Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৪

পূর্বস্থলীর প্রাচীন জনপদে দুর্গোৎসব

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পূর্বস্থলীর প্রাচীন জনপদে দুর্গোৎসব

পূর্বস্থলীর পাটুলি। জনপদটির প্রাচীনতায় ধারাবাহিক ইতিহাস। রাজন্য প্রথা- বৈভব-অহংকারের ছাই আজও ওড়ে চারপাশে। গায়েই প্রবহমান ভাগীরথী। দিক বদল করেছে বারবার। এতটাই যে, এখন আর নদীর পূর্বে নয়, পশ্চিমে বইছে আর শান্ত লয়ে দেখছে অনুশাসন আর শোষণের মাখামাখি।

তবু কোথাও একটা না-পাওয়া, শূন্যতা ছিল জায়গাটি আঁকড়ে। পূরণের জন্য অহল্যার মতো অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল জনপদটি। আজ থেকে তিরিশ বছর আগেও পাটুলি পঞ্চায়েতের পীলা গ্রামের নদীপাড়ের দিকটা ছিল একেবারেই জনবিরল। ভূমিজুড়ে ছড়ানো বট, অশ্বত্থ, আম, কাঁঠালের মহীরুহ ছায়ায় ঘেরা চত্বরে শুধু বাতাস বওয়ার গা-শিরশির আওয়াজ। মনে হতো কারা হাহাকার করছে।

এমন জায়গা বড় পছন্দ হল স্বামী দেবানন্দ মহারাজের। মধ্যবয়স্ক এই সন্ন্যাসী স্বভাব ও বসনে গৈরিক। তাঁর সঙ্কল্পে আটক সনাতন ভারত, ত্যাগ, শ্রদ্ধা, আনন্দ আর প্রেম। আধ্যাত্মিক পথে মানুষের মুক্তির ঠিকানা ছড়াতে তৈরি হল আশ্রম, ধুনিবেদী। সেই বেদী থেকে বছরভর উৎসারিত হয় আত্মশোধন মন্ত্র, নারায়ণ পরাবেদা/ নারাায়ণ পরাক্ষরা/ নারায়ণ পরাগতি/ নারায়ণ পরামুক্তি।

আম -কাঁঠালের ছায়া, নদী-ছোঁয়া বাতাস, মরশুমি ফসলের গন্ধে মাতোয়ারা এই আশ্রমটিতে পা রাখলেই কোথা থেকে রাজ্যের শান্তি শরীর জুড়িয়ে দেয়। বিশ্বাস এলাকার মানুষজনের। প্রত্যেক বছর ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিন এখানে অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক মিলনোৎসব। এখানে নির্মিত হয়েছে ‘বৃদ্ধ সেবালয়’ নামে একটি বৃদ্ধাবাস। সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধদের এখানে নিখরচায় যত্নে রাখা হয়। এখানকার দুর্গাপুজোটিও ভাবগম্ভীর। পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কুমারী পুজো। তার সঙ্গে যুক্ত থেকে মুক্ত হওয়ার যে অপার বোধ, তারই চর্চা, তারই পুজো এখানে চলে প্রতিনিয়ত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!