- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৬, ২০২৫
নেপথ্যে বালি মাফিয়া? কাটোয়ায় অজয়ের সমান্তরালে নয়া জলধারা, তদন্তে প্রশাসন
লোভের বাড়বাড়ন্ত ! তাতেই কাটোয়ার চুরপুনি গ্রাম লাগোয়া অজয় নদের পাশে সৃষ্টি হয়েছে একটি নব্য জলধারা। কোশিগ্রাম পঞ্চায়েতের চুরপুনি গ্রামের প্রায় দেড় কিমি উত্তরে বয়ে যাওয়া এই অজয় নদের কাছেই প্রায় সাড়ে তিনশ মিটার দীর্ঘ এই নতুন অজয় তৈরি হওয়ার জন্য গ্রামের বাসিন্দারা দুষছে বালি মাফিয়াদের। তাদের কথায়, ‘ওরা ঘাট-আঘাট, পুলিশ-প্রশাসন কিছুই মানছে না। লোভে পড়ে চরের মাটি থেকে শুরু করে বালি কেটে কেটে এমন অবস্থা তৈরি করেছে যে, অজয়ের গায়েই আরেকটা আস্ত নদী তৈরি হওয়ার উপক্রম।’ সেইসঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানাচ্ছেন তারা।
বিষয়টি জেনেই জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের একদল প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যান। গোটা এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেন। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন। ড্রোন উড়িয়েও ছবি তোলা হয়। কাটোয়া মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সৌমিত্র সামন্ত বললেন, ‘পরিস্থিতি দেখে গেলাম। এখন বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। তাই জলধারা তৈরি হয়েছে কিনা, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে এটা প্রাকৃতিক না ম্যানমেড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ খতিয়ে দেখার অঙ্গ হিসেবে ড্রোন উড়িয়ে ম্যাপিং করা হল। বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কোশিগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঋজু সাহা জানান, ‘নতুন জলধারা তৈরি হওয়ার খবর জানি না। খোঁজখবর নিচ্ছি। দরকার পড়লে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খুঁজে দেখা হবে।’ চুরপুনি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা শুভাশিস সিংহ জানান, ‘এই এলাকায় বালির কারবার দীর্ঘদিনের। তবে এককালে গ্রামের অদূরে একটা কানা নদী ছিল। সেটা অবশ্য হেজেমজে গিয়ে বুজে গিয়েছে।’ সেটাই আবার নতুন করে জাগল কিনা, সেটাও মাথায় রাখছেন তদন্তকারীরা। অজয়ের রাজুয়া ও রসুই ঘাট থেকে শুরু করে চুরপুনি হয়ে একেবারে চরখি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বালির ঘাট রয়েছে। সেখানে বৈধ খাদানের পাশাপাশি বহু অবৈধ বালি খাদানও গড়ে উঠেছে। অজয় ঘেঁষা চুরপুনি, রাজুয়া, যতীনপুর, আঙারপুর প্রভৃতি এলাকায় জেসিবি দিয়ে জমির মাটি খুঁড়ে তার নীচ থেকে বালি তোলা হয় বলে অভিযোগ। বালি খাদানের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঝামেলা, সঙ্ঘর্ষ বাধে। গুলিগোলাও চলে। কিছুদিন আগে কাটোয়ার রাজুয়া গ্রামে বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণে ১ দুষ্কৃতীর মৃত্যু হয়। জখম হয় কয়েকজন। বালি ঘাটের দখল নিতেই বোমা বাঁধা হচ্ছিল বলে এলাকা থেকে অভিযোগও ওঠে। পুলিশ অবশ্য বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে নেমে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে চুরপুনি গ্রাম লাগোয়া অজয়ের বালিঘাটের পাশে আর একটা জলধারা তৈরি হওয়ার পিছনে বালি মাফিয়াদের হাত রয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নই এখন এলাকাজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।
❤ Support Us






