Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জুন ২৫, ২০২৫

বাংলাদেশে জামাত-এর প্রত্যাবর্তন, প্রতীক-সহ নিবন্ধন পুনর্বহাল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশে জামাত-এর প্রত্যাবর্তন, প্রতীক-সহ নিবন্ধন পুনর্বহাল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চমকপ্রদ মোড়। বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ইসলামপন্থী দল জামাত-এ-ইসলামীর ভোট ময়দানে পুনরাবির্ভাব ঘটল। মঙ্গলবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করে, দলটির নিবন্ধনে পুনরায় বৈধতা দিয়েছে । একই সঙ্গে দলটি ফিরে পেয়েছে তাদের পুরনো নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের ২০১৩ সালের সেই রায় বাতিল করেছে, যার ভিত্তিতে জামাত-এর নিবন্ধন খারিজ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে পুনরায় দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক বহাল করা হলো।সেদেশের নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেনের সই করা এই নির্দেশনামা মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৭১, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে লাখো আত্মবলিদানের পর তৈরি হয়েছিল বাঙালির নতুন রাষ্ট্র। সে যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সমর্থক ছিল জামাত। খুন, হামলা, যৌন নির্যাতন, অবৈধ সম্পত্তি দখল সহ একাধিক যুদ্ধকালীন অপরাধে অভিযুক্ত বহু জামাত নেতার বিচারও হয়েছে পরবর্তী সময়ে। সেই জামাত-এ-ইসলামির বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কের ঝড়। ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায় তারা। অবশ্য পরের বছরই ২০০৯ সালে সে দেশের হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন বাতিল করে দেয় দলের নিবন্ধন। গত বছর আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারায় আওয়ামি লীগ। ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াত-এ-ইসলামী ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়। বাংলাদেশের শীর্ষ বিচারালয়ের আপিল বিভাগ গত ১ জুন এই মামলায় রায় ঘোষণা করেন।বৈধ করা হয় জামাতে ইসলামীর নিবন্ধন। একই সঙ্গে দলের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ভার দেয় নির্বাচন কমিশনের উপর। আদালতের নির্দেশ মেনে গত ৪ জুন বৈঠক করে বাংলাদেশের নির্বাচন সিদ্ধান্ত নেয়, জামায়াতের নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরত দেওয়া হবে। সেইমত মঙ্গলবার জামাত-এ-ইসলামীর নিবন্ধন পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা আবার জাতীয় রাজনীতিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারবে।

লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতেই সেদেশে নির্বাচন হতে পারে। খালেদা জিয়ার দল অবশ্য বাংলাদেশের নির্বাচন আরও দ্রুত করার বিষয়ে আগ্রহী ।

তবে এখানেই শেষ নয়। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট, ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জামাত-এ- ইসলামী ও এর ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেদেশে হাসিনার সরকার পতনের পর, অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেয়। এরপর জামাত রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছিল। এবার তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর হলো।

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের নেতৃত্বে গড়া দল জামাত-ই-ইসলামির প্রায় এক দশক পর রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন, আইনি বৈধতা ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার ঘটনা শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, বাংলাদেশের জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকের প্রশ্ন, ইতিহাসের দায় কি এবার চাপা পড়ে যাবে ভোটের অঙ্কে ? নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত দেশে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের একাংশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!