Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ১২, ২০২৬

‘ডবল ইঞ্জিন-এর সুফল পাচ্ছে বাংলা’ – দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। টাটাকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি 

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘ডবল ইঞ্জিন-এর সুফল পাচ্ছে বাংলা’ – দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। টাটাকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি 

নতুন সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পেরোয়নি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা অনুভব করতে শুরু করেছেন। আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেটে সেই পরিবর্তনের আরও স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাবে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন মোদি সরকারের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক দিকে যেমন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। পশ্চিমবঙ্গে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারের আগামী দিনের রূপরেখাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে বহু প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগোতে শুরু করেছে। তাঁর দাবি, ‘পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সরকারের মাত্র এক মাস হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই সাধারণ মানুষ ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল শুরু করেছেন। চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই বাংলার মানুষ নিজেরাই সরকারের কাজের প্রচার করবেন। তখন আর আলাদা করে প্রচারের প্রয়োজন হবে না।’

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এক মাসের মধ্যেই ১ কোটিরও বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জনগণনার কাজও শুরু হয়েছে। আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে যে সমস্ত প্রকল্প আটকে রেখেছিল, সেগুলি আমরা দ্রুত চালু করেছি।’ মমতা ব্যানার্জির আমলে সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। বিশেষ করে ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পে ২৭ হাজার কোটি টাকা লুটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বহু জায়গায় কল বসানো হলেও জল পৌঁছয়নি মানুষের ঘরে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছে। একই সঙ্গে মনরেগা প্রকল্পে ৭০০ কোটি টাকার বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের জন্য সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, সূর্য ঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনার কাজও রাজ্যে শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের মূল মন্ত্র ‘ভোকাল ফর লোকাল’। আত্মনির্ভর এবং স্বাবলম্বী বাংলা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এর পরেই রাজ্যের আসন্ন বাজেট নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী ২২ জুনের বাজেটে রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং উন্নয়নের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তাঁর কথায়, ‘সে দিন আপনারা বুঝতে পারবেন, কী ভাবে এই সরকার আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।’ বাংলার শিল্পায়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পের ক্ষেত্রে জমি-সংক্রান্ত সমস্যাকেই রাজ্যের সবচেয়ে বডড়ো বাধা হিসেবে দেখা হয়েছে। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতা এখনো রাজ্যের রাজনৈতিক স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, নতুন সরকার শিল্পায়নের জন্য জমিকে কোনও বাধা হতে দেবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, জোর করে জমি অধিগ্রহণের পথেও সরকার হাঁটবে না। তাঁর বক্তব্য, ‘নন্দীগ্রামের মতো গুলি চালিয়ে বা সিঙ্গুরের মতো সংঘাত তৈরি করে শিল্প আনতে হবে না। মানুষ উন্নয়ন চায়, কর্মসংস্থান চায়। স্বচ্ছতা এবং আস্থার ভিত্তিতে শিল্পের জন্য জমি পাওয়া সম্ভব।’

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য বহু মানুষ স্বেচ্ছায় জমি দিতে এগিয়ে এসেছেন। হাসপাতাল নির্মাণ, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, রেল প্রকল্প কিংবা বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমির ক্ষেত্রেও সরকার কোনো বাধার মুখে পড়েনি। তাঁর মতে, উন্নয়নের সুফল মানুষ বুঝতে পারলে জমি নিয়ে অযথা সংঘাতের প্রয়োজন পড়ে না। প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতিরও সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বিনিয়োগের নামে বহু ঘোষণা হলেও বাস্তবে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি। ‘আমি শিল্প সম্মেলন করে শুধু ছবি তুলতে চাই না। বাস্তবে শিল্প চাই, কর্মসংস্থান চাই’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে টাটা গোষ্ঠীকে ফের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু শিল্প নয়, কর্মসংস্থান নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের যুবসমাজ বেকারত্ব থেকে মুক্তি চায়, নতুন সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। আগামী বাজেটে শিল্প ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিন, শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। শুভেন্দুর বক্তব্য, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদি আজ ভারতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নয়, নিজেকে ‘প্রধান সেবক’ বলতেই বেশি পছন্দ করেন মোদিজি। দেশের মানুষের সেবাকেই তিনি নিজের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। এ বয়সেও প্রতিদিন যে নিষ্ঠা, শ্রম আর দায়বদ্ধতার সঙ্গে তিনি কাজ করে চলেছেন, তা সকলের কাছে শিক্ষণীয়।’ শুভেন্দুর দাবি, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটেছে। আবাস যোজনা থেকে অন্ন যোজনা, নারী সুরক্ষা থেকে নারী ক্ষমতায়ন— একাধিক ক্ষেত্রে বাস্তব পরিবর্তন এসেছে। তাঁর মতে, ‘নরেন্দ্র মোদি একটানা দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশসেবা করেছেন। তিনি ভারতবর্ষকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। রাষ্ট্র নির্মাণ এবং উন্নয়নের যে যাত্রা ২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল, তা আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

কেন্দ্র সরকারের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, গত এক দশকে দেশে প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ১৬৪টিরও বেশি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটছে। তাঁর দাবি, এক সময় রাজধানী বা শতাব্দী এক্সপ্রেসই ছিল আধুনিক রেল পরিষেবার প্রতীক, কিন্তু আজ বন্দে ভারত ট্রেন নতুন ভারতের আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, গত ১২ বছরে ১,৩১৭টিরও বেশি রেলস্টেশন নতুনভাবে তৈরি বা আধুনিকীকরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রেলের পাশাপাশি দেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে দেশে বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৪। বর্তমানে সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। গত এক যুগে ৯০টিরও বেশি নতুন বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এবং দুর্গম অঞ্চলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন বেড়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও পরিবর্তন এসেছে।

ডিজিটাল অর্থনীতি, উৎপাদন শিল্প ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, আজ ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশ। ৮২ কোটি মানুষকে বিনামূ’ল্যে খাদ্যশস্য দেওয়া হচ্ছে। দেশের দুধ উৎপাদন ৬১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন ও মানুষের বিশ্বাসের এই যাত্রা আর থামার নয়।’ এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য পশ্চিমবঙ্গ সফরের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারকেশ্বরে আসতে পারেন। সেখান থেকে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করবেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!