Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ৮, ২০২৬

মোদি-শাহর পর দলের ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় জে পি নাড্ডা। বৈঠকের মাঝেই হাজির মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মোদি-শাহর পর দলের ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় জে পি নাড্ডা। বৈঠকের মাঝেই হাজির মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্তা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পর এবার ২ দিনের সফরে কলকাতায় এলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা। সে লক্ষ্যেই বিজেপির জাতীয় সভাপতির সফরসূচি সাজানো হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে। এ দিন প্রথমে বিধাননগরের একটি হোটেলে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। পরে ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডা। দিনের শেষে রাজারহাটের একটি হোটেলে ফের দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সফরকালে জে পি নাড্ডা রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার সভাপতি, সাংগঠনিক বিভাগের আহ্বায়ক এবং শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন তিনি। লক্ষ্য একটাই, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরো মজবুত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে অন্তত ৫ জন করে সক্রিয় কর্মীর একটি দল গঠন করা হবে, যারা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরা এবং কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প ও সাফল্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে এঁদের মূল দায়িত্ব।

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে রাজ্য নেতৃত্বকে কার্যত ‘করো ইয়া মরো’ বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে গেরুয়া শিবিরের দাবি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ, এ বার সুযোগ হাতছাড়া হলে ভবিষ্যতে বাংলায় বিজেপির জন্য রাজনৈতিক লড়াই আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সে কারণেই দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং বেকারত্ব— এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন নাড্ডারা। এ দিকে, দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা না করেই লড়াইয়ে নামতে পারে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘বিজেপির মুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর প্রতীক পদ্মফুল।’ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে রাজ্যের সব নেতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে এবং কাজের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে মূল্যায়নও হবে। পাশাপাশি ভিন্‌রাজ্য থেকে অভিজ্ঞ সংগঠকদের বাংলার বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

এহেন রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে যায় এক রহস্যময় ঘটনা। সল্টলেক সেক্টর ফাইভের যে হোটেলে রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, সেখানে আচমকা হাজির হন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (নিরাপত্তা) আইপিএস সুমিত কুমার। বৈঠকস্থলের করিডরের কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছতে দেখা যায় তাঁকে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা নজরে পড়তেই তিনি হঠাৎ ঘুরে উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করেন এবং যে পথ দিয়ে এসেছিলেন, সে পথ দিয়েই হোটেল চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষিপ্ত ভাবে বলেন, ‘একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম।’ এর বেশি কিছু না বলেই গাড়িতে উঠে চলে যান তিনি। এ ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা আরো তীব্র হয়, কারণ একই দিনে ইডি তল্লাশি চালাচ্ছিল আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের দফতরে। আইপ্যাক বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। ইডি হানার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতীকের বাড়ি ও পরে আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছন। আইপ্যাকের দফতর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই ছিল নাড্ডাদের বৈঠকস্থল।

ডিআইজি (নিরাপত্তা)-র এই আকস্মিক উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বৈঠক কক্ষের বাইরে থাকা নেতাদের পাশাপাশি ভিতরে থাকা শীর্ষ নেতাদের আপ্তসহায়করাও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। যদিও পুলিশ কর্তার সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে রহস্যের জট কাটেনি, বরং প্রশ্ন আরো বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে তুঙ্গে বৃহস্পতিবারের ঘটনাবহুল দিন তারই প্রমাণ দিচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!