- বি। দে । শ
- অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ইজরায়েলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন না নেতানিয়াহু
ঘোষিত ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। প্রত্যাশামতোই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্য কোনও দলও সংখ্যারগিষ্ঠতা পায়নি। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আবারও তীব্র। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি নতুন সরকার গঠনের জন্য তদবির শুরু করেছে। নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখা ঝুঁকির মুখে। সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন রাষ্ট্রপতির হাতে। নতুন সংসদ আগামী ১০ নভেম্বর শপথ গ্রহণ করবে।
ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি শুক্রবার চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে ২৬তম নেসেট অর্থাৎ ইজরায়েলি সংসদে সব দলের আসন বণ্টন স্পষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন জিতে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেয়েছে। বি’ইয়াখাদ পেয়েছে ১২টি আসন এবং জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন। এছাড়া, ডেমোক্র্যাটস এবং আরব–সমর্থিত রা’আম পার্টি প্রত্যেকে ৮টি করে আসন পেয়েছে। ইজরায়েল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবং ওৎজমা ইয়েহুদিত প্রত্যেকে ৭টি করে আসন জিতেছে। অন্যদিকে, শাস এবং রিলিজিয়াস জায়োনিজম ৬টি করে আসন পেয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট মোট ৫৩টি আসন জিতেছে। আর প্রধান বিরোধী জোট জিতেছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলি পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে, কোনও দলই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এই নির্বাচনে জনগণও উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। মোট ভোটদানের হার ছিল ৭৭.৯ শতাংশ এবং ৫৭১৬৬৬৫ জন যোগ্য ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
অনেক ছোট দল নির্বাচনে প্রয়োজনীয় ভোট পায়নি। ইজরায়েলে সংসদে একটা আসন পেতে হলে যে কোনও দলকে কমপক্ষে ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। রিজার্ভিস্টরা পেয়েছে ২.৭ শতাংশ, পিপল অফ ইজরায়েল পেয়েছে ১.৭ শতাংশ এবং হারেদি পাবলিক পেয়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ ভোট। এই কারণেই এই দলগুলি সংসদে স্থান পায়নি। নির্বাচন কমিটি এখন যে কোনও সম্ভাব্য অনিয়ম বা অভিযোগ তদন্ত করার পর ৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগের কাছে চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল জমা দেবে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, ইজরায়েলে পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে। চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার পর, রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর তিনি সরকার গঠনের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা থাকা নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। যদি প্রথম নেতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে রাষ্ট্রপতি এই দায়িত্ব অন্য কোনও নেতাকে দিতে পারেন। তবে, যদি কোনও নেতাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হন, তাহলে ইজরায়েলকে আবার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
আরব দলগুলি সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের মোট ১৯টি আসন রয়েছে, যা সরকার গঠনের হিসাব পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। তবে, রা’আম পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাস বিশ্বাস করেন, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট আরব দলগুলির বাইরের সমর্থনে সহজে সরকার গঠন করতে পারবেন। আব্বাস তাঁর দলের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন যে, আরব দলগুলির সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করা অত্যন্ত কঠিন। প্রকৃতপক্ষে, বিরোধী দলগুলিকেও নিজেদের মধ্যে একটা সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। কেবল ডেমোক্র্যাটরাই আরব দলগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রকাশ্যে সম্মত হয়েছে।
সরকার গঠনের একটা উপায় হল নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং কিছু বিরোধী দলকে নিয়ে একটা জোট গঠন করা। এর মধ্যে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের টুগেদার মুভমেন্ট এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইজরায়েল বেইতেনু পার্টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই দলগুলোকে একত্রিত করলে ৬৬ আসনের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে, বর্তমানে এই পথ কঠিন বলে মনে হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হল, নির্বাচনী প্রচারের সময় বিরোধী দলগুলি নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অঙ্গীকার করেছিল। তাই, তাদের সঙ্গে সরকার গঠন করা বিরোধীদের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত হবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু তাঁর কট্টর ডানপন্থী এবং অতিগোঁড়া ইহুদি মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল।
❤ Support Us








