- Uncategorized এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ১৮, ২০২৬
ইজরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি
ইজরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি। একই সঙ্গে নিহত হয়েছেন লারিজানির ছেলে, সহকারী এবং দেহরক্ষীসহ বেশ কয়েকজন। তেহরানের কাছে নিজের মেয়ের বাড়িতে এক বিমান হামলায় লারিজানি নিহত হয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তেহরানের উত্তর–পূর্বে পারদিসে মঙ্গলবার ভোররাতে নিজের মেয়ের বাড়িতে ছিলেন লারিজানি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে মুর্তজা লারিজানি, নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী আলিরেজা বায়াত এবং বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী। সেই সময় ইজরায়েল সেখানে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায়। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে লারিজানিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আজীবন সেবক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত থাকা ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ ইরানের রাষ্ট্র সমর্থিত গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে যে, হামলাটি লারিজানির মেয়ের বাড়িতে আঘাত হানে। এই হত্যাকাণ্ডটি চলমান সংঘাতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর অন্যতম সরাসরি আঘাত, যেখানে এর আগেও একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ এর আগে বলেছিলেন, ইজরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে লারিজানিও ছিলেন। একই হামলায় ইরানের বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হওয়ার বিষয়টিও ইজরায়েল নিশ্চিত করেছে।
ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রাখবে। সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন বলেছেন, ইজরায়েল ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মোজতবা খামেনির ব্যাপারে কিছু জানি না। তার কথা শুনিও না, তাকে দেখিও না। আমরা তাকে খুঁজে বার করব এবং হত্যা করব।’
লারিজানিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হত, যার প্রভাব রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীতি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। যাদের প্রায়শই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাঁর ভাই সাদেক লারিজানি বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর মোহাম্মদ জাভেদ লারিজানি ছিলেন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক একজন ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা।
লারিজানি নিজে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সংসদের স্পিকার এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধানের পদ। ইরানের পারমাণবিক কৌশল এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনা নির্ধারণে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রধান পারমাণবিক আলোচক হিসেবে তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষেত্রে ইরানের অধিকারকে সমর্থন করেন।
লারিজানি কৌশলগত পরিকল্পনায় ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্বকে পরামর্শ দিতেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে কূটনীতি এখনও সম্ভব। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’ যদিও কট্টরপন্থীর চেয়ে বেশি বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত। লারিজানি ইরানের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
তাঁকে বিদেশের কূটনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হত। তবে, এই ভূমিকা সমালোচনার জন্ম দেয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমনের ক্ষেত্রে তাঁর কথিত ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র লারিজানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যেখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। এক মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়, লারিজানি এই দমনপীড়নের অগ্রভাগে ছিলেন।
❤ Support Us








