Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১০, ২০২৫

নদিয়ায় অসম সরকারের এনআরসি-র নোটিস, আতঙ্কে দুই পরিবার। তীব্র সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নদিয়ায় অসম সরকারের এনআরসি-র নোটিস, আতঙ্কে দুই পরিবার। তীব্র সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর

অসম থেকে পাঠানো নাগরিকপঞ্জি সংক্রান্ত নোটিস এসে পৌঁছেছে নদিয়ার দুই বাসিন্দার ঠিকানায়। এনআরসি-র সেই নোটিস হাতে পেয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোনাডাঙা মাঝের পাড়ার সঞ্জু শেখ ও আরসাদ শেখের পরিবারে। প্রশ্ন উঠছে, অসম সরকার কোন অধিকারে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের নামে এনআরসি সংক্রান্ত চিঠি পাঠাতে পারে?

গত ৩ অক্টোবর, ধুবুলিয়া থানার অন্তর্গত কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের সোনাডাঙা মাঝের পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জু ও আরসাদ ডাকযোগে একটি চিঠি পান। চিঠিটি ছিল অসমিয়া ভাষায় লেখা। বিষয়বস্তু না বুঝে সেটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেখালে জানা যায়, তা নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত নোটিস, অসম রাজ্য থেকে পাঠানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, প্রায় ১৫ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সামান্য কিছুদিনের জন্য অসমে গিয়েছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। সঞ্জু এক মাস, আরসাদ ছিলেন মাত্র ১৫ দিন। তারপর থেকেই তাঁরা স্থায়ীভাবে নদিয়ায় বসবাস করছেন। তাঁদের দাবি, অসমে তাঁদের কোনো নথি নেই, ভোটার তালিকায় নাম নেই, এমনকি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যাওয়া-আসাও হয়নি। তা সত্ত্বেও এত বছর পর কেন তাঁদের নামে নাগরিকপঞ্জির নোটিস এল, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

এ ঘটনায় মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘এসআইআরের আড়ালে এনআরসি চালু করার চেষ্টা চলছে কেন্দ্র। অসম সরকার কী করে বাংলার মানুষকে এই নোটিস পাঠায়? এটা কি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের নির্দেশে করা হচ্ছে? গায়ের জোরে এনআরসি করা যাবে না। ভোট কাটার জন্য ষড়যন্ত্র চলছ।’ তিনি অভিযোগ তোলেন, ‘এসআইআরের নামে বুথ অফিসারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে গৈরিকীকরণের চেষ্টা হচ্ছে। এটা বরদাস্ত করা হবে না।’ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। তাঁর বক্তব্য, ‘অসম সরকার বেআইনিভাবে নদিয়ার দুই বাসিন্দাকে এনআরসি সংক্রান্ত নোটিস পাঠিয়েছে। এটা করার কোনও অধিকার অসমের নেই। বিজেপি ভোটের আগে ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে।’

এ ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদীয়ার ওই প্রান্তিক এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ‘আমরা তো কাজের খোঁজে মাঝে মাঝে বাইরে যাই। তাহলে কি সবার নামে এবার নাগরিকত্বের নোটিস আসবে?’ প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তরফে দুই পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্য ও আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এনআরসি-র মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে এরকম বিভ্রান্তি নাগরিকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম এনআরসি তালিকায় কীভাবে উঠল, তা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকাশ্যে এসেছে। এভাবে যদি রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে এমন নোটিস পৌঁছতে থাকে, তবে আগামিদিনে পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করাই কি কঠিন হয়ে উঠবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!