Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ২, ২০২৬

নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ, বারুইপুরের সভার র‍্যাম্পে তিন মৃত ভোটারদের হাঁটালেন অভিষেক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ, বারুইপুরের সভার র‍্যাম্পে তিন মৃত ভোটারদের হাঁটালেন অভিষেক

চলতি বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সাজো সাজো রব পড়েছে সব দলেই। এরইমধ্যে নিবিড় জনসংযোগকে হাতিয়ার করে চতুর্থবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ফুলতলা সাগর সংঘ মাঠে মেগা জনসভা দিয়ে জেলা সফরের ধারাবাহিক কর্মসূচী শুরু করলেন তিনি। এদিন, ‘এসআইআর’-এ ‘মৃত’ ভোটারদের র‍্যাম্পে তোলেন তিনি। বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারের বাংলার প্রতি বঞ্চনা, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদের দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ অডিও রেকর্ডিং শুনিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন, ‘এর জবাব বাংলার মানুষ দেবে।’ সবশেষে উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সমস্ত সমস্ত সিটে জয় ও গতবারের তুলনায় রাজ্যের ১ টি সিট হলেও বেশি আসন পাবার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে কার্যত ভোটের রণবাদ্য বাজিয়ে দিলেন তৃণমূলের যুবরাজ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সেই ৩ জনের পরিবার, যাদের এসআইআর খসড়া তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছিল। শফিকুল গাজি, হাফেজ শাহবুদ্দিন এবং আবু তালেব সর্দারের পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে আসেন। ২ জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ, আর ১ জনের বাড়ি কাকদ্বীপ। মঞ্চের র‍্যাম্পে হাঁটানো হয় তাঁদের। অভিষেক বলেন, ‘এঁদের দেখুন, এঁদের নতুন ভোটার তালিকাত মৃত বলে দেখানো হয়েছে।’ সভামঞ্চে হাঁটতে হাঁটতে দলের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একের পর এক লড়াকু বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ। বলেন, ‘কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতেই যেন আমার মৃত্যু হয়। আপনার আশীর্বাদ নিয়ে লড়াই শুরু করলাম।’ নওশাদ সিদ্দিকীর নাম না করেই কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ২০২১-এর চেয়ে তৃণমূলের ভোট ২০২৬-এ বাড়বে। একটা হলেও আসন বাড়বে। সে একটা আসন যেন এই জেলা থেকেই হয়। ভাঙড়ও এবার আমাদের জিততে হবে। যত পরিশ্রমের প্রয়োজন, তা করতে হবে। একত্রে লড়তে হবে। আপনারা যেখানে বলবেন, আমি যাব।’

জনসভায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। সভায় অনন্ত মহারাজ ও শুভেন্দুর অডিও শোনানো হয়। সেখানে শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘’এর চেয়ে তো ইউনূসের সরকার ভাল চলছে।’ অভিষেকের তোপ, ‘বাংলাদেশে নৃশংস ভাবে দীপু দাসকে মারা হয়েছে। বিজেপির নেতা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে সেখানে ভাল ভাবে সরকার চলছে। এরা নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে।’ অনন্ত মহারাজের অডিয়োতে তিনি ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতিকে পাকিস্তানি এবং প্রধানমন্ত্রীকে  বাংলাদেশি বলেছেন বলে অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাদ পড়েন নি প্রধানমন্ত্রীও। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, ‘প্রথমে বছরে ২ কোটি চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ১১ বছরে মোট ২২ কোটি চাকরি পাওয়ার কথা। দেশে ৪,১২৩টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। হিসাব করলে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ভাগে ৫৩ হাজার চাকরি থাকা উচিত। নরেন্দ্র মোদি সরকার যদি প্রমাণ করতে পারে একটিমাত্র বিধানসভাতেও ৫ হাজার চাকরি দেওয়া হয়েছে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’

তাঁর বক্তব্যে ফের উঠে আসে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা। তিনি দাবি করেছেন, গত ৭ বছরে কেন্দ্র বাংলার কাছ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, কিন্তু রাজ্যকে প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও ১০০ দিনের প্রকল্প শুরু হয়নি। গরিবের আবাসের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও রাজ্যে পৌঁছায়নি। এছাড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। এরপর বিজেপিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘বিজেপি শাসিত কোনো রাজ্য যদি মহিলাদের মাসে ১,০০০ টাকা করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দিতে পারে, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রির ঘটনায় হামলা প্রসঙ্গও, বলেন, ‘গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যারা হামলা চালিয়েছে, আমরা সেটার প্রতিবাদ করি। কে কী খাবে, কী বিক্রি করবে, তা ঠিক করবে কেউ অন্যরা কি? বাংলার সংস্কৃতিকে তারা বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন আছেন, বাংলার মানুষকে তারা দমন করতে পারবে না।’ ‘এসআইআর’-এর খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে রণমেজাজে দেখা গেল ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদকে। তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে মৃত দেখানো ভোটার এবং বিএলও-এর পরিবারের খবর এসেছে। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। নির্বাচন কমিশন দায় এড়াতে পারবে না।’ সব মিলিয়ে র‍্যাম্পে সাজানো অভিষেকের এই মেগা সভায় মৃত তালিকার পরিবারদের উপস্থিতি, সরাসরি কেন্দ্র-রাজ্য ও বিজেপি-নিরাপত্তা নিয়ে তোপ, সব মিলিয়ে বারুইপুরের ‘রণসংকল্প সভা’ তৃণমূলের ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের আক্রমণাত্মক সুর যে বেঁধে দিল তা বলাই বাহুল্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!