Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২৯, ২০২৬

লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস অ্যান্টি-পেপার লিক সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে ১০ বছরের জেল ও ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার প্রস্তাব

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস অ্যান্টি-পেপার লিক সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে ১০ বছরের জেল ও ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার প্রস্তাব

দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে রুখতে কেন্দ্র সরকার বড় পদক্ষেপ নিল। তীব্র হট্টগোল ও বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই বুধবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়ে গেল ‘দ্য পাবলিক একজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’, যা সাধারণভাবে অ্যান্টি-পেপার লিক বিল ২০২৬ নামে পরিচিত। বৃহস্পতিবার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করা হবে।

এনটিএ (NTA) বিতর্ক এবং দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের জন্য বাড়ছে শাস্তি :

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আগে এই শাস্তির মেয়াদ ছিল ৩ থেকে ৫ বছর। পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংস্থার বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা :

কোনও বেসরকারি সংস্থা বা সার্ভিস প্রোভাইডার যদি প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে। আগে এই সীমা ছিল ১ কোটি টাকা। এছাড়া অভিযুক্ত সংস্থাকে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ (ব্যান) করার বিধানও রাখা হয়েছে।

ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রস্তাব :

প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ধরনের বিশেষ আদালত গঠনের ঘোষণা করেছিলেন।

সিবিআই চার্জশিট গ্রহণ করল বিশেষ আদালত :

এদিনই নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় সিবিআইয়ের জমা দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছে দিল্লির বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা মোট ১৩ জন গ্রেফতার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল।
সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে মামলার অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার জন্য আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে আরও তিন দিনের সময় দিয়েছে।

সিবিআই চার্জশিটে কী দাবি করা হয়েছে ?

চার্জশিটে সিবিআই দাবি করেছে, প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের থেকে শুরু করে সুবিধাভোগী পরীক্ষার্থী পর্যন্ত গোটা ষড়যন্ত্রের চক্রের সন্ধান তারা পেয়েছে। তদন্তে অপরাধের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সিবিআই তাদের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কোনও সরকারি আধিকারিক বা শীর্ষ পদস্থ কর্তাব্যক্তি সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত নন।

তদন্তে উঠে এসেছে, এনটিএ-র চুক্তিভিত্তিক রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা তিনজন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকই এই চক্রের মূল অভিযুক্ত। অভিযোগ, তাঁরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দালাল ও কোটি টাকার লেনদেনকারী চক্রের হাতে আগাম প্রশ্নপত্র তুলে দিয়েছিলেন।

চার্জশিটে ওই তিন শিক্ষক ছাড়াও একাধিক মিডলম্যান (দালাল) এবং দুটি নামী কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সংগঠিত চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের দিকেই ইঙ্গিত করছে সিবিআইয়ের তদন্ত।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!