Advertisement
  • খাস-কলম প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ১২, ২০২২

অসমে তৃণমূলের ১০! স্বপ্নের বাস্তব-অবাস্তব।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অসমে তৃণমূলের ১০! স্বপ্নের বাস্তব-অবাস্তব।

অসমে আগামী পঞ্চায়েত ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রচার শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল গুয়াহাটিতে দলের রাজ্য দফতর উদ্বোধন করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এ রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। এখানে চুরি হলে কেন্দ্র চুপ থাকে। সিবিআই, ইডি দুর্নীতি খুঁজে পায় না । কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে দৃঢ়তার সঙ্গে অভিষেক বলেছেন, লোকসভা ভোটে ১৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ১০টি তৃণমূলকে দখল করতে হবে। এটা কঠিন কাজ নয়। ত্রিপুরায় ৩ মাসে, তৃণমূল ২০ শতাংশ ভোট নিয়ন্ত্রণ করেছে । হাতে সময় আছে । অসমে দলের সাফল্য আরও বেশি হবে । দলের কর্মীদের উজ্জ্বীবিত করতে মুখ্যমন্ত্রী অসমে অসবেন । অভিষেক নিজেও তাঁর ঘন ঘন সফর অব্যাহত রাখবেন ।
গতকাল অসম তৃণমূলের কর্মীসভার প্রথম যোগ দেন অভিষেক। তাঁর এ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অসম বাংলার নিকটতম প্রতিবেশী রাজ্য। জনসংখ্যা তিন কোটির বেশি। প্রায় ৩৪ শতাংশ বঙ্গভাষী। গ্রামীন বাঙালির সংখ্যা খুবই বড় । তাঁদের বড় অংশই কংগ্রেস ও এইউডিএফের সমর্থক । এই ভোটে প্রধানত ভাগ বসাতে চাইছে তৃণমূল। প্রদেশের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরাকের সুষ্মিতা দেব ও প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা রিপুন বরাকে। সুষ্মিতা বাংলা থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্য। শহর শিলচরে তাঁর প্রভাব বিজেপি-র চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। করিমগঞ্জ আর হাইলাকান্দিতেও ক্ষয়িষ্ণু । কংগ্রেস আর এআইইউডিএফ-এর ভোটকে তৃণমূলমুখী করতে হলে তাঁকে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হবে। কঠিন লড়াই। তাঁর বাবা সন্তোষমোহন দেব ছিলেন দাপুটে কংগ্রেস নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী । মা বীথি দেবও কংগ্রেস করতেন। দাদু সতীন্দ্র মোহন দেব ছিলেন বিমলাপ্রসাদ চালিহা মন্ত্রিসভার সদস্য । এরকম ঐতিহ্যশালী কংগ্রেস পরিবারের কন্যার তৃণমূল সংযোগকে বরাকবাসী কতটা আমল দেবেন, প্রশ্ন আছে । রিপুন বরাকে নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন । আপার অসমে তিনি সর্বগ্রাহ্য নন । নওগাঁ থেকে গোয়ালপাড়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন সন্দিহান । বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, রিপুনের বাইরে অন্য কেউ তৃণমূলের হাল ধরলে বিজেপি-র কোণঠাসা হয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা আর অভিষেকের সাংগঠনিক দক্ষতাই তৃণমূলের ভরসা। দলকে গ্রাম, শহরে ছড়িয়ে দিতে হলে স্থানীয় নেতৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। জরুরি গ্রামীণ জনতার বহুমুখী সমর্থন ।

কেউ কেউ আম আদমি পার্টির সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন। গুয়াহাটির পুর নির্বাচনে আপ অংশ নিয়ে ১ আসন জিতেছে, সম্প্রতি। ভোট পেয়েছে অন্তত ২০ শতাংশ । আপের ওপর তারুণ্যের চোখ। কিন্তু যে নাগরিক মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ আম আদমিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, অসমে তার বিস্তার কোথায়? ভোটে আপ-এর উপস্থিতিতে আখেরে বিজেপিই ফায়দা তুলবে। অথএব, জন বৈচিত্রে সমৃদ্ধ অসমকে গেরুয়া মুক্ত করতে হলে দরকার বাস্তবের দৃঢ় বিশ্বাস, প্রয়োজন বহুমাত্রিক ঐক্য ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!