- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ২২, ২০২৪
বাংলাদেশ অনেকটাই শান্ত , তিন ঘণ্টার জন্য শিথিল কার্ফু , মমতার সুচিন্তিত মন্তব্যে খুশি সব পক্ষ। ফিরলেন , ৪৫০০ ভারতীয় ছাত্র
বাংলাদেশ আপাতত অনেকটাই শান্ত । কার্ফু চলছে, দুপুরে তিন ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হবে। কোটা বিরোধী ছাত্ররা সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে বলেছে , যে সব ছাত্রকে আটক করা হয়েছে, তাদের মুক্তি দিতে হবে, ছাত্র-হত্যার সঙ্গে জড়িতদেরও শাস্তি দাবি করেছে তারা। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিল করে বলেছে, ৭ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিল করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান সন্ততির জন্য ৫ শতাংশ এবং অনগ্রসর জনজাতির জন্য ১ শতাংশ। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরই বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের মারমুখী আন্দোলন থমকে যায়। সরকার অবিলম্বে উচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করতে তৎপর হয়ে ওঠে। দু একদিণের মধ্যে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। রাস্তা ছেড়ে হলে ফিরবে ছাত্ররা।
বাংলাদেশ গুজবে ছেয়ে আছে। নিহত আর আহত ছাত্রদের সংখ্যা অতিরঞ্জিত হয়ে বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ১৩৯। সরকার পক্ষ কিছুই বলেনি। ছাত্রদের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ১৯৫২ সাল থেকে , ৬০ দশকের ছাত্র আন্দোলন , পর পর সামরিক শাসন, সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র যুব আন্দোলনে , কয়েকদিনের ঘটনায় এত ছাত্রের মৃত্যু হয়নি। ৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধে নিহত ছাত্রদের সংখ্যা অনেক বেশি । সে কথা কেউ বলছেনা। এবারের হিংসাত্মক ঘটনার পেছনে জামাত ও বি এন পি-র উস্কানিকে দায়ী করেছে সরকার। কোটা বিরোধী আন্দোলনের শুরুতেই ‘আরম্ভ’ বলেছিল, বিরোধীরা সুযোগ নেবে। আড়াল থেকে উসকানি দিতে থাকবে এবং ছাত্র আন্দোলন সর্বাত্মক চেহারা নিতে পারে। এ আশঙ্কা অমূলক নয়, তা প্রমাণিত হয়ে গেল। বাংলাদেশের ঘরোয়া বিষয় নিয়ে আমেরিকার নাক-গলানো, আগ-বাড়িয়ে , উপদেশকে সুনজরে দেখে নি বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনশক্তি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার, ২১ শের সমাবেশে যে সৌজন্য , যে বিচক্ষণতা ব্যক্ত করেছেন , তা অবশ্যই অনুকরণযোগ্য। মমতা বলেছেন, বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে আমরা কোনও মন্তব্য করতে পারিনা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা করতে এসে যাঁরা আটকা পড়েছেন , তাদের পাশে আমরা থাকব। ভারত সতর্ক নজর রেখেছে । মন্তব্য করেনি। দিল্লির একাংশ অনুপ্রবেশের ভয় ব্যক্ত করেছেন। সে ভয়কে প্রকারান্তরে নাকচ করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেউ যদি আমাদের দরজায় খট খট করে , আমরা কি চুপ করে বসে থাকব ?
বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন সাড়ে চার হাজার পড়ুয়া। ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপও তাদের ছাত্রদের ফিরিয়ে এনেছে। নিঃসন্দেহে এটা অস্থায়ী প্রক্রিয়া । বাংলাদেশে শান্তি ফিরবে । ফিরলেই আবার পড়তে যাবেন বিদেশি পড়ুয়ারা। দ্বিতীয়ত হিংসাত্মক ঘটনা প্রবাহের আড়ালের ষড়যন্ত্রী আর সন্ত্রাসীদের মুখোসও খুলে পড়বে।
❤ Support Us






