Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • মার্চ ২৬, ২০২৬

পদ্মায় মর্মান্তিক বাসডুবি, মৃত ২৪

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পদ্মায় মর্মান্তিক বাসডুবি, মৃত ২৪

পদ্মার জল থেকে একের পর এক নিথর দেহ উঠে আসছে, আর তীরে ভিড় জমাচ্ছে উৎকণ্ঠিত স্বজনেরা। বাংলাদেশের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকাগামী বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৪। এখনো চলছে তল্লাশি। ঠিক কত জন যাত্রী বাসটির সঙ্গে নদীতে তলিয়ে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রশাসনের দাবি, আপাতত কোনো পরিবার নিখোঁজ সদস্যের অভিযোগ জানায়নি বটে, তবুও উদ্ধার অভিযান জারি থাকবে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল যাত্রীবোঝাই বাসটি। তাতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন, যদিও বাসটির আসনসংখ্যা মাত্র ৪০। ফলে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল বলেই প্রাথমিক অনুমান। বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার কিছু আগে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল বাসটি। ঠিক সেই সময়েই ঘটে বিপর্যয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আচমকা একটি বিশালাকার ফেরি এসে সজোরে ধাক্কা মারে। সেই ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে বাসটি। চালক স্টিয়ারিং সামলাতে না পেরে মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীবোঝাই বাসটি সোজা পদ্মার জলে তলিয়ে যায়। চারদিক তখন হইচই, আতঙ্ক আর অসহায় চিৎকারে ভরে ওঠে। কেউ কেউ বাস থেকে নেমে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রাণে বাঁচেন, কিন্তু বাসের ভিতরে থাকা বহু যাত্রী বেরোতেই পারেননি।

দুর্ঘটনার পরই শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ। পুলিশ, দমকল, কোস্টগার্ড, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী— সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নামানো হয় ডুবুরি। কিন্তু প্রবল স্রোত, খারাপ আবহাওয়া এবং রাতের অন্ধকার বার বার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় ৬ ঘণ্টার চেষ্টার পর গভীর রাতে ক্রেনের সাহায্যে নদীর প্রায় ৬০ ফুট নীচ থেকে বাসটিকে তুলে আনা সম্ভব হয়। তারপরই স্পষ্ট হতে থাকে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। এ পর্যন্ত ২৪টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রশাসন। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা ও পাঁচ শিশু রয়েছে। অধিকাংশ দেহই বাসের ভিতর থেকে পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট,  অনেকেই বেরোতে না পেরে ভিতরেই আটকে পড়েছিলেন।

প্রাথমিক রিপোর্টে ২৩ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও, পরে উদ্ধার হওয়া দেহের সংখ্যা বেড়ে ২৪-এ পৌঁছয়। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।  দমকলের আধিকারিক সোহেল রানা জানান, বাসটি তোলার আগেই ডুবুরিরা দুই মহিলার দেহ উদ্ধার করেন, যাঁদের বয়স পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে। পরে বাস তোলার পর বাকি দেহগুলি পাওয়া যায়। এখনো নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিক রাসেল মোল্লা জানিয়েছেন, কয়েক জন যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠেছেন। তবে ঠিক কত জন নিখোঁজ, তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সকাল হতেই ফের জোরকদমে শুরু হয়েছে তল্লাশি। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন। তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে প্রাথমিক ভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। কেন ফেরিটি পন্টুনে ধাক্কা মারল? চালক কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারালেন? নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ফাঁক ছিল?— একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!