- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১১, ২০২৬
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের রাজ্যসভায় মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সংসদে অভিষেক পবন খেরার। কর্নাটকের চার আসনের তিনটি কংগ্রেসের, মধ্যপ্রদেশে বিজেপির তিন
ভোটাভুটির প্রয়োজনই পড়ল না। মনোনয়ন যাচাই, প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হতেই কর্নাটকের রাজ্যসভা নির্বাচনের ফল কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণের ওই রাজ্য থেকে সংসদের উচ্চকক্ষের চারটি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন চার প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে, দলের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা, এআইসিসি-র সম্পাদক মনসুর আলি খান এবং বিজেপির এম নাগরাজা।
বৃহস্পতিবার কর্নাটক বিধানসভার সচিব তথা রাজ্যসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার এম কে বিশালাক্ষী আনুষ্ঠানিক ভাবে চার জনকেই নির্বাচিত বলে ঘোষণা করেন। আগামী ২৫ জুন বর্তমান সাংসদদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সদস্যদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলো। এর ফলে ১৮ জুন নির্ধারিত ভোটগ্রহণের আর প্রয়োজন রইল না।
রাজনৈতিক ভাবে এ নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে আরও একবার কর্নাটক থেকে রাজ্যসভায় ফিরছেন। এর আগে ২০২০ সালের জুন মাসেও তিনি একইভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে বার তাঁর সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছিলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা জনতা দল (সেকুলার)-এর প্রতিষ্ঠাতা নেতা এইচ ডি দেবেগৌড়া এবং বিজেপির ইরান্না কাদাদি ও নারায়ণ কোরাগাপ্পা। আগামী ২৫ জুন তাঁদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
চলতি নির্বাচনে চারটি আসনের জন্য প্রথমে মোট পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন নির্দল প্রার্থী। ফলে শুরুতে নির্বাচনী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময়ে ওই নির্দল প্রার্থীর কাগজপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে দেন। এর পর আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি না হওয়ায় চারটি আসনের জন্য চার জন প্রার্থীই থেকে যান। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করা হয়।
এই ফলাফলে কর্নাটকের শাসকদল কংগ্রেস তিনটি আসন নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিজেপি পেয়েছে একটি আসন। কংগ্রেসের নির্বাচিত তিন জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন খাড়্গে। বর্তমানে তিনি শুধু কংগ্রেস সভাপতি নন, রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। ২০২২ সালে কংগ্রেস সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময়ে দলের ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বিরোধী দলনেতার পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেসময় অন্তর্বর্তী সভাপতি সনিয়া গান্ধী তাঁকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে কংগ্রেস সভাপতির পাশাপাশি রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তাঁর পুনর্নির্বাচনের ফলে সে অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, এই নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক পবন খেরার সংসদীয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক অভিষেক। দীর্ঘ দিন ধরে কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত খেরা এ বার প্রথম বার সংসদের সদস্য হচ্ছেন। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় স্তরে দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী ‘ওয়ার রুম’-এর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর রাজ্যসভায় প্রবেশকে কংগ্রেসের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন শক্তি সঞ্চারের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
কংগ্রেসের তৃতীয় নির্বাচিত প্রার্থী মনসুর আলি খানও দলের সংগঠনিক পরিসরে পরিচিত মুখ। এআইসিসি-র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কে রহমান খানের পুত্র। কর্নাটকে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী এম নাগরাজা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছেন। সংখ্যার বিচারে কর্নাটক বিধানসভায় কংগ্রেসের বিপুল শক্তির সামনে বিজেপির পক্ষে একাধিক আসন জেতা সম্ভব ছিল না। সে বাস্তবতাই শেষ পর্যন্ত রাজ্যসভা নির্বাচনের ফলেও প্রতিফলিত হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হতাশাজনক ফলাফলের প্রেক্ষাপটে কর্নাটক থেকে দলের তিন জন গুরুত্বপূর্ণ নেতার রাজ্যসভায় যাওয়া নেতৃত্বের কাছে স্বস্তির বার্তা। বিশেষ করে খড়্গের পুনর্নির্বাচন এবং পবন খেরার মতো আক্রমণাত্মক বক্তার সংসদের উচ্চকক্ষে প্রবেশ আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে কর্নাটকের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশেও রাজ্যসভা নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। সেখানে তিনটি আসনের জন্য বিজেপির তিন প্রার্থী— দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ, রাজ্য সম্পাদক রজনীশ আগরওয়াল এবং প্রাক্তন রাজ্য মৎস্যজীবী কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান মহেশ কেওয়াত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের নির্বাচন ঘিরে অবশ্য শেষ মুহূর্তে আইনি টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। কংগ্রেসের তেলঙ্গানা-প্রভারি মীনাক্ষী নটরাজন তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন শুরু হয়ে গেলে সাধারণত বিচার বিভাগ সে প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না। যদিও নটরাজনের আবেদন বিস্তারিত শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে শীর্ষ আদালত।
❤ Support Us







