয় ডাক্তার শিট তো কচুশাকের ভক্তই হয়ে গিয়েছিলেন। হিরণ তাই বলল, একদিন রান্না কইরা মুখার্জি বাবুরে খাওয়াইয়া দাও। কচু শাকের সোয়াদ তবেই উনি বোঝবেন।
 
যমুনা বলল, খাওনের কিসুই জানে না ঘটিরা দিদি। ওগো খাওয়াইয়া লাভ নাই। মুখার্জিবাবুও হক্কলের মতো বজ্জাইত। বলে কিনা, আমরা শাকপাতা খাই !
 
হিরণ বুঝতে পারে তুচ্ছ কারণেই মুখার্জিবাবুর ওপরে বড্ড বেশি রেগে রয়েছে যমুনা। অথচ বাঙালপাড়ার প্রায় সবাইকেই ওখানে বাড়িঘর বানাতে নানাভাবে সাহায্যই করেছেন মুখার্জিবাবু। কত অনায়াসেই যমুনা তাঁকেও বলে দিল বজ্জাত। হিরণ যমুনাকে বলে, মুখার্জিবাবু তো তোমাগো ঘরদোর বানাইতে সাহায্য করসিল ভীষণ। সোটো ব্যাপারে রাগতে নাই যমুনা।
 

জীবনই হিরণকে শিখিয়েছে মানুষের সব কাজকে সব সময় যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে বিচার করতে নেই। আবেগের বশেও মানুষ অনেক কাজ করে, অনেক কথা বলে। এই যেমন এখন যমুনা বলছে। ও যমুনাকে বলে, হাটে কাল বকফুল পাইসিলাম। বকফুলের বড়া ভাজা খাবা নাকি ? মঞ্জুরে কমু চায়ের সঙ্গে বকফুলের বড়া ভাজা কইর‍্যা দিতে ?

 
হিরণের কথাটা যমুনার খুব পছন্দ হয়েছে বলে মনে হয় না। সে চুপ করে থাকে। কালী বলে, আপনে ঠিক কইসেন মাসিমা। বাঙাল-ঘটি সবের মধ্যেই ভালোমন্দ মানসি আসে।
 
হিরণ বলে, এই কথাটা মানতি হইব যমুনা। আমার সংসারটা যে আজ দাঁড়াইয়া গেছে তার পেছনে সবচেয়ে বড়ো অবদান তো এদেশের মানসিগুলারই। একথা আমি অস্বীকার করি কী কইর‍্যা ?
 
এতেও যমুনার মুখের কালোভাব মুছে যায় না। হিরণের মনে হয় যমুনার মতো আছে বাঙালদের কেউ কেউ। আর যা কিছুই সহ্য করুক খাওয়া-দাওয়া নিয়ে খোঁটা তারা একেবারেই সহ্য করবে না। গম্ভীর মুখের যমুনাকে দেখে ওর বেশ মজাই লাগে। আজ এত কিছু বলছে মুখার্জিবাবুর নামে অথচ হিরণ জানে কাল সত্যিকারের বড়ো একটা কোনো বিপদ হলে যমুনা আর শ্রীকৃষ্ণ হালদার প্রথমে মুখার্জিবাবুর কাছেই দৌড়ে যাবে। এরই নাম জীবন। জীবনই হিরণকে শিখিয়েছে মানুষের সব কাজকে সব সময় যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে বিচার করতে নেই। আবেগের বশেও মানুষ অনেক কাজ করে, অনেক কথা বলে। এই যেমন এখন যমুনা বলছে। ও যমুনাকে বলে, হাটে কাল বকফুল পাইসিলাম। বকফুলের বড়া ভাজা খাবা নাকি ? মঞ্জুরে কমু চায়ের সঙ্গে বকফুলের বড়া ভাজা কইর‍্যা দিতে ?
 
এই প্রস্তাবে যমুনা বেশ নড়েচড়ে উঠে। মুহূর্তেই যেন ওর মুখের কালো মেঘ কোথায় উড়ে যায়।

 
৬৪

 
গোটা গ্রাম মেতে উঠেছে ধর্মরাজের গাজন নিয়ে। এর আগের বার ধর্মরাজের গাজন সেভাবে দেখতে পারেনি হিরণরা। এইবার দেখবে। বেলিয়াতোড়ের এটাই সবচেয়ে বড়ো উৎসব। উঁচু জাত নীচু জাত কোনো কিছুই এই উৎসবে দেখা হয় না। সবাই এই উৎসবে অংশ নেয়। এই কথাটা ওকে বলেছে যমুনা। আসলে যমুনারা নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ। ওদেশে সারাক্ষণ ব্রাহ্মণদের খোঁটা আর অপমান হজম করে বাঁচতে হত যমুনাদের। পুজো আচ্চায় সবসময় সমান ভাবে অংশ নিতে পারত না। ধর্মরাজের গাজনে এই সমস্ত ব্যাপার একেবারেই নেই। যমুনা তাই খুব খুশি। মাঝে একদিন এসে ধর্মরাজের গল্প শুনিয়ে গিয়েছে হিরণকে।
 

 তিনটি শ্বেতবর্ণের ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসছেন তিনজন পুরোহিত। আগলে নিয়ে আসছেন তিন দেবতাকে। ধর্মরাজ, স্বরূপনারায়ণ, মহাদানা। সঙ্গে যায় অগণিত ভক্তর দল বেতের দণ্ড হাতে। কেউ কেউ কাদার মধ্যে কাটতে থাকে দণ্ডিও। আর থাকে পাট, জাত কলস। যেটা নাকি উঁচু-নীচু সব জাতের এই গাজনে অংশগ্রহণের প্রতীক। 

