Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ২১, ২০২৩

দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।বিধায়ক পদেও ইস্তফার ইঙ্গিত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।বিধায়ক পদেও ইস্তফার ইঙ্গিত

“প্রিয় বলাগড়বাসী জনগন ও জেলা সহ তৃনমুল কংগ্রেস নেতৃত্বকে এই পোষ্টের মাধ‍্যমে জানাই,
আমাকে দল দুটি পদ প্রদান করেছিল

(1) 2023 পঞ্চায়েত নির্বাচন কমিটির সদস‍্য, হুগলী জেলা ( জোনাল 6)

( 2 ) সাধারন সম্পাদক পশ্চিম বঙ্গ রাজ‍্য তৃনমুল কংগ্রেস কমিটি,

উক্ত দুটি দলীয় পদ থেকে ব‍্যক্তিগত কারনে পদত‍্যাগ করলাম।

বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেবার ইচ্ছা ছিল কিন্তু যে হেতু আগে আমি একটি চাকরি করতাম, নির্বাচনে দাঁড়াবার জন‍্য সেটি ছাড়তে হয়েছিল! দু বছরের অধিক সময় হয়ে গেল পঞ্চাশ বার ছোটাছুটি করেও যার পেনশন ও গ্রাচুইটির কিছু পাইনি, তাই এই মুহূর্তে বিধায়ক পদ ছাড়তে পারছি না। তা হলে খাবো কী?
যেদিন পেনশন পেতে আরম্ভ করবো এই পদ থেকেও সরে দাঁড়াব।

এতদিনে বুঝতে পেরেছি এই রাজনীতি আমার মতো মানুষের জন‍্য নয়।

সবাইকে ধন্যবাদ ও নমস্কার।”

এই পোস্টটি ফেসবুকে যিনি করেছেন, তিনি হলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তিনি সোশাল মিডিয়ায় এই ঘোষণা করে দলের দুটো পদ ছেড়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছে, চাকরি ছাড়ার ২ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি পেনশন, গ্যাচুইটির টাকা পাননি, তাই পেটের দায়ে এখনই বলাগড়ের বিধায়ক পদ ছাড়তে পাড়ছেন না, চাকরি ছেড়েছিলেন বিধায়ক হওয়ার জন্য। তবে তিনি তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে স্বীকার করেছেন, “এতদিনে বুঝতে পেরেছি এই রাজনীতি আমার মতো মানুষের জন‍্য নয়।”

এর আগে গত ১৯ জুন মনোরঞ্জন ব্যাপারী তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরও একটি পোস্ট করেছিলেন, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে তারই দল তৃণমূলের ব্লক সভাপতির অভিযোগের জবাব তিনি দিয়েছিলেন। ওই পোস্টে মনোরঞ্জন ব্যাপারী লিখেছিলেন, “আজ টিভিতে সংবাদ পরিবেশন হচ্ছে আমি নাকি টাকার বিনিময়ে পঞ্চায়েত প্রার্থীকে নির্বাচনে টিকিট দিচ্ছি। এই অভিযোগ এনেছে সেই ব্লক সভাপতি যে নিজে কয়েকদিন আগে চাকরি দেবার কথা বলে লোকের কাছ থেকে টাকা নেবার অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে নাক কান মুলে সেই টাকা ফেরত দিয়েছেন। ফেরত দিতে আমি বাধ‍্য করেছি। এক প্রমাণিত চোর আমার গায়ে কাদা ছেটাচ্ছে। এরচেয়ে অবাক ব‍্যাপার আর কী হয়।

বলাগড় ব্লকে সর্বমোট পঞ্চায়েত সিট ২২৪, আমি তার মধ‍্যে পেয়েছি ১০৯ টি টিকিট। বাকি সব টিকিট পেয়েছে ওই ব্লক সভাপতি। যার নামে বলাগড়ের আকাশে বাতাসে ভাসছে টাকা নিয়ে পঞ্চায়েতে প্রার্থী টিকিট বিক্রির গল্প।
আমি যে টিকিট পেয়েছি কাল সেই টিকিট প্রার্থীদের হাতে তুলে দেব। আমি চ‍্যালেঞ্জ করছি যে কেউ এসে তাদের কারো মুখ থেকে যদি বলাতে পারেন কারো কাছ থেকে আমি পাঁচ পয়সা নিয়েছি আমি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেব!

আর কেউ যদি প্রমন চান ব্লক সভাপতি কত বড়ো চোর আমার কাছে তার অনেক প্রমাণ আছে। নিজের চোখে দেখে যেতে পারেন।”

আমরা মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ২১/৬/২০২৩ এর এবং ১৯/৬/২০২৩ এর দুটো ফেসবুক পোস্টই পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম। এই ফেসবুক পোস্টের নির্যাস হচ্ছে, বিরোধীরা নয়, তৃণমূল বিধায়কই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনছেন, বলছেন, “এতদিনে বুঝতে পেরেছি এই রাজনীতি আমার মতো মানুষের জন‍্য নয়।”
৭ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নব জোয়ার যাত্রায় বকাগড় এলে তাঁকে স্বাগত জানান বলাগড়ের এই বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। সেটাও তিনি ফেসবুকেই লিখেছিলেন। তবে আজ তিনি দলের পদ ছেড়ে বিধায়ক পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন।

এর ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে তৃণমূল যে অস্বস্তিতে পড়ল সেটা স্পষ্ট।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!