Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • মে ১৮, ২০২৬

ডার্বিতে শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে ভেসে রইল পালতোলা নৌকা, প্রথমবার আইএসএল জেতার বড় সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ডার্বিতে শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে ভেসে রইল পালতোলা নৌকা, প্রথমবার আইএসএল জেতার বড় সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের

ম্যাচ শেষ হত তখন মিনিট পাঁচেক বাকি। মিগুয়েলের ডিফেন্স চেরা থ্রু। শুভাশিস বসু ও মেহতাব সিংয়ের মাঝখান দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে এসে মিগুয়েলের সেই লাখ টাকার থ্রু ধরে মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান এডমুন্ড লালরিনডিকা। ইস্টবেঙ্গল কোচ ও ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছিল আইএসএল ট্রফি বোধহয় ঘরে তুলেই ফেলেছে।

কিন্তু শেষ অঙ্কের দৃশ্যটা তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ব্যাপারে মোহনবাগানের দারুণ সুনাম আছে। রবিবাসরীয় ডার্বিতেও তার প্রমাণ। ম্যাচের ৯০ মিনিটের মাথায় দিমিত্রি পেত্রাতোসের কর্নার প্রথম পোস্টের সামনে থেকে দুরন্ত হেডে সমতা ফেরালেন জেসন কামিন্স। কামিন্স শুধু সমতাই ফেরাননি, মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়নের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখলেন। লিগ টেবিলের যা পরিস্থিতি ইস্টবেঙ্গল ছাড়াও মোহনবাগান, মুম্বই সিটি এফসি–র সামনেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ।

রবিবাসরীয় ডার্বিতে ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট মোহনবাগানেরই দাপট ছিল। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন আপুইয়া, সাহাল আব্দুল সালাম, জেমি ম্যাকলারেন, মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসোরা। লাল–হলুদ রক্ষণে তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। যদিও ম্যাচের প্রথম সুযোগটা এসে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। ৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণে হঠাৎ বল পেয়ে গিয়েছিলেন পিভি বিষ্ণু। তিনি গোলে শট নেওয়ার আগেই পেছন থেকে এসে বল ক্লিয়ার করেন আপুইয়া। পরের মিনিটেই সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের সামনে। আনোয়ার আলির ভুলে বল পেয়ে গিয়েছিলেন মনবীর সিং। বক্সের মধ্যে ঢুকে সেন্টার করেছিলেন। ফাঁকায় দাঁড়ানো সাহাল আব্দুল সামাদ বলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ভলি নেওয়ার মুহূর্তে পেছন থেকে ছুটে এসে মহম্মদ রাকিপ কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান।

১৪ মিনিটে আবার সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের সামনে। সোজবার্গের শট টম অলড্রেডের পায়ে লেগে পোস্টে লেগে ফিরে না এলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। ২২ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। দিনের সহজতম সুযোগ নষ্ট করেন বিপিন সিং। তিনি চেষ্টা না করে পাশে সোজবার্গকে পাস দিলে অনায়াসে গোল হতে পারত। ২৪ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া অনিরুদ্ধ থাপার ভলি বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। ৩৭ মিনিটে মিগুয়েলের দুর্দান্ত থ্রু ধরে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে সামনে শুধু মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথকে পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন সোজবার্গ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই অবশ্য মোবনবাগানের দাপট। ৪৯ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও এসেছিল। ইস্টবেঙ্গলের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান প্রভসুখন গিল। ৫৬ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ফ্রিকিক অল্পের জন্য বাইরে যায়। এরপরই সোজবার্গ ও বিষ্ণুকে তুলে ইউসেফ ইজেজারি ও এডমুন্ডকে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ে। ৬৮ মিনিটে মিগুয়েলের শট ঝাঁপিয়ে কোনও রকমে বাঁচান বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে তিন বিদেশি পেত্রাতোস, রবসন ও কামিন্সকে মাঠে নিয়ে আসেন মোহনবাগান কোচ লোবেরো। তারপর ৮৫ মিনিটে এডমুন্ডের গোল। আর ৯০ মিনিটে কামিন্সের সমতা ফেরানো।

১২ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট পেয়ে লিগে টেবিলের শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানেরও ২৩ পয়েন্ট। কিন্তু গোল পার্থক্যে শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল (‌+‌৫)‌। পাঞ্জাব এফসি ও মুম্বই সিটি এফসি–র পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ২২। শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে হারালেই চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। আর মোহনবাগান শেষ ম্যাচে খেলবে দিল্লি এফসি–র বিরুদ্ধে। মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শেষ ম্যাচে জেতার পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলকে পয়েন্ট হারাতে হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!