Advertisement
  • দে । শ
  • জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

‘ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চক্রান্ত’ রুখতে তৃণমূল কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চক্রান্ত’ রুখতে তৃণমূল কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

এসআইআর-এর শুনানি পর্ব চলাকালীনই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ফর্ম-৭ । এই ফর্মের মাধ্যমেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গত মঙ্গলবার বাঁকুড়ার তালডাংরা বিধানসভা এলাকায় এক বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে কয়েক হাজার ফর্ম-৭ উদ্ধার হওয়ার পরই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ‘চক্রান্ত’ করছে বিজেপি।

এই আবহেই শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক সভা থেকে বিষয়টি নিয়ে ফের সরব হন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বিজেপি নেতারা যদি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ইআরও-র কাছে একসঙ্গে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দিতে আসেন, তবে তাঁদের ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে একটু ডিজে’ শুনিয়ে দেওয়া হোক। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সবকিছুই করতে হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও ভদ্রভাবে।

সভা চলাকালীন অভিষেক জানতে চান, কারা কারা তৃণমূলের বুথ কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। এরপরই তিনি নির্দেশিকা দিয়ে বলেন, “১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ জানুয়ারি ইআরও (ERO) অফিসের বাইরে ক্যাম্প বসবে। সেখানে আমাদের প্রতিনিধিরা থাকবেন। যদি কোনও ছোট, মাঝারি বা বড় বিজেপি নেতা কিংবা তাঁদের কর্মীরা ভোটারদের নাম ডিলিট করানোর উদ্দেশ্যে আসে, তাহলে ভদ্রভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত চালাবেন, সঙ্গে একটু ডিজেও বাজাবেন। তবে শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, যদি কেউ আইন বহির্ভূত কাজ করে, তাহলে বিজেপি নেতার বাড়ি ঘেরাও করা হবে। অভিষেকের অভিযোগ, “বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এরা মানুষকে ভোট দিতেও দেবে না।”

উল্লেখ্য, এসআইআর-এর ‘Claims & Objections’ বা দাবি ও অভিযোগ জানানোর সময়সীমা সম্প্রতি বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগে এই ডেডলাইন ছিল ১৫ জানুয়ারি, যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯ জানুয়ারি। অর্থাৎ, ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ফর্ম ৬, ৭ ও ৮ জমা দেওয়া যাবে। এই সময়সীমা বৃদ্ধিকে নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, “বিজেপি নেতারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেনি বলেই কমিশন সময় বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।”

এ দিনের সভায় তিন জন মৃত ভোটারকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজয় মালি ও মঙ্গলি মান্ডি নামে দুই মৃত ভোটারকে সভামঞ্চে হাজির করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে তাঁর মন্তব্য, “জ্ঞানেশ কুমারের জন্য বাংলায় একটা বিশেষ প্রকল্প চালু করা উচিত। চোখের ছানি অপারেশনের জন্য প্রকল্পের নাম হোক ‘ছানিশ্রী’। কারণ এঁরা জীবিত ভোটারদের দেখতে পাচ্ছেন না।”

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, তা এ দিনের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!