Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ২২, ২০২৬

লক্ষ্য বিধানসভা ভোট, দায়িত্ব পেয়েই বঙ্গ সফরে বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লক্ষ্য বিধানসভা ভোট, দায়িত্ব পেয়েই বঙ্গ সফরে বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন নিতিন নবীন। আগামী ২৭ জানুয়ারি কলকাতায় এসে পৌঁছনোর কথা তাঁর। ২ দিনের এই সফরে রাজ্যের সাংগঠনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই মূল লক্ষ্য বলে বিজেপি সূত্রে খবর। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নিতিনের এই সফর সম্পূর্ণ ভাবে সংগঠনকেন্দ্রিক।

বুধবার দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরেই নয়া সভাপতির বঙ্গ সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্তরের পদাধিকারীরা, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক, বিভিন্ন রাজ্যের সভাপতি এবং সংগঠনের সম্পাদকরা। যদিও বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে বিজেপি সূত্রের দাবি, সাংগঠনিক বিষয় ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কলকাতায় পৌঁছনোর পরের দিন নিতিন নবীন যাবেন বর্ধমান ও দুর্গাপুরে। সেখানে তিনি জনসভা করবেন নাকি কেবল সাংগঠনিক কর্মসূচিতেই অংশ নেবেন, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলা স্তরের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। অর্থাৎ, রাজ্যের জেলায় জেলায় বিজেপির সংগঠনের অবস্থা নিজে  খতিয়ে নিতে চান নয়া সর্বভারতীয় সভাপতি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাজ্য সফর হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকেই বেছে নেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিজেপির অন্দরে এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনই এখন দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সে প্রস্তুতির অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই নিতিনের এই সফর। বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একাধিক বৈঠকের মধ্যে একটি বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে চলমান ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এ মুহূর্তে রাজ্যে ‘এসআইআর’-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস লাগাতার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করে মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার এ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা কী কৌশল নেওয়া হবে, সে বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেন নিতিন নবীন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে দায়িত্ব নেন নিতিন নবীন। সে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘আমি বিজেপির কর্মীমাত্র। নিতিন নবীন এখন আমারও বস।’ নয়া সভাপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তামিলনাড়ু, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, পুদুচেরী ও কেরালায় বিধানসভা নির্বাচন হবে। রাজ্যগুলির জনবিন্যাস আমাদের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তবে আমার বিশ্বাস, বিজেপির কর্মীরা তাঁদের পরিশ্রমে পাঁচ রাজ্যেই সাফল্য এনে দেবে।’ নিতিন নবীনের সফর শেষ হওয়ার পরই ফের বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ৩০ জানুয়ারি কলকাতায় পৌঁছনোর কথা। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আসন্ন সফরে কোনো জনসভা করবেন না শাহ। তাঁর সম্পূর্ণ কর্মসূচিই থাকবে সাংগঠনিক বৈঠককে ঘিরে। দলীয় সূত্রের দাবি, ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। তার আগেই রাজ্যে এসে নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজ্য বিজেপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

অন্য দিকে, রাজ্যে বিরোধী দলের বিধায়কদের উপর ধারাবাহিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তাঁর অনশন চলবে শিলিগুড়ি শহরের নেতাজি মূর্তির পাদদেশে। শংকর ঘোষের অভিযোগ, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের অর্থ বরাদ্দ ও খরচের ক্ষেত্রে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক ভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে যাওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট কাজ শুরু করতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি জেলা শাসকসহ বিভিন্ন সরকারি আধিকারিক বিরোধী দলের বিধায়কদের ধারাবাহিক ভাবে উপেক্ষা করছেন, যা সরকারি ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’-এর পরিপন্থী। অনশন কর্মসূচি থেকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে রাজ্য সরকারের ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পকে ঘিরে। শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৩৩টি ওয়ার্ডে বুথ পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে যে কাজের ঘোষণা করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ খতিয়ান প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ দিন ধরে শিলিগুড়ি শহরে চলতে থাকা পানীয় জলের সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের দাবিও উঠেছে অনশন মঞ্চ থেকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!