- দে । শ
- মে ১৬, ২০২৬
নির্বাচনের পর প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক পবিত্রতায় গুরুত্ব বিজেপি রাজ্য সভাপতির
বিধানসভা ভোটের পর প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকেই দলীয় শৃঙ্খলা, সংগঠনের সজ্জা এবং প্রশাসনিক ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখার বার্তা আরও কড়া ভাষায় দিল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। শুক্রবার বিধাননগরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, সহকারী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সংগঠন সম্পাদক-সহ অন্যান্য রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা সভাপতি এবং জেলা ইনচার্জরা।
বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দলের কেউ অত্যাচার, তোলাবাজি বা কোনও ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিজেপি পিছপা হবে না। সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে সাংগঠনিক পদাধিকারী কিংবা নবনির্বাচিত বিধায়ক — কেউই রেহাই পাবেন না। এমনকি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে দলের বিধায়ক সংখ্যা কিছু কমে গেলেও তা নিয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই বলেও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলও সংগঠনের গাফিলতি নিয়ে কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, অতীতের ভুলত্রুটি একবারের জন্য ক্ষমা করা হলেও ভবিষ্যতে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। সাংগঠনিক ফাঁকফোকর দ্রুত মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেন তিনি।
তবে বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দলীয় ব্যানারে নেতৃত্বের ছবির বিন্যাস নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের আপত্তি। বিজেপির সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যে দলীয় কর্মসূচির ব্যানারের একদিকে থাকে প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতির ছবি। অন্যদিকে থাকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের দুই শীর্ষ নেতার ছবি।
এতদিন পশ্চিমবঙ্গে সেই ব্যানারে প্রথমে থাকত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ছবি এবং তার পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। কিন্তু শুক্রবারের বৈঠকে শমীক নিজেই সেই বিন্যাসে আপত্তি তোলেন বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। তিনি নির্দেশ দেন, ভবিষ্যতে দলীয় ব্যানারে রাজ্য নেতৃত্বের ছবি বসানোর ক্ষেত্রে প্রথমে বিরোধী দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর ছবি থাকবে, তার পরে থাকবে তাঁর নিজের ছবি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যানারের নকশা বদল নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের অবস্থান ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ারই ইঙ্গিত।
❤ Support Us






