- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ১০, ২০২৫
অসমে বহুবিবাহ রোধে নতুন বিল অনুমোদন হিমন্ত সরকারের । একাধিক বিয়ে করলে ৭ বছরের কারাদণ্ড
অসমের বিজেপি সরকার রাজ্যে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছে। রবিবার গুয়াহাটী লোকসেবা ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সাংবাদিকদের জানান, প্রস্তাবিত আইন, বিধানসভায় পাস হলে দ্রুত আইনটি তৃনমূলস্তরে লাগু করা হবে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিবাহের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়াও মহিলাদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব শর্মা বলেছেন, ‘এই বিল প্রযোজ্য হবে রাজ্যের সর্বস্তরের সকল মানুষের ওপর, তবে সংরক্ষিত জনজাতির ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হবে না। এছাড়া ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত জেলা, অর্থাৎ বিটিসি, দিমা হাসাও ও কর্বি আংলং-এ এই আইন সরাসরি কার্যকর হবে না। সংখ্যালঘু মুসলিমদের ক্ষেত্রে, যারা ২০০৫ সালের আগে ওই সংরক্ষিত এলাকায় বসবাস করতেন, তারা বিশেষভাবে আইন থেকে বাদ থাকবেন।’ শর্মা আরো বলেন, ‘বহুবিবাহে সাধারণত মহিলারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কখনো কখনো প্রথম স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়, আবার কখনো দ্বিতীয় স্ত্রীকে জ্ঞান ছাড়াই বিবাহের জালে ফেলা হয়। তাই ভুক্তভোগী মহিলাদের জন্য একটি ক্ষতিপূরণ তহবিল রাখা হবে। পরবর্তী নিয়ম ও যোগ্যতার মানদণ্ড তৈরি করার সময় এই বিষয়গুলো ঠিক করা হবে।’ গত মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হিমন্ত জানিয়েছিলেন, বিধানসভায় ‘লাভ জেহাদ’, ‘বহুগামিতা’ এবং ‘বৈষ্ণব সত্র রক্ষা’ সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনা হবে। এই প্রস্তাবনাগুলি প্রথমে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করা হবে। সেই প্রেক্ষাপটে, অসমের মন্ত্রিসভায় প্রথমে ‘বহুগামিতা’ বা ‘বহুবিবাহ’ বিরোধী বিল পেশ করা হলো। সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করতে এই বিলকে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
বিলটি পাস হলে, বহুবিবাহকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ’ হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে জামিন দেওয়া হবে না। এছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রী অসমের কিছু চলমান সরকারি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, অস্ত্র লাইসেন্সের প্রথম ব্যাচের অনুমোদন ফেব্রুয়ারি মাসে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি জেলার জমি বিক্রয় নিয়ন্ত্রণের জন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনসংখ্যাগত ধারা তুলে ধরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ২০০১ থেকে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে, কিন্তু মুসলিম জনসংখ্যা বেশ কিছু ব্লকে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অসমের সামাজিক কল্যাণ উদ্যোগের প্রভাব দেশের অন্যান্য রাজ্যেও লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, আসামের নিজস্ব প্রোগ্রাম থেকে অনুপ্রাণিত ‘লাডলি বেহনা’ প্রকল্প, মধ্যপ্রদেশ ও বিহারে চালু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে অসমের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বহুবিবাহ বিরোধী আইন’ আনার ঘোষণা দেয়। বিচারপতি রুমি ফুকান-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। তবে, উত্তরাখণ্ডের ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড-২০২৪’ পাশের পর এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল। শর্মা তখন জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এমন একটি আইন আনার চেষ্টা করবে যা ইউসিসি-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। চলতি মাসের ২৫ তারিখে এটি বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
❤ Support Us






