- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- মে ২২, ২০২৬
২২ বছর পর আবার ভারত সেরা ইস্টবেঙ্গল
২০০৪ সালে শেষবার জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এরপর জাতীয় লিগের নাম বদলে আই লিগ। তারপর আইএসএল। মাঝে কেটে গেছে ২২টা বছর। একের পর এক মরশুম অতিক্রান্ত, ২৭ বার কোচ বদল। তাতেও সাফল্য আসেনি। অবশেষে অস্কার ব্রুজোর হাত ধরে স্বপ্নপূরণ। শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোলদুটি করেন ইউসুফ ইজেজারি ও মহম্মদ রশিদ।
ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে এদি ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন। দর্শক ভর্তি কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে এদিন ভাল শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ২ মিনিটেই দুর থেকে গোল লক্ষ্য করে জোরালো শট নিয়েছিল ইউসেফ ইজেজারি। অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মিনিট চারেক পরই মিগুয়েলের দুরন্ত বাইসাইকেল ভলি গোলে ঢোকার মুখে কোনও রকমে বাঁচান নরেন্দর গোহলট। কিছুক্ষণ পরেই গোটা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। ১৫ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে গোল করেন আলফ্রেড প্লানাস। ডেভিড মুনজোর সেন্টার ধরে দুরন্ত ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন।
পিছিয়ে পড়ে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। মিনিট দুয়েক পরেই সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল। রাকিপের দুরন্ত সেন্টার যখন ইন্টার কাশীর বক্সে এসে পড়ে, তখন ইস্টবেঙ্গলের কোনও ফুটবলার পৌঁছতে পারেননি। ২৩ মিনিটে বিপিন সিংয়ের দুরন্ত সেন্টার সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েও বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ইউসুপ ইজেজারি। পরের মিনিটেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল ইন্টার কাশীর সামনে। আনোয়ারকে পরাস্ত করে শট নিয়েছিলেন আলফ্রেড। কোনও রকমে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান প্রভসুখন গিল। ৩৪ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন মিগুয়েল। পরের মিনিটেই আবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল ইন্টার কাশীর সামনে। কোনও রকমে বাঁচান লাল–হলুদ গোলকিপার। প্রথমার্ধে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে ইন্টার কাশী।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ৫০ মিনিটে সমতাও ফেরায়। আনোয়ার আলির ডিফেন্স চেরা থ্রু ধরে ইন্টার কাশী গোলকিপারকে পরাস্ত করে ফাঁকা জালে বল পাঠান ইস্টবেঙ্গলের সেই মুশকিল আসান ইজেজারি। সমতা ফেরার পর থেকেই গর্জে ওঠে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। আর সেই গর্জনেই উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন লাল–হলুদ ফুটবলাররা। এই সময় দু–দুটি পরিবর্তন করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। জয় গুপ্তা ও পিভি বিষ্ণুর পরিবর্তে মাঠে নিয়ে আসেন লালচুংনুঙ্গা ও নমন্দকুমারকে। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে।
৬১ মিনিটে নন্দকুমারের সামনে গোলের সুযোগ এসেছিল। কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেন কাশী গোলকিপার শুভম দাস। ৭১ মিনিটে ইজেজারি ও আনোয়ারকে তুলে সোজবার্গ ও সৌভিককে মাঠে নিয়ে আসেন ব্রুজো। এরপরই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বিপিন সিংয়ের সেন্টার ধরে বাঁপায়ের দুরন্ত শটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন মহম্মদ রশিদ। বাকি সময় বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে ইন্টার কাশীকে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগই দেননি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের।
❤ Support Us