 
প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরোনো গ্রামের ধর্মরাজ জিউর মন্দির। কথিত আছে এই গ্রামের এক পুরোনো ধন্যাঢ্য ব্যবসায়ী ধর্মদাস পাল রানিগঞ্জ থেকে গরুর গাড়ি করে ফেরার পথে ক্লান্ত হয়ে একটি নদীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একটু পরে তৃষ্ণা মেটাবার জন্য সেই নদীর জল পান করতে গেলে তার পা ঠেকে এক পাথরের খণ্ডতে। তিনি ভেবেছিলেন ওই পাথরের খণ্ডটিকে বাটখারা হিসেবে ব্যবহার করবেন। তাই কুড়িয়ে নেন সেই পাথর খণ্ডটি। কিন্তু সেই পাথরের খণ্ডটিকে বাটখারা হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে তিনি দেখেন একেকবার ওই পাথরের খণ্ডটি এক এক রকমের ওজন দেখাচ্ছে। সেজন্য ওই শিলাখণ্ডটিকে তিনি একটি নুনের বস্তায় পুরে রেখে দিয়েছিলেন। ওই শিলাখণ্ডটিই ছিলেন ধর্মরাজ জিউ। তিনি স্বপ্নে নাকি দেখা দিয়েছিলেন ধর্মদাস পালকে। এই স্বপ্নের কথা জানাজানি হতেই মন্দির তৈরি করে বেলিয়াতোড়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় ধর্মরাজ জিউকে। পরে তাঁরই সঙ্গে এই মন্দিরে জায়গা হয় তাঁর দুই ভাই স্বরূপনারায়ণ এবং মহাদানার। ধর্মরাজের গাজনে এই তিন দেবতাই ঘোড়ায় চড়ে ধর্মরাজের মন্দির থেকে যান তাঁতিপুকুর পর্যন্ত। সঙ্গে যায় অগণিত ভক্তর দল বেতের দণ্ড হাতে। কেউ কেউ কাদার মধ্যে কাটতে থাকে দণ্ডিও। আর থাকে জাত কলস। যেটা নাকি উঁচু-নীচু সব জাতের এই গাজনে অংশগ্রহণের প্রতীক। এসব কথাই হিরণকে বলছিল যমুনা। শুনতে শুনতে হিরণের মনেই হচ্ছিল না যে, ক-দিন আগেই যমুনা ক্ষোভে ফেটে পড়ছিল মুখার্জিবাবুর ওপরে। বলছিল ঘটিরা সবাই বজ্জাত। উৎসব কেমন সমস্ত মানুষকে এক করে দেয় হিরণ ভাবছিল।
 
ধর্মরাজের গাজনের জন্য রত্নার বাপের বাড়ি থেকে আসছে রত্নার পরের বোন কস্তুরী আর র‍্যান্ট। আবার মঞ্জুর ভাই সন্টুও আসছে গাজন দেখতে। ওদের বাড়িতেও এবারের গাজনের দিনগুলো বেশ জমেই যাবে আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতিতে ভেবে বেশ আনন্দই হচ্ছে হিরণের। রামসাগর থেকে তিতারাও আসবে বলে জানিয়েছিল গোবিন্দকে। কিন্তু হিরণ গোবিন্দকে বলেছে তিতাদের আসতে নিষেধ করতে। বলেছে, ওদের বলতে পরের বছর আসতে। এত ছোটো কোয়াটার্সে এতগুলো মানুষের সবার ব্যবস্থা করাই মুশকিলের।
 
গাজনের দিনও বৃষ্টি থামল না। তার মধ্যেই ছাতা মাথায় দিয়ে ওরা সবাই বেরোল গাজন দেখতে। কেবল তো ওরাই নয়। একটা বড়ো দল চলেছে গাজন দেখতে। তাতে যেমন সত্যর সহকর্মীদের পরিবাররা আছে তেমনই আছে বাঙালপাড়ার অনেকজন। ওই জাত কলসের মতোই সবাই মিলে মিশে আছে। সবাই মিলে গিয়ে একটা সরু রাস্তার দু-পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল। প্রচুর মানুষের ভিড়। আশেপাশের গ্রামগঞ্জ থেকে অনেক মানুষ এসেছে। বেলিয়াতোড়েরও স্থায়ী বাসিন্দা যারা তাদের প্রায় অনেকেরই আত্মীয়-স্বজনরা গাজন উপলক্ষ্যে এসেছে। এ এক মহা মিলন মেলা। প্রায় ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে থাকার পরে এল ধর্মরাজের শোভাযাত্রা। কী অপূর্ব সেই শোভাযাত্রার রূপ ! তিনটি শ্বেতবর্ণের ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসছেন তিনজন পুরোহিত। আগলে নিয়ে আসছেন তিন দেবতাকে। ধর্মরাজ, স্বরূপনারায়ণ, মহাদানা। সামনে ভক্তদের ঢল। রয়েছে পাট। রয়েছে জাত কলস। এই শোভাযাত্রা দেখে মন ভরে গেল হিরণের। ফেরার পথে হঠাৎই মঞ্জু বমি করতে শুরু করল। বমির ধরন দেখেই হিরণের মনে হল আবার মনে হয় মঞ্জু সন্তানের জন্ম দিতে চলেছে। ধর্মরাজের গাজন আরও একটা সুসংবাদই বয়ে নিয়ে এল বোধহয় ওর জন্য।
 

♦–♦•♦–♦•♦–♦•♦–♦

আগের পর্ব পড়ুন: হিরণবালা । পর্ব ৩২

হিরণবালা । পর্ব ৩২


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!