- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা, অংশগ্রহণ করতে পারবে আওয়ামী লীগ?
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশের ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর, ক্ষমতাসীন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দিন ঘনিয়ে এলো। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠিত হবে। শুরু হবে পার্লামেন্টের কার্যকলাপ। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসন্ন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন তাঁর ভাষণে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এবার পৃথিবীকে দেখিয়ে দেবে, কীভাবে একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ এছাড়া তিনি জনগণকে মিথ্যা তথ্য এবং গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, গুজব এবং মিথ্যা সংবাদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বড়ো বাধা হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখেরও বেশি। ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণের আয়োজন করা হবে, যাতে দেশব্যাপী সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী ভোটাররা ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি, ২০২৬। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যে কোনো আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন যদি এই সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তবে এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড়ো মাইলফলক হতে পারে। তবে, প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করছেন তাঁরা। তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে। কার্যকলাপ ‘নিষিদ্ধ’ হওয়া শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না। সম্প্রতি ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুজিবকন্যাকে ‘জুলাই-আগস্ট’ আন্দোলনে মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের কন্য মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। এর আগে তাঁর দল ও ছাত্রশাখা নিষিদ্ধ হয়েছে দেশে। বর্তমানে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী নেত্রী কী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে দলকে অংশগ্রহণ করাতে পারবেন? সে সম্ভাবনা ক্ষীণ। আর তা যদি না হয়, তবে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না শেখ মুজিবের ঐতিহ্য বহনকারী আওয়ামী লীগ। জানা যাচ্ছে, এই নির্বাচনে শুধু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোই দলের প্রতীকে অংশগ্রহণ করতে পারবে। বর্তমানে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলগুলোর সংখ্যা ৫৬টি, তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে, তাই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। অন্য সব নিবন্ধিত দলই নির্বাচন কমিশনের আওতায় নির্বাচনে অংশ নেবে। এছাড়া, যেকোনো যোগ্য ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
ইতিমধ্যেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সহিংসতার খবর আসছে। গতকালই ১২৫টি আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিগ পার্টি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও অন্যান্য দলগুলো এখন থেকেই ভোট প্রচার শুরু করেছে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি জানাচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র কিছু দিন বাকি থাকায় রাজনৈতিক দলের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। এসবের মাঝেই প্রশাসনিক স্তরে নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজও এখন তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন দৃঢ়ভাবে আশা করছে যে, সবার সহযোগিতায় বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ‘অভ্যুত্থান’-এ শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। ১৬ মাস দায়িত্বে থাকার পর, গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত করার ঘোষণা করেছেন। এরপর, ৬ জুন, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তবে জুলাই মাসে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন হবে।
❤ Support Us






