- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ১৫, ২০২৩
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ, মামলার আবেদনে কোর্টের সম্মতি। শুনানি আগামী কাল
কলকাতা হাইকোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করবার অনুমতি দিল। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানালেন। আগামীকাল বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ এ ব্যপারে হলফনামা দাখিল করবার নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই দিনই মামলার শুনানি হতে পারে।
বুধবার আদালতে আইনজীবি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য চাকরিহারাদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অতি সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ বিচারপতি দ্বয়ের সামনে উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন। অথচ সেই নিয়োগ বাতিল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায় , হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এ ব্যাপারে একটি আদালত অবমাননার মামলা করুক। বিচারপতিরা তাঁর অভিযোগ শুনে অ্যাডভোকেট জেনারেলকে নোটিস দেওয়ার কথা জানান।
মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে স্বাধীনতা সংগ্রামী অরবিন্দ ঘোষের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মতামতে দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের উদ্দেশে মমতা বলেন, আমি সুব্রতদাকে বলব, দয়া করে এত সহজে চাকরি কেড়ে নেবেন না। যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বুধবার আদালত অবমাননার মামলার আর্জি জানানো হয়েছে। বিচারপতিরা অবশ্য আবেদনকারীকে সরাসরি এ ব্যাপারে মামলা করতে বলেছেন।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দুর্নীতি ইস্যুতে সমস্ত বিরোধীদের আক্রমণের নিশানায় শাসক দলের একাধিক নেতা। তাই এমতাবস্থায় বামপন্থী বলে পরিচিত বিকাশ রঞ্জনের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বামপন্থীদের ভোটের অঙ্কে অনেকটা এগিয়ে রাখতে পারে। ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
চাকরিহারাদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল বরাবরই নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানেও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি।বিচারপতির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক আবেদন, যাঁরা অন্যায় করেছে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। কিন্তু একটা সুযোগ তো দেওয়া হোক। এমন অন্তত ব্যবস্থা করুন যাতে তারা আবার পরীক্ষা দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। তাঁর কথা, পেশাচ্যুত হওয়ার পর অনেকে আত্মহত্যা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক আবেদন, চাকরিচ্যুতদের আর্থ সামজিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো বিষয় হল, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের ব্যাপারে একটি শব্দও তিনি খরচ করেননি। চাকরিচ্যুতরা তৃণমূল নেতা ও তাঁদের এজেণ্টদের টাকা দিয়ে তার বিনিময়ে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। এখন চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে এজেণ্টদে ও তৃণমূল নেতাদের ওপর অর্থ ফেরত দেওয়ার সামাজিক চাপ আসতে পারে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই চাপের প্রভাব ভোটের ফলাফলেও দেখা যাতে পারে, এমন আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই মুখ্যমন্ত্রীর চাকরিচ্যুতদের প্রতি ‘অতি মানবিক’ হওয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
❤ Support Us







