- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২, ২০২৬
পঠন-পাঠন স্তব্ধ, ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় ! ছুটিতে উপাচার্য, গঠিত হলো তদন্ত কমিটি
প্রায় ৩ মাস ধরে অসমের তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকার চলতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শম্ভু নাথ সিংকে ছুটিতে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে গঠিত হয়েছে ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি এবং উপাচার্যের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ যাচাই করবে।
বর্তমানে অসমে দুটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যার একটি তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের একাংশ উপাচার্যকে বরখাস্ত করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। উপাচার্যের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, পড়াশোনার মানের অবনতি এবং নিয়ম লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি। চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিসর প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপাচার্যকে সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই ছুটি-পর্যায় চলবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক চলমান রাখতে আইআইটি গুয়াহাটির অধ্যাপক অমরেন্দ্র কুমার দাসকে প্রো-ভিসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, নবগঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এন. লোকেন্দ্র সিং। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জগদীশ কুমার পট্টনায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান কমিশনের সচিব অধ্যাপক মনীশ আর. জোশি। এই কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক পরিস্থিতি বিশদে পর্যবেক্ষণ করবে এবং উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা দফতরে রিপোর্ট জমা করবে। প্রতিবাদী পড়ুয়া ও শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, উপাচার্য দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। সম্প্রতি জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যুতে শিক্ষার্থীরা সংসদ নির্বাচনের সময় স্থগিত করার আবেদন করলেও, উপাচার্য তা যথাযথভাবে বিবেচনা করেননি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নভেম্বর মাস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দোলনের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও সুরাহা না মেলায়, কিছু শিক্ষার্থী ২৪ ঘণ্টার অনশনেও বসেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বহু কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। রেজিস্ট্রার এবং জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিস্থিতির আরো অবনমন ঘটেছে। লাগাতার আন্দোলনের চাপে পড়ে অবশেষে কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। অক্টোবর মাসে অসমের গভর্নর, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরও বটে, আইআইটি গুয়াহাটির পরিচালক দেবেন্দ্র জলিহালের নেতৃত্বে একটি তথ্য-উপাত্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। মন্ত্রকের ৩১ ডিসেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন কমিটি ওই রিপোর্টও পর্যবেক্ষণ করবে এবং ৩ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এমত অবস্থায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘১০৩ দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা আশা করি, তদন্ত ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপমুক্ত হবে। আমরা কমিটিকে সবরকম সহযোগিতা করব। কিন্তু যতক্ষণ না ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় আমাদের প্রতিবাদ চলবে।’
উল্লেখ্য, গত মাসে তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সাড়া ফেলে দেয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকে অবিলম্বে সহ-উপাচার্য নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়াও কংগ্রেসের সাংসদ সদস্য গৌরব গগৈ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে চলমান অস্থিরতায় হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান।
❤ Support Us






