- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৩, ২০২৬
বদলের বাংলায় বিজেপি সরকারের ১০০ দিন, ২০ আগস্ট রাজ্যে আসতে পারেন অমিত শাহ
গত ৪ মে বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে রাজ্য। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। আগামী ১৯ আগস্ট এই সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে। আর সে আবহেই তিন দিনের সফরে বাংলায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সূত্রের খবর, আগামী ২০ আগস্ট কলকাতায় আসার কথা রয়েছে অমিত শাহের। ২১ ও ২২ আগস্ট তাঁর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচি থাকতে পারে। এ সফরে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার সম্ভাবনাও রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। জানা যাচ্ছে, প্রশাসনিক বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অমিত শাহ নবান্নেও যেতে পারেন বলে খবর। সেখানে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। ফলে ১০০ দিন পূর্তির আবহে শাহের প্রশাসনিক কর্মসূচিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও জানা যাচ্ছে, ২২ আগস্ট শিলিগুড়ি সফরে যেতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২২ আগস্ট শিলিগুড়ি সফরে যেতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে কাভাখালিতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করবে রাজ্য সরকার। বাংলায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নতুন আইন প্রণয়ন-সহ সরকারের বিভিন্ন কাজ ও সাফল্য ওই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। গত সপ্তাহে দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা এবং রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানিয়েছিলেন, অমিত শাহ শীঘ্রই পাহাড় সফরে আসবেন।
দার্জিলিং-সহ একাধিক পাহাড়ি জনপদে ‘গোর্খাল্যান্ড’-এর দাবি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচির ছবি সামনে এসেছে। ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর দাবি নিয়েও নতুন করে সরব হয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। ফলে অমিত শাহের সফরকে ঘিরে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে— দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গোর্খাল্যান্ডের দাবি এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নে কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে কোনো বার্তা দেন কি না, সে দিকেই নজর সকলের। যদিও এবারের সফরে শাহ সরাসরি পাহাড়ে যাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অমিত শাহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর পরিদর্শন করেছিলেন। সেখানে তিনি উচ্চপর্যায়ের তিনটি বৈঠকেও যোগ দেন। ওই বৈঠকগুলির শাহের বার্তা ছিল, গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত আরও শক্তিশালী করতে হবে।
অন্যদিকে, এ সফরে দলীয় সংগঠন নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে পারেন অমিত শাহ। বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকও রয়েছে। তিন দিনের সফরে ওই বৈঠকগুলিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংগঠনের ভিতরে থাকা ‘বেনোজল’ সরাতে শুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় জোর দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। নিচুতলায় তোলাবাজি, দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড হওয়া নেতা-কর্মীর সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। সংগঠনের এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।
দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে যেসব জেলা সভাপতির উপর দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের অনেকেই প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে এবার জেলা স্তরেও বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে বঙ্গ বিজেপি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই ১২ জনেরও বেশি জেলা সভাপতিকে সরানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ পরিস্থিতিতে অমিত শাহের সফর এবং বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি ও রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি সরকারের ১০০ দিনের কাজের পর্যালোচনা, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় এবং দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল— শাহের তিন দিনের বাংলা সফরে এই বিষয়গুলিই বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
❤ Support Us







