Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২২, ২০২৫

অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রাপ্তবয়স্কদের আধার কার্ড দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আসাম সরকারের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রাপ্তবয়স্কদের আধার কার্ড দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আসাম সরকারের

১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের নতুন করে আধার কার্ড দেওয়া হবে না। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসাম সরকার। অবৈধ অভিবাসন রোধে এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে তফশিলী জাতি, উপজাতি এবং চা বাগানের উপজাতিদের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কয়নাধোরার রাজ্য অতিথি ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই ১৮ বছর বেশি বয়সীদের নতুন আধার কার্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি, তারা আর আসামে আধার কার্ড পাবে না। শুধুমাত্র এসসি, এসটি এবং চা বাগানের উপজাতিদের জন্য এক বছরের জন্য আধার কার্ড দেওয়া হবে। যারা এখনও আবেদন করেনি, তাদের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা করতে হবে। একমাসের জন্য আবেদনের সুযোগ থাকবে। এরপর ব্যতিক্রমগুলি কেবলমাত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন জেলা প্রশাসকই দেবে।’‌ ‌
আধার হল বায়োমেট্রিকভিত্তিক সনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যা গোটা দেশ জুড়ে বসবাস এবং নাগরিকত্বের প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ রোধ করার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে আসাম সরকার। আসামের রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ থেকে আগত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়াসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের সন্দেহে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের কর্তাদের দাবি, অবৈধ অভিবাসীরা ভারতে তাদের অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার জন্য আধার ব্যবহার করছে। যার ফলে সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। সরকারের যুক্তি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আধার ইস্যু সীমিত করে অবৈধ অভিবাসী সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার ত্রুটি দূর করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ধুবড়ি জেলার কিছু অংশে বাংলাদেশপন্থী মনোভাব উস্কে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘‌আমাদের চিকেন নেক অঞ্চলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সেখানে বসতি স্থাপনকারী বেশিরভাগ মানুষ মূলত বাংলাদেশ থেকে এসেছিল। এখন এই অঞ্চলের অনেকেই বাংলাদেশপন্থী মনোভাব তৈরি করতে বাসিন্দাদের উস্কে দিচ্ছে। এই ধরনের প্রচেষ্টা ভারতের সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোরের জন্য হুমকিস্বরূপ।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!