Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২০, ২০২৬

রাজ্য বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনেই কালনা সেতুর জন্য বরাদ্দ ১৮০০ কোটি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্য বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনেই কালনা সেতুর জন্য বরাদ্দ ১৮০০ কোটি

পূর্ব বর্ধমানের কালনার সঙ্গে নদিয়ার শান্তিপুরের মাঝে ভাগীরথীর উপর সেতু তৈরির ঘোষণা রাজ্য বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই। বরাদ্দ ১৮০০ কোটি টাকা। রাজ্যপালের এই ঘোষণার সূত্র ধরেই কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বললেন, ‘ভোটের প্রচারে যখন বলেছিলাম বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় এলে এই বছরেই ব্রিজের কাজ শুরু হবে। ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। অনেকে হেসেছিলেন। রাজ্যপালের ঘোষণায় প্রমাণ হল বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিলে তা পালন করে।’ সেতুর বরাদ্দ ঘোষণার আনন্দে কালনায় লাড্ডু বিলি করেন বিজেপি কর্মীরা।

প্রশাসন সূত্রের খবর সেতুটি তৈরির জন্য পূর্ত দফতর এবং পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়ার প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়েছে। কালনা ২নং ব্লকের সাহাপুর মৌজায় মাটি পরীক্ষার কাজও করে গিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেতুর ২ দিকে সামান্য পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। সিদ্ধার্থবাবু বলেন, ‘যেটুকু সমস্যা আছে, তা দ্রুত মিটে যাবে।  সেতুটি তৈরি হলে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হবে।’

এখানে সেতু তৈরির উদ্যোগ বাম জমানায়। মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৮ সালে কালনায় প্রশাসনিক সভা করতে এসে এই সেতুর কথা ঘোষণা করেন। তারপর কালনার দিকে ২নং ব্লকের সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের পূর্ব সাহাপুর, কুলিয়াদহ, বারাসত ও হাঁসপুকুর মৌজার ১৩১টি প্লটে প্রায় ৪৮ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। বাজার দরের থেকে বেশি দর দেওয়ায় কৃষকরা জমি দিতেও আগ্রহী হন। কিন্তু সেতু নির্মাণের উদ্যোগ ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে যায়। এবারের ভোটের প্রচারে অবশ্য বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলই সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়। জানা গেল এ পর্যন্ত ৪টি মৌজা থেকে মোট সাড়ে ৪৬ একর জমি কেনা হয়েছে। যা প্রয়োজনের ৯৮ শতাংশ। খরচ হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা। দর বেশি হওয়ায় হাঁসপুকুর মৌজার অনিচ্ছুক ৪ জন কৃষক জমি দিতে রাজি হয়েছেন। পরিমাণ প্রায় ১০ শতক। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘সেতু হলে পূর্ব বর্ধমানের সঙ্গে নদিয়ার দূরত্ব অনেকটাই কমে যাবে। পর্যটনের উন্নতি হবে। মোটের উপর অর্থনৈতিক অবস্থারও হাল ফিরবে। এ পার থেকে ও পার যেতে সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট।’ ভাগীরথীর ২ পাড়ের কালনা আর শান্তিপুরের সিংহভাগ মানুষের কথায়, তৃণমূলের সরকার ঘোষণা করলেও কাজ শুরু করতে পারেনি। বর্তমান বিজেপি সরকার যদি এটা করতে পারে তাহলে যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন অভিমুখ তৈরি হবে। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব সেতুটির কাজ সম্পন্ন হোক। ২০১৬ সালে কালনায় ভবা পাগলার মেলা দেখে শান্তিপুর ফেরার সময় নৌকাডুবিতে ২০ জনের সলিল সমাধি হয়। তারপর থেকেই এখানে সেতু তৈরির দাবি জোরাল হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!