Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

লক্ষ্য ২০০ আসনে জয়, সায়েন্স সিটির কর্মী সম্মেলন থেকে সমঝোতার পরিবর্তে লড়াইয়ের বার্তা শাহের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লক্ষ্য ২০০ আসনে জয়, সায়েন্স সিটির কর্মী সম্মেলন থেকে সমঝোতার পরিবর্তে লড়াইয়ের বার্তা শাহের

ভোট যত এগিয়ে আসছে, রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ততই বাড়ছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বঙ্গে আনাগোনাও বাড়ছে। ৩ দিনের কলকাতা সফরে এসে আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের ২০০ আসনের জয়ের স্বপ্ন বেঁধে দিলেন বিজেপির ‘চাণক্য’। মহানগরীকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। টার্গেটও স্থির করে দিয়েছেন অমিত শাহ। বুধবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত দলীয় কর্মী সম্মেলন থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বৃহত্তর কলকাতার ২৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্তত ২০টিতে জিততেই হবে দলকে।

এ দিন সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়ামে কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি ও যাদবপুর— এই ৪টি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন শাহ। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে যেমন তিনি সাংসদ ও বিধায়কদের ভোটের আগে চাঙ্গা করেন, তেমনই কড়া বার্তাও দেন দলের সর্বস্তরের কর্মীদের উদ্দেশে। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রকম আপস বা সমঝোতার জায়গা নেই। বৈঠক শেষে রাহুল সিনহা জানান, মহানগরের ২৮টি আসনের মধ্যে ২০টির বেশি আসনে জয়ই লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ‘অমিত শাহজি চান কলকাতায় জয়টা সম্পূর্ণ হোক। এ জয় শুধু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, সারা দেশের রাজনীতির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এর পাশাপাশি রাজ্য সফরে এসে ফের একবার বিজেপির ‘২০০ আসন’ লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দেন শাহ। কর্মী সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তিন আসন থেকে ৭৭ আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০ আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?’ তাঁর এই বক্তব্যে কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ছড়ায় বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহ। রাহুল সিনহার দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা ও অসমে সীমান্ত পুরোপুরি সিল করা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। শুধু বাংলায় নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ছড়িয়ে পড়া গোটা দেশের নিরাপত্তার পক্ষেই বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বারের নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপি মূলত ২টি ইস্যুকে সামনে আনতে চাইছে— অনুপ্রবেশ এবং দুর্নীতি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে শাহ বলেন, “কলকাতা আর নিরাপদ নেই। অনুপ্রবেশের দাপট আরো বাড়ছে। একটা সময়ের পরে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন।’ এই বদ্ধাবস্থা কাটাতে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করতেই হবে, এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ভাষণে তৃণমূল সরকারের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকেও কটাক্ষ করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘মা আজ বিপন্ন, মাটিতে অনুপ্রবেশের দাপাদাপি। তাই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছতে হবে।’

কর্মীদের উদ্দেশে সংগঠনিক নির্দেশও দেন শাহ। এক কর্মীর সঙ্গে অন্য কর্মীর নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করা এবং আরো বেশি করে, সক্রিয়ভাবে ভোটের ময়দানে নামার কথা স্পষ্ট করে জানান তিনি। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দেন। এ দিন রাজ্য বিজেপির ৪ পরিচিত মুখ— শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষকে নিয়ে আলাদা বৈঠকও করেন অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনসল ও বিপ্লব দেব। বহু দিন পরে দিলীপ ঘোষকে দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি দিলীপ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতার জন্য নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক লক্ষ্য ঘোষণা করে বিজেপি স্পষ্ট করে দিল— ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সংগঠনকে নতুন করে সাজানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার রণকৌশলেই এগোতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!