Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২০, ২০২৬

প্রকাশিত হবে ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট, ঘোষণা শুভেন্দুর । মমতা সরকারের ১৫ বছরের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রকাশিত হবে ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট, ঘোষণা শুভেন্দুর । মমতা সরকারের ১৫ বছরের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের মহাকরণ অভিযান ও পুলিশি গুলিচালনার ঘটনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিচারবিভাগীয় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলেই তথ্যপ্রমাণ-সহ ওই রিপোর্ট সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে ২১ জুলাই কমিশন গঠন করেছিল, সেই কমিশনের সুপারিশগুলি গত ১৫ বছরে কতটা কার্যকর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ২১ জুলাই উপলক্ষে তৃণমূলের তিনটি আলাদা গোষ্ঠী পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। কালীঘাটের তৃণমূলের মূল কর্মসূচি হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর কর্মসূচি রয়েছে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। দিল্লির রাজঘাটে ২১ জুলাই পালন করবেন লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতারা, যাঁরা সম্প্রতি এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন।
এই কর্মসূচির ঠিক আগের দিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন ওড়িশা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। কমিশন ৩০০-র বেশি সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করেছিল এবং একাধিক সুপারিশ জমা দিয়েছিল। তবে সেই রিপোর্ট এত দিন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা আগামীকাল ২১ জুলাই পালন করবেন এবং যাঁরা ১৫ বছর সরকারে ছিলেন, তাঁরা বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের কমিশনের সুপারিশ কতটা কার্যকর করেছেন এবং কতটা করেননি, তা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বাংলার মানুষের সামনে তুলে ধরব।”
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন কংগ্রেস যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মহাকরণের দিকে এগোনোর সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে মিছিল। অভিযোগ ওঠে, পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই নিহতদের স্মরণেই প্রতি বছর ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ পালন করে তৃণমূল। কংগ্রেসও আলাদা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করে।
২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই ঘটনার তদন্তের জন্য নতুন করে কমিশন গঠন করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কমিশন দীর্ঘ শুনানি শেষে রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে না আসায় দীর্ঘদিন ধরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল।
সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম মুখ এবং এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৩ সালের গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পরবর্তী সময়ে আড়াল করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এবং মমতা সরকারের আমলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
রবিবার এনসিপিআই একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, তারা দিল্লির রাজঘাটে ২১ জুলাই পালন করবে। ওই বিবৃতির মাধ্যমেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার ফের কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানান। তাঁর দাবির পরের দিনই শুভেন্দু অধিকারী রিপোর্ট প্রকাশের ঘোষণা করায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন নজর থাকবে, প্রকাশিত রিপোর্টে বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কমিশন কী কী সুপারিশ করেছিল এবং দীর্ঘ ১৫ বছরে সেই সুপারিশগুলির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে— তা নিয়ে কী তথ্য সামনে আসে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!