- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- এপ্রিল ১৮, ২০২৫
ইয়েমেনের তেল বন্দরে মার্কিন বিমান হামলা। কমপক্ষে নিহত ৩৮, আহত বহু। পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুমকি হুথি গোষ্ঠীর
ইয়েমেনের রাস ইসা তেল বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সর্বশেষ বিমান হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরো ১০২ জন। এই হামলাকে ইয়েমেনে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আল মাসিরাহ টিভির খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানের চালানো হামলায় ১০২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বন্দর এলাকার কর্মচারী। নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৮ জন।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, হুথি বিদ্রোহীদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যাতে তাদের সামরিক কার্যক্রম দুর্বল করা যায়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের আক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইয়েমেনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ‘এই হামলার লক্ষ্য ছিল হুথিদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করা।’ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক মানুষ, জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ইয়েমেনি রেড ক্রিসেন্ট ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসা সহায়তা ও অগ্নি নির্বাপণের কাজ শুরু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় আরও ২৪৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ আল-আততাব ইয়েমেনের রাজধানী সানায় থেকে জানিয়েছেন, মার্কিন বিমান হামলা বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়, তবে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে বন্দর এলাকার আশেপাশে। জানা যাচ্ছে, রাস ইসা তেল বন্দরে কর্মীদের কাজ চলাকালীনই ৪ টি মার্কিন বিমান বোমা আক্রমণ চালায়। তেল গাড়ির চালকরাও যারা সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্যানুযায়ী, রাস ইসা, হোদেইদা ও আস-সালিফ ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। দেশটির আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ এবং মানবিক সহায়তার ৮০ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়।অতর্কিত বিমান হামলায় ইয়েমেন জুড়ে এই হামলার ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই হামলা হুথিদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন অভিযানের মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা। পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত মার্চ মাসে দুদিন ধরে চালানো মার্কিন হামলায় ৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুথি কর্মকর্তারা।
এই ভয়াবহ হামলার পরও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না হুথি যোদ্ধারা। হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসের আল-আতিফি ঘোষণা করেছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন চলতে থাকলে তারাও তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। শুক্রবার সকালে, এই বিধ্বংসী মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে, হুথিরা ১০০টিরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেগুলির ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সুন্নি মুসলিম প্রধান সরকার শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের দমনে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও রাজধানী সানা ও তার উত্তরের বহু অঞ্চল এখনো হুথিদের দখলে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইরান ছাড়াও লেবাননের শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ থেকে হুথিরা অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা পাচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে হুথি বাহিনী ইজরায়েলের উপর ‘প্যালেস্টাইন-২’ নামে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র -যার গতি শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তারও বেশি- বলে উল্লেখ করা হয়, তা দিয়ে হামলা চালায়। জাতিসংঘের মতে, গত এরক দশকের যুদ্ধে ইয়েমেনে ১৫০,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গৃহযুদ্ধ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের যুদ্ধের কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে দেশটি। স্বাস্থ্যপরিষেবা ভেঙে পড়েছে। দুর্ভিক্ষ আর চিকিৎসার অভাবে আরো ২,২৭,০০০ এরও বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
❤ Support Us






