- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৩, ২০২৬
মহারাষ্ট্রে সুখবীর সিং বাদলের উপর হামলা, হাসপাতালে ভর্তি অকালি দলের প্রধান
মহারাষ্ট্রের নান্দেড়ে গুরুদ্বার দর্শনের পর হামলার শিকার হলেন শিরোমণি অকালি দলের প্রধান, পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদল। তাঁকে তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তবে তাঁর হাতে চোট লেগেছে।
বুধবার রাতে নান্দেড়ে পৌঁছেছিলেন সুখবীর। বৃহস্পতিবার পরিবারের সঙ্গে তিনি হাজির হন তখ্ত ‘সচখণ্ড শ্রী হাজুর অবচলনগর সাহিব’-এ। গুরুদ্বার দর্শনের কিছুক্ষণ পরেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, এক ব্যাক্তি সুখবীরের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। হামলার সময় সুখবীরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রধান তাঁকে আড়াল করতে দ্রুত সামনে চলে আসেন। ফলে হামলাকারীর আঘাত সরাসরি সুখবীরের শরীরে না লেগে তাঁর হাতে লাগে। তবে সুখবীরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ওই নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
হামলার পরের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সুখবীরের ডান হাতে কাপড় জড়ানো রয়েছে। আহত অবস্থাতেও তাঁকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে তাঁকে নান্দেড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে বিপদ মুক্ত বলে জানিয়েছেন। ঘটনার সময় সুখবীরের স্ত্রী, অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদল তাঁর সঙ্গে ছিলেন। হরসিমরত নান্দেড়ে পরিবারের সঙ্গে সুখবীরের সফরে গিয়েছিলেন।
হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হামলাকারী কী ভাবে নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে সুখবীরের এত কাছে পৌঁছলেন, হামলার ঠিক আগে ও পরে কী ঘটেছিল, এবং এই ঘটনার পিছনে কোনো সুপরিকল্পত ষড়যন্ত্র ছিল কি না— সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীর পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হামলাকারী এক নিহঙ্গ শিখ। তাঁর হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রটি কৃপাণ বলে সূত্রের দাবি।
এ ঘটনায় সুখবীরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। উচ্চ নিরাপত্তা-ঝুঁকির কারণে অকালি দলের প্রধানের জন্য জ়েড-প্লাস নিরাপত্তা রয়েছে। তার পরেও গুরুদ্বারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে কী ভাবে হামলাকারী তাঁর এত কাছে পৌঁছলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। সুখবীরের উপর হামলার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে হত্যার চেষ্টা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। সে সময় ‘অকাল তখ্ত’ তাঁর এবং অকালি দলের আরও কয়েক জন নেতার বিরুদ্ধে ‘তনখা’ বা ধর্মীয় শাস্তি ঘোষণা করেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাবে অকালি দলের শাসনকালে সংঘটিত একাধিক ‘ভুল’-এর জন্য তাঁদের দায়ী করা হয়েছিল। সেই ধর্মীয় শাস্তির অংশ হিসাবেই স্বর্ণমন্দিরের প্রবেশপথে ‘সেবাদার’-এর দায়িত্ব পালন করছিলেন সুখবীর।
২০২৪ সালের সে ঘটনার একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল, সুখবীরের পায়ে প্লাস্টার ছিল এবং তিনি স্বর্ণমন্দিরের প্রবেশপথে একটি হুইলচেয়ারে বসেছিলেন। তাঁর হাতে একটি বর্শাও ছিল। সে সময় এক ব্যক্তি সুখবীরের দিকে এগিয়ে আসেন। তাঁর হাতে ছিল বন্দুক। সুখবীরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত ওই হামলাকারীর হাত চেপে ধরেন। অল্পের জন্য রক্ষা পান সুখবীর সিং বাদল। গুলি তাঁর বা আশপাশে থাকা অন্য কারও গায়ে লাগেনি। ওই হামলাকারীকে পরে গুরদাসপুর জেলার বাসিন্দা নারায়ণ সিংহ বলে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তৎকালীন অমৃতসর পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিংহ ভুল্লর সে সময় জানিয়েছিলেন, ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে গুরুদ্বারের ভিতরে বা প্রবেশপথে পুলিশকর্মীদের ইউনিফর্মে মোতায়েন করা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূত্রের দাবি ছিল, ২০২৪ সালের ওই হামলাকারী নারায়ণ সিংহের সঙ্গে খলিস্তানি জঙ্গি সংগঠন ‘বাব্বর খালসা’-র যোগ ছিল। ২০০৪ সালের বেরাইল জেল ভাঙার ঘটনার মূলচক্রীদের অন্যতম বলেও তাঁকে মনে করা হয়। ওই ঘটনায় চার জন বন্দি জেল থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তাঁদের পালানোর জন্য প্রায় ৯৪ ফুট দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছিল বলে জানা যায়। স্বর্ণমন্দিরের সে ঘটনার প্রায় দুই বছর পর ফের সুখবীরের উপর হামলার ঘটনা ঘটল।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বার বার ধর্মীয় স্থানেই সুখবীরকে নিশানা করা হচ্ছে কেন। ২০২৪ সালে স্বর্ণমন্দিরে তিনি ধর্মীয় শাস্তির অংশ হিসাবে সেবাদারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ বার নান্দেড়ের তখ্ত সচখণ্ড শ্রী হাজুর অবচলনগর সাহিবে পরিবারের সঙ্গে ধর্মীয় সফরে গিয়েছিলেন। দু’টি ঘটনাতেই ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং হামলাকারীদের গতিবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুখবীর। তাঁর স্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদলও ঘটনার পর তাঁর পাশে রয়েছেন। অকালি দলের তরফে জানানো হয়েছে, সুখবীরের আঘাত প্রাণঘাতী নয়। তবে নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যেও তাঁর উপর ফের হামলার ঘটনায় পঞ্জাবের রাজনীতি থেকে শুরু করে ধর্মীয় মহল— সর্বত্রই আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
❤ Support Us







