- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২৯, ২০২৬
১.২৬ কোটি টাকায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে অধিগ্রহণ, জিরাটে গড়ে উঠছে সংগ্রহশালা, গ্রন্থাগার ও স্মৃতি উদ্যান
নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হুগলির বলাগড়ের জিরাটে অবস্থিত পৈতৃক ভিটে সংস্কার করে সেখানে একটি সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক বসতবাড়িটি চার উত্তরসূরির কাছ থেকে সরাসরি কিনে নিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধীনে আনা হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি এখন সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।
৩ জুন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জিরাটের এই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৯ জুন হুগলির স্পেশাল ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অফিসারের নেতৃত্বে জেলার ‘ডাইরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ কমিটি’-র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই, ৩ জুলাই কলকাতার ‘রেজিস্ট্রার অফ অ্যাসিওরেন্স’-এর দপ্তরে জমির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। একই দিনে চার শরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্রয়মূল্যের অর্থও স্থানান্তর করা হয়।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর মোট ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮২২ টাকায় সম্পত্তিটি ক্রয় করেছে। বসতবাড়ি-সহ জমির পরিমাণ ০.৩০১৭৯ একর। এর মধ্যে জমির মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা এবং বাড়ির কাঠামোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। জমির মালিকানা হস্তান্তরের প্রশাসনিক খরচ বাবদ আরও প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুমনা সরকার জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারে অমিত শাহ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার তা দ্রুত বাস্তবায়ন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বাড়ির সব শরিকের সঙ্গে আলোচনা করে রেকর্ড সময়ের মধ্যেই মালিকানা বদলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংগ্রহশালা তৈরির প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে।
রাজ্য সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও সম্মান জানাতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং দিনটি মহাসমারোহে পালন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য বাজেটে জিরাটের পৈতৃক ভিটেতে ১২৫ ফুট উঁচু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি নির্মাণ, পুরোনো বাড়ির আমূল সংস্কার এবং আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে একটি আধুনিক সংগ্রহশালা, গ্রন্থাগার, স্মৃতি উদ্যান (পার্ক) এবং একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাই বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাতি বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই সম্পত্তির দেখাশোনা করতেন। জিরাটে ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামে একটি স্কুল ও গ্রন্থাগার থাকলেও এতদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে উল্লেখযোগ্য কোনও সরকারি স্মৃতিসৌধ ছিল না। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের উদ্যোগে একটি ছোট মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। এবার সরকারি উদ্যোগে তাঁর পৈতৃক ভিটেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক স্মৃতিক্ষেত্র ও সংগ্রহশালায় রূপান্তর করার কাজ শুরু হয়েছে।
❤ Support Us







