Advertisement
  • দে । শ
  • জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

বাদুরের ডেরা ! নিপা আতঙ্কে সতর্ক আলিপুর চিড়িয়াখানা, পশুপাখিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাদুরের ডেরা ! নিপা আতঙ্কে সতর্ক আলিপুর চিড়িয়াখানা, পশুপাখিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু

রাজ্যে নিপা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে সতর্কতার জোর বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানাও তৎপর। শহরে এ পর্যন্ত কোনো সংক্রমণের খবর নেইতবু কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতা হিসেবে চিড়িয়াখানার প্রাণীকর্মী ও দর্শকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

চিড়িয়াখানার রয়েছে বাদুড়ের আবাসস্থল। বিশাল আকারের এই চিড়িয়াখানায় একাধিক ফলের গাছ রয়েছেযেগুলো নিয়মিত খেতে আসে বাদুড়। বিশেষজ্ঞদের মতেনিপা একটি জুনোটিক ভাইরাস’, অর্থাৎ এটি পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। মূলত বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। তাই চিড়িয়াখানায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। কিছু নির্বাচিত প্রাণীর রক্ত পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেদর্শক ও কর্মীদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গাছ থেকে পড়ে থাকা ফল যেন কেউ না ছোঁয়এবং দর্শক যেন খাঁচায় বাইরের কোনো খাবার না দেয়সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া চিড়িয়াখানায় আনা সব ফল ও সবজি পরিবেশনের আগে ভালোভাবে ধুয়ে কেটে দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেননিপা ভাইরাসে সংস্পর্শে আসার ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শুরুতে জ্বরমাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই হয়। তবে হঠাৎ আচরণগত পরিবর্তনকথা বলতে অক্ষমতা বা পরিচিত মানুষ চিনতে না পারাএসব হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করানো জরুরি। মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সংক্রমণ আরো দ্রুত ছড়ায়। নিপার কোনো টিকা এখনো বাজারে নেই। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয়আক্রান্তকে আলাদা রাখা এবং সচেতনতা বজায় রাখা একমাত্র রক্ষাকবচ। আলিপুর চিড়িয়াখানার সেক্রেটারি পি. কমলাকান্ত জানান, ‘চিড়িয়াখানায় নিয়মিত পরিদর্শন চলছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেইতবে আগাম সতর্কতা হিসেবেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

পাশাপাশি, কর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। খাঁচায় প্রবেশের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক। খাঁচায় ঢোকার আগে এবং বেরোনোর পরে পা জীবাণুনাশক জলে ডুবাতে হবে। চিড়িয়াখানার ভিতরে ও বাইরে থাকা সমস্ত খাঁচা দিনে দুবার করে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। দর্শক চলাচলের রাস্তাফুটপাত এবং বসার জায়গাও প্রতিদিন স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। চিড়িয়াখানা কর্মকর্তারা আরো জানানএখানকার বাদুড়রা স্বাধীনভাবে গাছে বাস করে। চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে তাদের কোনো খাবার দেওয়া হয় না। মূলত দেখা যায় ইন্ডিয়ান ফ্লাইং ফক্স’ জাতীয় ফলখেকো বাদুড়। গাছের নিচে তাদের বিষ্ঠা পাওয়া গেলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেনবাদুড়ের চেটে বা কামড়ানো ফল থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারেতাই সতর্কতার কোন বিকল্প নেই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!